রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধ, জেলেনস্কিকে সরিয়ে ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব আনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১০ অক্টোবর) একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
এর এক দিন আগে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এ নিয়ে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের অন্যতম কঠোর সমালোচনায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ডিজেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে শনিবার ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ হামলার যোগসূত্র রয়েছে। ওই হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমি মনে করি, ইউক্রেনে একজন নতুন প্রেসিডেন্ট আনার সময় এসেছে।" রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালিয়ে জেলেনস্কি বিশ্বব্যাপী ডিজেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, "রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেলের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে। অথচ জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে ডিজেলের সংকট তৈরি করছেন। এর মাধ্যমে তিনি আমাদের কৃষক ও খামারিদের সমস্যায় ফেলতে চাইছেন।"
এর আগে শনিবার জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের চুক্তি নিয়ে শুক্রবার ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে মস্কো আরও উৎসাহিত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে আন্তরিক আলোচনায় বসাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
এদিকে শনিবার রাশিয়ার সরকার জানিয়েছে, ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি কটাক্ষ করে বলেছেন, "ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য রাশিয়া আজ জাপোরিঝঝিয়া শহরের আবাসিক ভবনগুলোতে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে ধন্যবাদ জানিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত রাতের ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রাশিয়া মনে করে তাদের ওপর চাপ কিছুটা কমানো হলেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং শহরগুলোতে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই রাশিয়াকে ভিন্ন বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।"
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় নিয়মিত রুশ বোমা হামলা চলছে। গত কয়েক মাসে শহরটিতে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে।
শনিবার জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় নিহতদের মধ্যে ছয় বছরের এক শিশুও রয়েছে। একটি হামলায় বহুতল আবাসিক ভবনের একাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর একটি সাদা ব্যাগে ভরে মাটিতে রাখেন। পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার দাদা আনাতোলি চুমনি।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "এই মাসের শেষেই ওর জন্মদিন ছিল।"
বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে রুশ হামলায় প্রায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ক্রামাতোরস্কে বোমা হামলায় অন্তত ৩০ জন এবং রাজধানী কিয়েভ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পূর্বে প্রিলুকি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ২২ জন নিহত হন।
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির সমালোচনা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারাও। তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেকনও রয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বদলে দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস সম্প্রতি যে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো অনুমোদন করেছে, সেগুলো কার্যকর করার সময় এসেছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম। কারণ, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো হামলার শিকার না হলে দেশটি সাধারণত যে পরিমাণ ডিজেল রপ্তানি করে, চুক্তির আওতায় সরবরাহের পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম।
