সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাইতে বলল দক্ষিণ কোরিয়া, জবাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম জং উন
শনিবার উত্তর কোরিয়া সমুদ্রের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। এর এক দিন আগে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল দেশটির পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওয়নসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। এটি পূর্ব সাগরের দিকে উড়ে যায়, যেটিকে জাপান সাগরও বলা হয়, এবং ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রটির বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
জাপানের কোস্টগার্ড প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বস্তুটি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে থাকতে পারে এবং এটি সমুদ্রে পড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জাহাজগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া আরও কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য তারা নজরদারি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পরিস্থিতি মূল্যায়নে জরুরি বৈঠক করেছে।
এর এক দিন আগে, শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং একটি বিবৃতি দেন। এতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি ছিল, দুই কোরিয়ার মধ্যকার ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত অসামরিকীকৃত এলাকায় উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে তাদের সেনারা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী এই এলাকাটি কঠোরভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি বাফার অঞ্চল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ংকে আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর এক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার কাছে ওই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল।
এর জবাবে কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে 'সত্যিই নিকৃষ্ট' বলে অভিহিত করেন এবং লি জে মিয়ংয়ের সর্বশেষ আলোচনার প্রস্তাবকে উপহাস করেন। তিনি এটিকে 'এমন প্রহসনের চূড়ান্ত পর্যায়, যা সবার দেখা উচিত' বলে মন্তব্য করেন।
কিম ইয়ো জং আরও সতর্ক করে বলেছিলেন, মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়া যে পদক্ষেপই নিক না কেন, পিয়ংইয়ং 'যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত'।
এর পরের সকালেই উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে।
দক্ষিণ কোরিয়া চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত ওই বাফার অঞ্চলের ভেতরে একটি গোয়েন্দা অভিযানে থাকা তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা যে বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন, সেটি উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে ঘটেছে।
সিউলের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র সেজং ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিওং সিয়ং-চ্যাং বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষা সম্ভবত কিম ইয়ো জংয়ের বিবৃতির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া আদায়ের জন্য পিয়ংইয়ংয়ের একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া হয়তো নতুন ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষা করে থাকতে পারে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ১০টিরও বেশি সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
এর মধ্যে কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ জানানোর পর।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া তার বৈরিতা আরও বাড়িয়েছে। দেশটি দুই কোরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণকে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে অস্বীকার করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের 'প্রধান শত্রু' হিসেবে অভিহিত করেছে।
