পানিতে উল্টে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধজাহাজটি ফের যুক্ত হলো উত্তর কোরিয়ার বহরে
উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে কিম জং উন সমুদ্রে তার দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, 'ক্যাং কন' নামের ৫ হাজার টন ওজনের এই নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজটি একই শ্রেণির দ্বিতীয় জাহাজ। এটি প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রও বহন করতে পারে।
তবে জাহাজটি প্রথমবার পানিতে নামানোর সময় উল্টে যাওয়ার এক বছর পর উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
সে সময় কিম জং উন ব্যর্থ ওই ঘটনাকে একটি 'অপরাধমূলক কাজ' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা তার দেশের 'মর্যাদা' ক্ষুণ্ন করেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সোমবার কিম জং উন বলেন, জাহাজটি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হবে এবং এটি 'ধ্বংসাত্মক পাল্টা হামলা' চালাতে সক্ষম হবে।
উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠী দাবি করেছে, জুলাই মাসে 'ক্যাং কন' থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
'ক্যাং কন' হলো উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া একই শ্রেণির দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ। এর আগে জুন মাসে 'চোয়ে হিয়ন' নামের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়, যার ওজনও ৫ হাজার টন এবং এটিও পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম।
সর্বশেষ এই যুদ্ধজাহাজটির সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এতে 'চোয়ে হিয়ন'-এর মতো একই ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। 'চোয়ে হিয়ন'-এ ভূমি থেকে ভূমিতে এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ৮৮টি উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম।
নতুন যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার ঘটনা আরও একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কিম জং উন তার দেশের নৌবাহিনী আধুনিকায়নের দিকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর আগে বহু বছর ধরে তিনি মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছিলেন।
জাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিম স্বীকার করেন, এর আগে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধজাহাজের ঘাটতি ছিল।
তবে তিনি বলেন, 'ক্যাং কন' নৌবাহিনীর জন্য 'এক নতুন উদ্দীপনাময় স্বর্ণযুগের' সূচনা করবে এবং নজিরবিহীনভাবে নৌবাহিনীর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
কিম বলেন, 'শত্রুদের উদ্বেগ অবশ্যই আরও গভীর হবে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের অবশ্যই একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে আমাদের বিভিন্ন ও কার্যকর পারমাণবিক যুদ্ধব্যবস্থার ব্যবহার বাস্তবায়ন করা যায় এবং সমুদ্র প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য আমাদের সামরিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা যায়।'
কিম স্বীকার করেন, কয়েক বছর আগ পর্যন্ত তার দেশের নৌবাহিনীতে প্রয়োজনীয় যুদ্ধজাহাজের ঘাটতি ছিল। এর আগে বহু বছর ধরে উত্তর কোরিয়া আন্তমহাদেশীয় ও অন্যান্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই যুদ্ধজাহাজের অস্ত্র ও রাডার ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়ার আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়াবে।
কিম আরও বলেন, তার দেশের নৌবাহিনীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সামনে রয়েছে, যা আগামী আট মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
তিনি সম্ভবত একটি নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত হামলাকারী ডুবোজাহাজের কথা বলেছেন। গত ডিসেম্বরে কিমকে এমন একটি ডুবোজাহাজ পরিদর্শন করতে দেখা গিয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, আকারের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হামলাকারী ডুবোজাহাজগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।
জাহাজটি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে কিম জং উনের সঙ্গে তার কিশোরী মেয়ে ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি কিম জু-এ উপস্থিত ছিল। তার পরনে ছিল সম্পূর্ণ সাদা পোশাক।
সে তার বাবার সঙ্গে লালগালিচা ধরে জাহাজটির দিকে এগিয়ে যায় এবং কিম যখন তার সেনাদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, কিম জং উন জু-একে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন বলে মনে হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।
গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, এসব মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতি 'সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী' বার্তা পাঠাচ্ছে।
তবে কিম জং উনের বোন ও উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং বলেন, মহড়ার পরিসর কমানো হলেও এর 'উসকানিমূলক ও আগ্রাসী প্রকৃতি' বদলাবে না।
ট্রাম্পের ওই অবস্থান সত্ত্বেও সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আরেকটি সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়ায় বড় আকারের নৌ ও আকাশ সামরিক ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে।
