হিন্দু সংগঠনের সফরে নারী কর্মীদের আড়ালে থাকার নির্দেশ: পদ ছাড়ছেন আইফেল টাওয়ারের প্রধান
প্যারিসের আইফেল টাওয়ার পরিচালনা পর্ষদের প্রধান পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। হিন্দু ধর্মীয় একটি সংগঠনের পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের আড়ালে থাকার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে বিতর্কের ঘটনার পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন।
আইফেল টাওয়ার অপারেটিং কোম্পানি (সেতে) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্যাট্রিক ব্রাঙ্কো রুইভো চলতি বছরের শেষদিকে তার পদ ছেড়ে দেবেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে (৫ সেপ্টেম্বর) 'বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা'-র (বিএপিএস) পরিদর্শনের সময় কেন নারী কর্মীদের আড়ালে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পরই এমন সিদ্ধান্ত এলো। ওই নির্দেশনার ফলে কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এক বিবৃতিতে সেতে জানায়, 'তদন্তে অফিসিয়াল সফর পরিকল্পনা ও ৫ সেপ্টেম্বরের পরিদর্শনের আয়োজনে ধারাবাহিক কিছু সমস্যা ও ত্রুটি উন্মোচিত হয়েছে, যার ফলে পরিদর্শনের দিন নারী কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছিল।' সংস্থাটি আরও জানায়, 'এটি একটি অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।'
নারী কর্মীদের আড়াল করার এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মীরা একদিনের কর্মবিরতি পালন করেন, যার ফলে স্থাপনাটি বন্ধ রাখতে হয়। সে সময় এক বিবৃতিতে টাওয়ারের কর্মচারীরা এমন কর্মক্ষেত্র নীতির নিন্দা জানান, যেটির মাধ্যমে কেবল লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে নারী কর্মীদের আলাদা করা হয়েছে, তাদের বদলে পুরুষ সহকর্মীদের আনা হয়েছে এবং তাদেরকে আড়ালে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তারা জানান, 'অনেককে নিজে দায়িত্ব পালন ছেড়ে আলাদা কক্ষে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের স্থানে পুরুষ কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। প্রতিনিধিদলটি উপস্থিত থাকাকালীন সকল নারী কর্মীকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যাতায়াত বা প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।'
কর্মচারীরা জানান, সমতা ও বৈষম্যহীনতার মূলনীতির সাথে "সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী" একটি পরিস্থিতিতে নিজেদের দেখে তারা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। তারা আরও জানান, 'আইফেল টাওয়ার হলো ফ্রান্সের প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি, এর প্রচারিত আদর্শ এবং কর্মীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রেও এটিকে দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে।'
সেতে জানায়, 'বিএপিএস প্রতিনিধিদলটি নারীদের সাথে যোগাযোগ বা মিথস্ক্রিয়া সীমিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। সংস্থাটি আরও বলে, 'এই শর্তগুলো গ্রহণ করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে। ঘটনার কারণে সৃষ্ট অস্বস্তির জন্য বিএপিএস পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।'
প্যারিসের এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সিটি হলও ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্রের মূল নীতি 'সমতা' বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
প্যারিসের পূর্বে বুসি-সেন্ট-জর্জে তাদের প্রথম ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত উদযাপনের অংশ হিসেবে বিএপিএস-এর সদস্যরা আইফেল টাওয়ার পরিদর্শন করেন। সংগঠনটি একটি রক্ষণশীল হিন্দু ধারা অনুশীলন করে।
সংগঠনটি জানায়, তাদের ৯৩ বছর বয়সী আধ্যাত্মিক নেতা মহন্ত স্বামী মহারাজসহ বেশ কয়েকজন সন্ন্যাসী উপস্থিত থাকায় তারা এ অনুরোধ করেন। কারণ তাদের অনুশাসন অনুযায়ী নারীদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ।
ব্রাঙ্কো রুইভো ফ্রান্সের রাজনীতি ও প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের সাবেক সূতিকাগার প্রতিষ্ঠান 'ইকোল ন্যাশনাল দ্য আডমিনিস্ট্রেশন' (এটি বর্তমানে বন্ধ)-এর একজন স্নাতক।
এছাড়া তিনি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন হিদালগোর জনসেবা আধুনিকীকরণ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তিনি সেতে-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন।
