ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে উচ্চপদে অংশগ্রহণ এখনও কম
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা বাড়লেও ঊর্ধ্বতন পদে তাদের অংশগ্রহণ এখনো তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময় শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৯৭১ জনে। আগের ছয় মাসের তুলনায় এ সংখ্যা ৯১০ জন বা ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ প্রকাশিত নারী-পুরুষ সমতাবিষয়ক অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময় শেষে ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৮১৮ জন। এর মধ্যে নারী ছিলেন ৩৫ হাজার ৯৭১ জন, যা মোট জনবলের ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
এর আগের ছয় মাস, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৬১ জন। সে হিসাবে ছয় মাসে নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে ৯১০ জন।
ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯৮ জন কর্মীর মধ্যে নারী ছিলেন ২৩ হাজার ৫২৪ জন, যা মোট জনবলের ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৪৭১ জন। এসব ব্যাংকের মোট জনবলের ১৭ দশমিক ০৬ শতাংশ নারী, যা বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় বেশি।
বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। নয়টি বিদেশি ব্যাংকে মোট ৯৩১ জন নারী কর্মরত রয়েছেন। তবে মোট জনবলের অনুপাতে এসব ব্যাংকেই নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি—২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।
উচ্চপদে নারীর অংশগ্রহণ এখনও কম
ব্যাংকিং খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা বাড়লেও উচ্চপদে তাদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকগুলোর বোর্ড সদস্যদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রারম্ভিক পর্যায়ের পদে এ হার ছিল ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং মধ্যবর্তী পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে উচ্চপদে নারীর অংশগ্রহণ ছিল মাত্র ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক তথ্যেও তরুণদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। ৩০ বছরের কম বয়সী কর্মীদের মধ্যে নারীর হার ছিল ২১ দশমিক ১০ শতাংশ। বিপরীতে ৫০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে এ হার ছিল ১১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকিং খাতে নারী কর্মীদের চাকরি ছাড়ার বা কর্মসংস্থান পরিবর্তনের (এমপ্লয়ি টার্নওভার) হার ছিল ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
নারী কর্মীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ
নারী কর্মীদের জন্য সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরিতে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব তফসিলি ব্যাংকেই নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া সব ব্যাংকেই যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক নীতি রয়েছে। ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৭টি ব্যাংক নারী কর্মীদের সন্তানদের জন্য নিজস্ব বা যৌথভাবে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পর নারী কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধায় ৩৬টি ব্যাংকের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি জানুয়ারি-জুন সময়ে ৪৯টি তফসিলি ব্যাংক লিঙ্গসমতা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও উচ্চপদে তাদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নারী কর্মীদের জন্য সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
