হরমুজে জাহাজে ইরানের হামলায় আহত হন ৮ মার্কিন মেরিন সেনা, তথ্য গোপন রাখে পেন্টাগন
হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন মার্কিন মেরিন সেনা আহত হয়েছেন। তিনটি মার্কিন সূত্রের বরাতে গত রবিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। এই হামলার ঘটনাটি ইতিপূর্বে গোপন রেখেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট এবং মাথায় আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে কনকাশনের শিকার হন ওই সেনারা। তবে তাদের ক্ষত গুরুতর ছিল না এবং চিকিৎসার পর আট সেনাই দ্রুত দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
আহত মেরিন সেনারা মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়মিত কোনো যুদ্ধজাহাজে ছিলেন না, তবে সেটি কোন ধরনের নৌযান ছিল তা কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেননি। পেন্টাগন এর আগে এই হামলা বা সেনা আহত হওয়ার কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।
এদিকে যুদ্ধে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়া বা কম করে দেখানোর বিষয়ে পেন্টাগনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নিহত অন্তত চারজন মার্কিন সেনার তথ্য পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক হতাহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এর পাশাপাশি আহত সেনাদের ক্ষতের তীব্রতা খাটো করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন সেনা জানান, কুয়েতে জরুরি অস্ত্রোপচার এবং বোমার স্প্লিন্টারের মারাত্মক জখমে ভোগা সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে তার আঘাত নাকি ছিল 'সামান্য'।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। তারা সিবিএসকে জানিয়েছে, 'মারাত্মক আহত নয়' বা 'যুদ্ধাহত'-এর মতো সামরিক পরিভাষাগুলোর নির্দিষ্ট দাপ্তরিক সংজ্ঞা রয়েছে, যা ভুলভাবে বোঝা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেনাদের সঠিক চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আঘাতের মাত্রা কমিয়ে দেখানোর দাবিটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
