ওয়াশিংটনে শি-ট্রাম্পের সমীকরণ: থুসিডাইডিস ফাঁদ এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সহাবস্থান কি সম্ভব?
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি হয়তো সবচেয়ে সহজ ও সরল: "থুসিডাইডিস ট্র্যাপ অতিক্রম করা সম্ভব।"
হোয়াইট হাউসের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দেওয়া শি জিনপিংয়ের ভাষণে উচ্চারিত এই একটি বাক্যই—যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস আর পারস্পরিক বন্ধুত্বের আড়ম্বরপূর্ণ বার্তার চেয়েও—এই শীর্ষ সম্মেলনকে বোঝার সবচেয়ে বড় যোগসূত্র।
বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো যুগান্তকারী সমাধানও আসেনি।
তবে সম্মেলনে যা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দুটি দেশের জন্যই একটি গঠনমূলক পথ তৈরি করে দিতে পারে: বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান দুটি শক্তিশালী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রকে একে অপরের জাতীয় সাফল্যকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের মূল ভিত্তি ও কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি এখন বদলে যাচ্ছে। চীন কীভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে বা তাকে কীভাবে সামলানো হবে—প্রশ্নটি এখন কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; কারণ সেই পরিবর্তনের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে।
এখন আরও কঠিন প্রশ্নটি হলো—ওয়াশিংটন ও বেইজিং কি তাদের কাঠামোগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে একে অপরের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সামলে নেওয়ার মতো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে? মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের সময়ও শি জিনপিং যে 'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ'-এর অবতারণা করেছিলেন, তার পেছনের মূল কারণ এটিই।
'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ' মূলত এমন এক ঐতিহাসিক ঝুঁকিকে নির্দেশ করে, যেখানে কোনো উদীয়মান বিশ্বশক্তি একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে; যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে ভয় ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং তা অবশেষে সংঘাতের রূপ নেয়। তাই শি জিনপিং কর্তৃক এই ধারণার পুনরুল্লেখ যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার পেছনে থাকা অন্তর্নিহিত কাঠামোগত সংকটকেই সরাসরি চিহ্নিত করে।
চীন তার প্রযুক্তিগত, শিল্পগত কিংবা ভূ-রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের দৌড় থেকে পিছু হটতে রাজি নয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা আমেরিকার শিল্প পুনর্জাগরণ, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শি জিনপিং যেমনটা বলেছেন: "চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ নিশ্চিত করা এবং আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) দুটো বিষয় একসাথে পাশাপাশি চলতে পারে।"
বেইজিংয়ের এই প্রস্তাবটি আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে, কারণ বিশ্বমঞ্চে চীনের অবস্থান এখন আমূল বদলে গেছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), ব্যাটারি, ড্রোন, টেলিকমিউনিকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স, রোবোটিক্স এবং দিন দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো খাতে চীনা কোম্পানিগুলো বিশ্বসেরা ও শীর্ষ রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বমানের উন্নত উৎপাদন খাতের জন্য অতীব জরুরি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও চীনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বা বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনের আগে বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ রপ্তানিতে বেইজিংয়ের কড়াকড়ির বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ ছিল স্পষ্ট; বিশেষ করে 'ইট্রিয়াম'-এর ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ পায়, যা মহাকাশযান ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্যই উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক এআই গবেষণা, বিশ্ব পুঁজিবাজার, বিশ্বমানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিশাল প্রাধান্য রয়েছে। ফলে উদ্ভূত নতুন বাস্তবতায় ভিন্ন কিন্তু অমিত শক্তির অধিকারী এই দুটি পরাশক্তির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সহাবস্থানের পথ খুঁজে নেওয়াই একমাত্র বিকল্প।
তবে কূটনৈতিক পর্যায়ের এমন সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কিছুটা সতর্ক থাকারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উষ্ণ কথাবার্তার পরই দ্রুত সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটার ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে।
নৈশভোজের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প যেভাবে ১৮৬৮ সালের বস্টনে আয়োজিত ঐতিহাসিক 'বার্লিংগেম মিশন'-এর কথা স্মরণ করেছিলেন, সেসময় মার্কিন নেতারা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিস্তার ও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের চাপে সেই উদার নীতি পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে এবং অবশেষে ১৮৮২ সালে কুখ্যাত 'চীনা বর্জন আইন' (চাইনিজ এক্সক্লুশন অ্যাক্ট) পাসের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে।
এই ইতিহাস থেকে বড় শিক্ষা হলো—সংস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি কোনো কূটনৈতিক সদ্বচ্ছাকে স্থায়ী রূপ না দিলে তা অত্যন্ত ভঙ্গুর প্রমাণিত হতে পারে। আর এ কারণেই এই ওয়াশিংটন শীর্ষ সম্মেলনের প্রকৃত পরীক্ষা নির্ভর করছে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের ওপর।
বাস্তবায়নের এমন একটি বড় পরীক্ষা ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দেখা দিতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের মধ্যকার প্রায় প্রতিটি বৈপরিত্য বা দ্বন্দ্বকেই প্রতিফলিত করে এই এআই। এটি একাধারে তীব্র প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক শক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বড় উদ্বেগের কারণ। আবার একই সাথে উন্নত এআই দ্বারা তৈরি হওয়া চরম ঝুঁকিগুলো কেবল নির্দিষ্ট দেশের সীমান্ত সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
শি জিনপিং বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দুই দেশের যৌথ দায়বদ্ধতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পরপরই দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মানুষের "কল্যাণের স্বার্থে" এআই বিকাশ ও পরিচালনা করা, একে সবসময় "মানুষের নিয়ন্ত্রণে" রাখা এবং এটি যেন জনকল্যাণ নিশ্চিত করে তা তদারকি করা।
শি জিনপিংয়ের এই বক্তব্যটি একটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে কারণ চীন তাদের অভ্যন্তরীণ এআই-গভর্নেন্স বা তদারকি কাঠামোকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চীনের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত 'ন্যাশনাল টেকনিক্যাল কমিটি ২৬০' নতুন 'এআই সেফটি গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক ৩.০' উন্মোচন করেছে।
নতুন এই কাঠামোর মূল জোর দেওয়া হয়েছে ঝুঁকি সচেতনতা এবং এআই-কে অবশ্যই নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখার নীতির ওপর। এই পুরো পরিচালন প্রক্রিয়াকে তিনটি প্রধান উপাদানে বিন্যস্ত করা হয়েছে: ঝুঁকি শ্রেণীকরণ, কারিগরি সমাধান এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক তদারকি ব্যবস্থা।
১৩০ পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ 'ফ্রেমওয়ার্ক ৩.০'-এ কেবল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রেই নয়, বরং এর প্রয়োগ, ব্যবহার এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্করণের ফলে তৈরি হওয়া ঝুঁকিগুলোকেও কভার করা হয়েছে। এতে বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য (হ্যাঁলুসিনেশন), ক্ষতিকারক সাইবার হামলা, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি, স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট, রোবোটিক বা এমবডিড এআই সিস্টেম, সামাজিক ও মানসিক নির্ভরতা, সম্পদ ও পরিবেশগত চাপ এবং বিপজ্জনক মারণাস্ত্রে এআই-এর অপব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্থান পেয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নীতির সাথে চীনের এই পদক্ষেপের পার্থক্যটি বেশ চোখে পড়ার মতো, যদিও একে বাড়িয়ে দেখা ঠিক হবে না। কারণ ওয়াশিংটনও তাদের জায়গা থেকে এআই সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো নিয়ে কাজ করছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উদ্ভাবনের গতি বাড়ানো, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ কমানো এবং বিশ্বের বুকে আমেরিকার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর। উদাহরণস্বরূপ, গত জুনে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে "অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার" বিরোধিতা করা হয়েছে এবং দ্রুতগতিতে এআই উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অথচ অন্যদিক দিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি খাত নিজেরাই এখন এই প্রযুক্তির ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে বারবার জরুরি সতর্কবার্তা জারি করছে—যা তারা নিজেরাও দ্রুত গতিতে উন্নত করতে মরিয়া। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা সংস্থা অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর প্রধান নির্বাহী স্পষ্ট ভাষায় এআই বিকাশের গতিকে কিছুটা "ধীর করার" আহ্বান জানিয়েছেন।
শক্তিশালী বাহ্যিক তদারকির দাবিতে বেশ কিছু গবেষক ইতিমধ্যেই শীর্ষস্থানীয় এআই ল্যাবরেটরিগুলো ছেড়েছেন। অন্যদিকে বাণিজ্যের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা বজায় থাকা সত্ত্বেও শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা প্রকাশ্যে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন।
চীনের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ধরনটি অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন: তারা চাইছে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, কিন্তু তা হতে হবে নিরবচ্ছিন্ন ঝুঁকি নিরূপণ, কারিগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকার-চালিত তদারকি কাঠামোর সমন্বয়ে। যদিও 'ফ্রেমওয়ার্ক ৩.০' কোনো বাধ্যতামূলক আইন নয়, এবং কেবল এটি প্রকাশের অর্থই এই নয় যে চীনের তৈরি এআই সিস্টেমগুলো রাতারাতি নিরাপদ হয়ে যাবে।
যদিও এই কাঠামোর ব্যাপকতা একটি বিশেষ বার্তা দেয়—বেইজিং এআই নিরাপত্তাকে কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং পুরো প্রযুক্তিগত জীবনচক্র ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছে। এটি নির্দেশ করে যে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই তৈরির লড়াইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বে একটি নতুন মাত্রার সৃষ্টি হচ্ছে: আর তা হলো বিশ্বজুড়ে এআই-এর নিয়মকানুন কে নির্ধারণ করবে তার প্রতিযোগিতা।
যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে তাদের দেশের পরাক্রমশালী এআই কোম্পানি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং উন্নত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব থেকে পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করছে। অন্যদিকে চীন তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা, সরকার-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব এবং বিস্তারিত এআই গভর্নেন্স কাঠামোর সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মান ও নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা নিতে চাইছে।
তবে এই প্রতিযোগিতা কোনো 'জিরো-সাম গেম' বা শূন্যযোগের লড়াই না হলেও চলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ই এআই-এর ভয়াবহ অপব্যবহার, সাইবার ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রণহীন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং এআই-এর ওপর মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখার মতো মৌলিক জায়গাগুলোতে একটি অংশীদারিত্বমূলক বোঝাপড়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ওয়াশিংটন শীর্ষ সম্মেলনের পর সবচেয়ে বড় বার্তা এটি নয় যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের শীতলতা হঠাৎ কেটে গেছে বা বরফ গলতে শুরু করেছে। মূল বিষয় হলো—একে অপরকে এমনকি পুরো বিশ্বকে থমকে দেওয়ার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন এই দুটি পরাশক্তি কি এমন এক ধরনের প্রতিযোগিতার অবকাঠামো তৈরি করতে পারবে, যেখানে উভয় দেশই পাশাপাশি টিকে থেকে সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে?
যদি তারা সত্যিই তা করতে সক্ষম হয়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কৌশলগত স্থিতিশীলতা' কেবল একটি সুন্দর ফাঁকা বুলি হয়ে থাকবে না; বরং তা 'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ'-এর ফাঁদ এড়িয়ে পারস্পরিক সমৃদ্ধির এক প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
লেখক: জিরুই ওয়াং হংকংয়ের লিংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। তিনি প্রযুক্তি, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে লেখালেখি করেন।
