গাঁজার পর এবার মদ: উড্ডয়নের আগে মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়ে বরখাস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট
গত ৬ সেপ্টেম্বর জুরিখ-দিল্লি ফ্লাইটের আগে অ্যালকোহল পরীক্ষায় পজেটিভ হওয়ায় ইন্ডিয়ার একজন ফার্স্ট অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং উড্ডয়নের আগেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই পাইলটকে পরে যাত্রী হিসেবে ভারতে ফেরত পাঠানো হয় এবং মেডিকেল পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন।
জুরিখ থেকে দিল্লিগামী এআই ১৫১ ফ্লাইটের নির্ধারিত উড্ডয়নের ঠিক আগে এই ঘটনা ঘটে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং কোম্পানির প্রটোকল লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তারা 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে।
এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "যেকোনো ধরনের প্রমাণিত লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা ও কোম্পানির নীতি অনুযায়ী পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়।"
এয়ারলাইনের বিবৃতিতে বলা হয়, "শৃঙ্খলা, নিয়ম মানা এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি জোরদার করতে এয়ার ইন্ডিয়া সব ফ্লাইট ক্রুকে নিরাপত্তা, পেশাদারিত্ব এবং সততার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।"
এয়ারলাইনটি আরও জানিয়েছে, নিয়মিত সচেতনতামূলক ও কমপ্লায়েন্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সুইস ফেডারেল অফিস অব সিভিল এভিয়েশন (ফোকা) সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী ওই পাইলটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনকে (ডিজিসিএ) বিষয়টি জানিয়েছে।
ফোকার একজন মুখপাত্র সংবাদপত্রটিকে বলেছেন, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতে পারেনি এবং এয়ারলাইন অপারেটরের রাষ্ট্রের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ ডিজিসিএ গ্রহণ করবে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর ডিজিসিএ এয়ার ইন্ডিয়াকে তাদের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বলেছে।
জুরিখের এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের পর এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকজন পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।
গত ৪ আগস্ট ওড়িশার আকাশে ওড়ার সময় হঠাৎ করে উড়োজাহাজের উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনার পর এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটের পাইলট ইন কমান্ড সুদীপ বশিষ্ট পরপর দুবার গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত করার পরীক্ষায় পজিটিভ হন।
এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটিতে ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। এ ঘটনায় ২০ জনের বেশি যাত্রী এবং চারজন ক্রু আহত হন।
বশিষ্ট অবশ্য বলেছেন, তিনি 'ঘুমের সমস্যার' জন্য ওষুধ খাচ্ছিলেন।
