হুথিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলা, সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথি বাহিনীর মধ্যে লড়াই জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গত সপ্তাহান্তে ওমানে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ইয়েমেন সরকার বাহিনী জানায়, জোট বাহিনী মোখার আশপাশে হুথিদের অবস্থানে আঘাত হেনেছে এবং সরকারি বাহিনী মারিবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, মারিবের আকাশে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথিরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের মার্চে হুথিদের বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করলেও, সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সরাসরি জড়িত হতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে—হয় ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে হুথিদের সাথে একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো, অথবা হুথিদের পিছু হটতে বাধ্য করতে পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের চেষ্টা করা। গত সপ্তাহে এক আচমকা অভিযানে হুথিরা লোহিত সাগর উপকূল ঘেঁষে পশ্চিম ইয়েমেনের বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
কূটনৈতিক সমর্থনের আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং তারা আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েছে। হুথিদের হামলা থেকে আত্মরক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জন্য ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিশর ও যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন জানিয়েছে রিয়াদ। এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরের মজুদও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের গতিপথে কমে এসেছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স আল জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র হুথি ও ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারের মধ্যকার পরিস্থিতি "নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ" করছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে "সৌদি অংশীদারদের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে, যা আজও দৃশ্যমান।"
ওয়াশিংটন সৌদি অভিযানকে সহায়তা করা সত্ত্বেও, মার্কিন কর্মকর্তারা গত সপ্তাহান্তে ওমানে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দুই সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওমান সরকারের সহায়তায় মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রয়টার্সের উদ্ধৃত সূত্রগুলোর মতে, মাস্কাটের বৈঠকে হুথিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানায় যে তাদের কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর ইচ্ছা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ২০২৫ সালের অস্ত্রবিরতির চুক্তিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, ইয়েমেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের জন্য নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক নিল হপ ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুয়াবাকে বলেছেন যে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার 'দৃঢ় সমর্থন' বজায় রেখেছে।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে হপের উদ্ধৃতি দিয়ে দূতাবাস জানায়, 'ইরান-সমর্থিত হুথি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকার ও তার জনগণের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।'
লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর নগরী মোখার আশপাশে হুথিদের তল্লাশি চৌকি ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথক এক পোস্টে সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা উত্তরাঞ্চলীয় মারিব গভর্নরেটে হুথি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান যে, 'গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান থেকে তাইজ, মারিব ও হুদায়দাহ প্রদেশ লক্ষ্য করে ৪০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।' এর জবাবে হুথিরা খামিস মুসাইত বিমানঘাঁটি এবং লোহিত সাগরের তীরের সৌদি বন্দর নগরী ইয়ানবুর একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
