পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬, আহত ৫৬
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মসজিদে বোমা হামলার পর বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওই সময় সেখানে জুমার নামাজের জন্য মানুষ জড়ো হচ্ছিলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে অঞ্চলটিতে আইএসআইএল (আইএসআইএস) এর একটি আঞ্চলিক শাখা এবং পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সক্রিয় রয়েছে। উভয় গোষ্ঠীই নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ নিশ্চিত করেছেন, বিস্ফোরণটি একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল। বিস্ফোরণের পর কয়েকজন পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়।
ডিপিএ বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে চিকিৎসক তাহির শাহ জানান, প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এপি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ১০ জন বেসামরিক নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিলাল ফাইজি নামের এক উদ্ধারকর্মী জানান, আহতদের বেশিরভাগই সাধারণ মুসল্লি।
বিস্ফোরণে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ বেশ দূর থেকেও শোনা গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
