৭ অক্টোবর হামলার আগে আমিরাতের সতর্কবার্তা নিয়ে হারেৎজের প্রতিবেদন ‘মনগড়া’, মামলা করবেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি দেশটির সংবাদপত্র হারেৎজের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। কারণ, পত্রিকাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে—২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক দিন আগেই হামাসের বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা হয়েছিল।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ওই প্রতিবেদনকে 'মনগড়া' ও 'মিথ্যা' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটির লেখক শ্লোমি এলদার ও রুথ ইয়াভালের বিরুদ্ধেও মামলা করতে তিনি তার আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত হারেৎজের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য একটি হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
৭ অক্টোবরের ওই দিনে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে অন্তত ১ হাজার ১৯৫ জনকে হত্যা করেন এবং প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যান।
ওই হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়, যাতে অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, যিনি মোহাম্মদ বিন জায়েদ বা সংক্ষেপে 'এমবিজেড' নামেও পরিচিত, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছ থেকে আসা একটি হুমকির বিষয়ে তাকে সতর্ক করেছিলেন।
হারেৎজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দিবিনিময় নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এবং ইসরায়েলের গাজা অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ সিনওয়ার একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সিনওয়ার জানিয়েছিলেন, তিনি একটি 'বড় চমক' প্রস্তুত করছেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের বলেছিলেন, ইসরায়েলকে যেন বলা হয়, 'ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে।'
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও তার সহযোগীরা ওই বক্তব্যকে বড় ধরনের একটি হামলা আসন্ন হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন এবং বিষয়টি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে জানিয়েছিলেন।
তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাটি ওই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এরপর মোহাম্মদ বিন জায়েদ সরাসরি নেতানিয়াহুর কাছে ওই সতর্কবার্তা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুও সেই সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেননি।
এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'সরকারপ্রধানদের মধ্যকার কথোপকথন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বা জল্পনা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার কোনো মন্তব্য করে না।'
হারেৎজের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।
জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহু পিছিয়ে রয়েছেন এবং সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের কাছে তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
বুধবার নেতানিয়াহু হারেৎজের প্রতিবেদনটিকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' এবং 'বামপন্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার' অংশ বলে অভিহিত করেন।
তিনি মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে এমন কোনো ফোনালাপের ঘটনাও অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, 'জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এবং সামরিক সচিব ওই দিনগুলোর প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলের নথি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন এবং এমন কোনো ফোনালাপের কোনো চিহ্নই পাননি।'
অন্য একটি বিবৃতিতে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, হারেৎজের 'মিথ্যা প্রতিবেদনটির' পেছনে রয়েছেন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা মুহাম্মদ দাহলান।
ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে বর্তমান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বিরোধের পর ২০১১ সালে দাহলানকে ফাতাহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাহলানের প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
