২ হাজার রুপি পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনো চার্জ না নেওয়ার নির্দেশ ভারতের
ভারত সরকার ব্যাংক ও অর্থপ্রদান ব্যবস্থা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, দুই হাজার রুপি পর্যন্ত ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের (ইউপিআই) মাধ্যমে করা লেনদেন এবং রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে করা অর্থপ্রদানে কোনো মাশুল নেওয়া যাবে না। ইউপিআই হলো ভারতের একটি তাৎক্ষণিক ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা।
তবে দুই হাজার রুপির বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাশুল নেওয়া হবে কি না, সরকার তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি। এখন পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, ইউপিআই লেনদেনে কোনো মাশুল নেওয়া হতো না।
১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান বা গ্রহণ কিংবা দুই হাজার রুপি পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানকারী বা অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তির ওপর কোনো ব্যাংক বা অর্থপ্রদান ব্যবস্থা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো মাশুল আরোপ করতে পারবে না।
২০০৭ সালের অর্থপ্রদান ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইনের ১০এ ধারায় সংশোধনী আনার পর এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো।
ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ইউপিআই এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অর্থপ্রদান ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ছাড়ের হার বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট আরোপের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে গত মাসে এ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস হয়।
বিলটি পাস হওয়ার পর সরকার জানিয়েছিল, ভারতের জাতীয় অর্থপ্রদান করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন ইউপিআই ও পরিষেবা পরিচালনা কমিটি ব্যবসায়িক ছাড়ের হার নির্ধারণ করবে।
মাশুল আরোপের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে সরকার এর আগে এক বিবৃতিতে বলেছিল, লেনদেনের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকায় সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে নিয়মিত ও বড় ধরনের আধুনিকায়ন প্রয়োজন হচ্ছে।
সরকার বলেছিল, বাজারের পরিধি বাড়ানো এবং ব্যবস্থাটিকে নিজেদের আয়ে টেকসই করে তুলতে মাশুল প্রয়োজন।
সরকার আরও বলেছিল, আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। আর এর জন্য এমন একটি নিজস্ব আয়নির্ভর ও টেকসই রাজস্ব কাঠামো প্রয়োজন।
সরকারের ভাষ্য, পরবর্তী পর্যায়ের প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।
এ কারণে ইউপিআইকে শক্তিশালী, সবার জন্য সহজলভ্য এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের উপযোগী রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো প্রয়োজন বলেও সরকার জানিয়েছে।
ইউপিআই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদান সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কেনাকাটার সময় সরাসরি ব্যবসায়ীদের অর্থ পরিশোধের সুযোগও দেয়।
বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই গ্রহণযোগ্য। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে উজবেকিস্তান।
ইউপিআই যেসব দেশে গ্রহণযোগ্য, সেগুলো হলো—সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, মরিশাস, নেপাল, ভুটান, কাতার, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং সর্বশেষ উজবেকিস্তান।
২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট ইউপিআই চালু করা হয়। এরপর এটি ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
২০১৭ অর্থবছরে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ০ দশমিক ০৭ লাখ কোটি রুপি। ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
অর্থাৎ এক দশকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ৪ হাজার গুণেরও বেশি বেড়েছে।
