ভারতে ব্রিকস সম্মেলন: কর্মসূচিতে যা আছে, যে কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ আয়োজন উপলক্ষ্যে গোটা নয়া দিল্লিকে ব্রিকস-সংশ্লিষ্ট ব্যানার-সাইনবোর্ডে সাজানো হয়েছে এবং বিভিন্ন ভবন ও গোলচত্বর রঙিন আলোয় আলোকিত করা হয়েছে।
ধনী পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্য থাকা অর্থনৈতিক জোটগুলোর বিপরীতে একটি শক্তিশালী বিকল্প জোট হিসেবে পরিচিত এই ব্রিকসের ১৮তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে এক ডজনেরও বেশি বিশ্বনেতা অংশ নিচ্ছেন। ব্রিকস সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিশিষ্ট অতিথিরা যেসব হোটেলে অবস্থান করছেন, সেগুলোর আশেপাশের রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ বিশ্বনেতারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে আগেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার জন্য শুক্রবার নয়া দিল্লি পৌঁছেছেন। সাত বছর পর ভারত সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ সকালে এসে পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে বঙ্গোপসাগরীয় বহু-ক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বিমসটেক-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং বিমসটেক-এর চেয়ারপারসন হিসেবে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের দুই দিনব্যাপী এ শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলা, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে এই জোটটি অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হচ্ছে। কারণ ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য, ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।
ব্রিকস কী?
ব্রিকস হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নামের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত একটি জোট। এ অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক জোটটি ২০০৬ সালে গঠিত হয়েছিল এবং ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন ২০০৯ সালে প্রথম ব্রিক শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়। এর এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা এই জোটে যোগ দেয়।
২০২৩ সালে সদস্যপদের আবেদন জানানোর পর মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। একই সময়ে আর্জেন্টিনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে নির্বাচিত দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই বিশ্ব পরাশক্তি পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালানোর কারণে শেষ পর্যন্ত এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করে।
ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালে এই জোটে যোগদান করে। বর্তমানে ব্রিকস বিশ্বের ১১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করে রয়েছে।
বিভিন্ন সরকারের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটির মূল বা প্রধান লক্ষ্য হলো পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানো। এই গোষ্ঠীটি তাদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এবং বছরে একবার শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার আয়োজন করে—যে সম্মেলনটি আয়োজনের সুযোগ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। এ বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনটি হলো জোটে ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন।
এ বছরের শীর্ষ সম্মেলনে কারা যোগ দিচ্ছেন?
ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব প্রধানত তাদের শীর্ষ নেতাদের দ্বারাই হচ্ছে, যার মধ্যে আয়োজক দেশ—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জোটের মূল ৫টি দেশের মধ্যে কেবল ব্রাজিল তার রাষ্ট্রপ্রধানকে পাঠায়নি—দেশটির প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা।
নতুন সদস্য দেশগুলোর বেশিরভাগই একইভাবে তাদের শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করছে। ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইথিওপিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদ, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব উভয় দেশই সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
সম্মেলনে যোগদানকারী অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে রয়েছেন: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়র, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং, নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্তে এনদাইশিমিয়ে, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া, উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা অলুপো, উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেটকিন, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জাইয়ানি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোখায়েভ।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নেতাদের মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।
কর্মসূচিতে যা আছে
ব্রিকসের মূল উপপাদ্য হলো পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার আধিপত্য বিশেষ করে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধ করা বা কমিয়ে আনার একটি যৌথ ইচ্ছা।
নয়া দিল্লির প্রকাশিত ব্রিকস সভাপতিত্বের নথিপত্র অনুসারে, এ বছর ভারতের আয়োজনে শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো "সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা"।
নিষেধাজ্ঞার মুখে অর্থনৈতিক সংহতি
এ বছরের শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হবে। ফরাসি আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান 'ন্যাটিক্সিস'-এর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, ব্রিকসের সদস্য দেশ রাশিয়া ও ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বনেতারা আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের মাধ্যম ও নতুন উপায় নিয়েও আলোচনা করবেন।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, 'তবে তারা কিন্তু মার্কিন ডলারকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করবে না।' ক্রেমলিন বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, নতুন দিল্লিতে চলতি সপ্তাহের শীর্ষ সম্মেলনে ডিজিটাল মুদ্রায় বাণিজ্যের নিষ্পত্তির বিষয়ে ব্রিকস অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে রাশিয়া।'
বেঙ্গালুরুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'তক্ষশীলা ইনস্টিটিউটে'র জিওস্ট্রেটেজি প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, 'বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকস নেতারা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন, তা মূলত সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর ঝুঁকি দূর করার প্রাথমিক পদক্ষেপ।'
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাসেরও বেশি সময় পর এবারের শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানের ওপর এই আক্রমণের বিষয়ে যৌথ নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছিল জোটটি।
সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই তার প্রথম ভারত সফর, যা একই সাথে আট বছরের মধ্যে কোনো ইরানি প্রেসিডেন্টের ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম সফর।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও জনপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলেজান্দ্রো রেয়েস বলেন, 'ইরান ব্রিকসের একটি সদস্য দেশ এবং এই সংঘাতটি সরাসরি বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি বাজারের সুযোগকে প্রভাবিত করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।'
তিনি আরও জানান, এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান এবং ব্রিকসের আরেক সদস্য দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার তিক্ততা ও মুখোমুখি অবস্থান সদস্য দেশগুলোর জন্য যুদ্ধের বিষয়ে একটি সমমতের চূড়ান্ত রূপরেখা বা যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছানো কঠিন করে তুলবে।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে—বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গালফ অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত এসব ইরানি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ জন সামরিক কর্মী, ১ জন বেসামরিক ঠিকাদার এবং ১২ জন সাধারণ নাগরিকসহ মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর ফলশ্রুতিতে, আগস্ট মাসে আমিরাতও ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ
ব্রিকস নেতারা জোটের অন্যতম সদস্য রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। তবে কেওয়ালরামানির মতে, জোটে থাকা বিশ্বনেতারা গত কয়েক বছর ধরেই ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা করে আসছেন।
তার মতে, এ বছর মূলত কীভাবে যুদ্ধের সার্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ব্রিকস সদস্যের ন্যায়সংগত স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে যৌথভাবে আলোচনা করা হবে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায়, ব্রিকস নেতারা ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার সমালোচনা এড়িয়ে যান এবং উল্টো রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের হামলার নিন্দা জানান।
কেওয়ালরামানি আরও বলেন, 'আমার মনে হয় না এ বছর যুদ্ধের বিষয়ে ব্রিকসের ভাষা বা বিবৃতিতে বড় কোনো জটিলতা তৈরি হবে। কারণ বর্তমানে আমেরিকান ও রাশিয়ানরা নিজেরা কথা বলছে।'
চলতি মাসের শুরুর দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মস্কোতে পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বলেছিলেন যে তার দূতেরা "যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব" নিয়ে যাচ্ছেন—যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত—তার পরপরই তাঁদের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এটিকে একটি "গুরুত্বপূর্ণ শান্তি মিশন সফর" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ বছরের শীর্ষ সম্মেলনটির গুরুত্ব যেখানে
'জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস'-এর বিশিষ্ট ফেলো ইয়ান লেসার আল জাজিরাকে জানান যে, ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের পটভূমিতে এই ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে গ্লোবাল সাউথের (দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নশীল বিশ্ব) শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সাথে তার শক্তিশালী সম্পর্কের বিষয়টি প্রদর্শনের একটি সুযোগ করে দেবে।
তিনি বলেন, 'এটি রাশিয়া ও চীনের জন্য ওয়াশিংটনের অনিশ্চিত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নীতি থেকে মুক্ত থাকতে চাওয়া এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চাওয়া অনেক দেশের মনোভাবকে কাজে লাগানোরও একটি সুযোগ প্রদান করছে।'
এই শীর্ষ সম্মেলনটি তার সময়ের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি বছরের দ্বিতীয় চীন-মার্কিন শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক পরপরই এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক রাষ্ট্রীয় সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পিপলস লিবারেশন আর্মির অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্নেল ঝো বো আল জাজিরাকে বলেন, ব্রিকস নেতাদের একত্রিত হওয়া নতুন কিছু নয় এবং এটি তাদের বার্ষিক সম্মেলনেরই অংশ। তবে এ বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ভারতে যাচ্ছেন—এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, 'বেইজিং ও নতুন দিল্লির সম্পর্ক বেশ শীতল ও তিক্ত ছিল। তাই এই শীর্ষ সম্মেলনটি প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য তাদের বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসনের একটি উপযুক্ত সুযোগ।' তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে এ বছরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন এটিই ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, 'সুতরাং ভবিষ্যতের ব্রিকসের সামনে সমাধান করার মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং বিষয় রয়েছে। প্রথমত যা ব্রিকস সদস্য ব্রাজিল উত্থাপন করেছিল—তা হলো জোটে থাকা দেশগুলো কীভাবে ডলারকে এড়িয়ে ধীরে ধীরে অন্য কোনো মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে। তবে ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বৈপরিত্য বিবেচনায় এটি এখনই বাস্তবায়ন করা খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এই সংস্থাটি কীভাবে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই মুহূর্তে ব্রিকসের প্রধান পরাশক্তিগুলো সরাসরি বিভিন্ন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, তাই এমন একটি সার্বজনীন ভাষা বা রূপরেখা খুঁজে বের করা যা সব ব্রিকস সদস্যের জন্যই গ্রহণযোগ্য হবে—তা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে।'
ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে মূল বিভাজনগুলো
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক জোট সম্প্রসারণের পর, ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ব্রিকস সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিরোধের আবহেই এবারের শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে এই যুদ্ধের বিষয়ে ভারতের অবস্থানও বেশ সংবেদনশীল; কারণ নতুন দিল্লি একদিকে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের সাথেই আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখছে, আবার অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ না করার বিষয়েও সতর্ক থাকছে।
কেওয়ালরামানির মতে, এই জোট নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করেই যুদ্ধ নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, 'তারা যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করে, তবে আমি অবাক হব। তারা সম্ভবত একটি সমঝোতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে এবং সকল দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং তাদের ন্যায়সংগত স্বার্থ ও উদ্বেগকে সম্মান জানানোর নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধের বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে উপনীত হবে।'
ইয়েমেন সংঘাত
একইভাবে ইরান এবং ব্রিকসের অপর সদস্য সৌদি আরবের মধ্যেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে; কারণ ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকেও সমর্থন যোগাচ্ছে—যে সরকারের বিরুদ্ধে হুতিরা লড়াই করছে। তবে চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যার মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'বাব আল-মানদেব' প্রণালিও অন্তর্ভুক্ত।
হুথিদের কাছে অস্ত্র নিয়ে যাওয়া বিমান অবতরণ ঠেকানোর অজুহাতে গত জুলাই মাসে ইয়েমেন সরকারি বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর সৌদি সমকক্ষ ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে "উত্তেজনার বৃদ্ধি এবং অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা" নিয়ে ফোনালাপ করেছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, 'দুই দেশই উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।'
ভারত-চীন উত্তেজনা
২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে প্রাণঘাতী সামরিক সংঘর্ষের পর থেকেই এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলতে শুরু করলেও, তাদের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত দ্বন্দ্বের কারণে সম্পর্কের গভীরে এখনো গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বো বলেন, চীন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে নিজেকে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর (উন্নয়নশীল বিশ্বের) প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতসহ কিছু দেশ বেইজিংকে গ্লোবাল সাউথের অংশ বলে মনে করে না।
তিনি বলেন, 'অন্য অনেক দেশ বলতে পারে চীন এখন একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি। তবে চীন সবসময় দাবি করে এসেছে যে তারা গ্লোবাল সাউথেরই একটি স্বাভাবিক সদস্য। তাই চীন নিজেদেরকে একটি গ্লোবাল সাউথ ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করবে এবং শীর্ষ সম্মেলনে এই দৃষ্টিকোণ থেকেই কথা বলবে।'
ব্রিকসের মূল উদ্দেশ্য
কেওয়ালরামানি বলেন, ভারত ও চীন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও ব্রিকসের মূল উদ্দেশ্য কী—তা নিয়ে দু দেশের মধ্যকার টানাপোড়েন থেকেই যাবে।
তিনি বলেন, 'বেইজিং ব্রিকসকে এমন একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দেখে যার মাধ্যমে তারা নিজস্ব স্বার্থে গ্লোবাল সাউথকে একত্রিত করতে পারে এবং পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের যৌথ ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'কাঠামোগত দিক থেকে ভারত ব্রিকসকে এমন একটি সত্তা হিসেবে দেখে যা তাকে নিজস্ব 'কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন' বজায় রাখার এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ দেয়—যা পশ্চিমা-কেন্দ্রিক নয়, তবে পশ্চিমা-বিরোধীও নয়। এই মতপার্থক্য এবারের শীর্ষ সম্মেলনে রাতারাতি মুছে যাবে না।'
রেয়েস বলেন, 'রাশিয়া এবং চীন ব্রিকসকে মার্কিন ও পশ্চিমা শক্তির একটি বিকল্প ভারসাম্য বা জবাব হিসেবে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে; তবে ভারত এবং আরও বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ এই সংস্থাটিকে একটি পশ্চিমা-বিরোধী জোটে রূপান্তর করতে একেবারেই আগ্রহী নয়।' তবে রেয়েস স্পষ্ট করেন, ব্রিকস কিন্তু ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কোনো সংস্থা নয়, যেখানে কাজের কার্যকারিতা ধরে রাখতে প্রতিটি ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে সব সদস্যকে একমত হতে হবে।
রেয়েস আরও বলেন, 'ব্রিকস এমন কিছু দেশকে এক ছাদের নিচে এনেছে যাদের নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জোরদার ও স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের সবার আগ্রহ এক।
এটি এমন একটি গ্রুপ যা বহু-মেরুকরণ-এর ধারণাটিকে শক্তভাবে তুলে ধরে। মূল প্রশ্ন এটি নয় যে ব্রিকস ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে কিনা—যা প্রতিটি সম্মেলনের আগেই জিজ্ঞাসা করা হয়। বরং আসল প্রশ্ন হলো, বড় কোনো মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকস ব্যবহারিক ও বাস্তবসম্মত সহযোগিতা এগিয়ে নিতে পারবে কিনা।'
পশ্চিমাবিশ্বের চিন্তিত হওয়া উচিত কি না
নিজের একতরফা পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে, ট্রাম্প একদিকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার যেমন সমালোচনা করেছেন, তেমনি ব্রিকসের মতো গ্লোবাল সাউথ জোটগুলোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন—যাকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন। এমনকি তিনি এই জোটকে "আমেরিকা-বিরোধী" বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বো বলেন, বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতাই গ্লোবাল সাউথের ফোরামগুলোকে পশ্চিমা-বিরোধী ক্লাব হিসেবে দেখেন না। তিনি আরও বলেন, 'তবে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায়, যা বহু-মেরুকরণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলো নিশ্চয়ই এই শীর্ষ সম্মেলনগুলোর দিকে অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে নজর রাখবে।'
রেয়েস বলেন, ওয়াশিংটন এবং সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের চিন্তিত হওয়ার কোনো বিশেষ কারণ নেই যে ব্রিকস একটি একক মার্কিন-বিরোধী জোটে পরিণত হচ্ছে কিংবা এর সদস্যরা কীভাবে মার্কিন ডলারের পতন ঘটাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি রাশিয়াও বলেছে তারা সরাসরি বা একচ্ছত্র "ডলারমুক্তকরণ"-এর পেছনে ছুটছে না। কারণ জোটের সব সদস্যেরই নিজস্ব ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসলে যা ভাবনার বিষয় হওয়া উচিত তা হলো—কেন এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দেশ ব্রিকসের অস্তিত্ব ও এর সম্প্রসারণ চাইছে। কারণ তারা বাণিজ্যে আরও বিকল্প সুযোগ চায়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চায় এবং বিকল্প অর্থায়ন ও লেনদেনের মাধ্যম চায়। সর্বোপরি, তারা যেকোনো একটি একক পরাশক্তি থেকে আসা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া, নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বা রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে চায়।'
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এই ব্যাঘাত, চাপ এবং মানসিক উত্তেজনাগুলো মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই আসছে। রেয়েস বলেন, 'তাই ওয়াশিংটনের জন্য মূল বার্তাটি হলো—যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশগুলোর কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনভাবে চলার প্রতিটি চেষ্টাকে শত্রুতা হিসেবে দেখে, তবে তা প্রকৃতপক্ষে দেশগুলোকে ব্রিকসের দিকে ধাবিত করার অনুঘটক হিসেবেই কাজ করবে।'
