ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের চোখে পড়বে, তাই পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর আশপাশে থাকা বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলো আড়াল করার জন্য বড় বড় পর্দা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী ব্যারিকেড।
এ ঘটনায় বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের এমপি পবন খেরা। তার অভিযোগ- দারিদ্র্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে ভারতের আর্থসামাজিক বাস্তবতা লুকানোর চেষ্টা করছে সরকার।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে পবন খেরা লিখেছেন, "বিজেপির কাছে সব 'হিজাব'-ই অগ্রহণযোগ্য নয়। মোদির ব্যর্থতাকে যে হিজাব আড়াল করে, সেটিই তাদের সবচেয়ে প্রিয়।"
এর আগে একই দিনে কংগ্রেসের এমপি মনীশ তিওয়ারি বলেন, ব্রিকস, আসিয়ান, কোয়াড ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে শুধু পৃথক বৈঠকের ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া যথেষ্ট নয়।
কংগ্রেসের এই এমপি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং তার জায়গায় এখনো নতুন কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
ভারতীয় গণমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিওয়ারি বলেন, "শেষ পর্যন্ত বিশ্ব এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ভাসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী দেশগুলোর হাতে যে পুরোনো বৈশ্বিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু তার জায়গায় এখনো নতুন কোনো ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। তাই আসিয়ান, এআরএফ, কোয়াড, এসসিও, ব্রিকস কিংবা বিশ্বের অন্যান্য বিভিন্ন জোটের বৈঠকগুলো একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত। কারণ সবাই এখন পায়ের নিচের মাটি বুঝে বুঝে সামনে এগোনোর চেষ্টা করছে এবং এই 'দানবের যুগ' থেকে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে, তা বোঝার চেষ্টা করছে।"
তিনি আরও বলেন, "তাই বৈঠকগুলোর তাৎক্ষণিক ফলাফল কী হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করা, যাতে দেশগুলো এবং বিশ্বের মানুষ পরস্পরের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে থাকে। কারণ পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমেই একটি কার্যকর বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। তা না হলে আমরা আবার ১৭ ও ১৮ শতকের পুরোনো কাঠামোর দিকে ফিরে যেতে পারি।"
'দারিদ্র্য গায়েব'
দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহারের কাছে মুনিরকা এলাকার আশপাশের বস্তিগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
এভাবে বস্তিগুলো আড়াল করার চর্চা এর আগেও দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় আহমেদাবাদে এবং পরে জি২০ সম্মেলনের সময়ও এভাবে বস্তিগুলো আড়াল করা হয়েছিল।
২০২৩ সালে ১৮তম জি২০ সম্মেলনের আগে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযানগুলোর একটি চালানো হয়। সে সময় এক হাজার ৬০০ এর বেশি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তথ্যমতে, দিল্লিতে ৭৮টি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ২০৫ মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
দিল্লি শুধু রাজপথ নয়
দারিদ্র্যকে এভাবে আড়াল করার এই ব্যর্থ প্রচেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যকে উপেক্ষা করছে, আর তা হলো দিল্লি শুধু এর প্রশস্ত রাজপথ বা ঝকঝকে বুলেভার্ড (সাজানো প্রশস্ত সড়ক বা পার্কের মতো এলাকা) দিয়ে গড়ে ওঠেনি; দিল্লি আসলে এর মানুষের শহর।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, রাজধানীর ১০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বস্তিতে বসবাস করেন এবং তারাই শহরের কর্মশক্তির মেরুদণ্ড। ২০২৩ সালে রাজ্যসভায় জানানো হয়েছিল, দিল্লির প্রায় ৬৫০টি বস্তিতে ১৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
