Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Monday
September 28, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
MONDAY, SEPTEMBER 28, 2026
জেন-জির পর এবার বিক্ষোভে নেমেছে ভারতের জেন আলফা, শিক্ষা সংস্কারের দাবি

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরা
05 September, 2026, 03:00 pm
Last modified: 05 September, 2026, 03:11 pm

Related News

  • শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি মহাকালের মহানায়ক
  • বছরের পর বছর নিজের ‘শক্ত ভাবমূর্তি’ গড়েছেন মোদি, তবে এখন কেন ‘জেন জি রিল’ বানাচ্ছেন ?
  • 'জেন জি' নিয়ে দুনিয়াজুড়ে এত আগ্রহের কারণ কী?
  • নেপালের 'জেন জি' ভোটারদের স্বপ্ন এখন এক মিলেনিয়াল র‍্যাপারকে ঘিরে
  • নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত? ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়ে সংসদের দরজায় কড়া জেন-জি’র ২৫ প্রার্থীর

জেন-জির পর এবার বিক্ষোভে নেমেছে ভারতের জেন আলফা, শিক্ষা সংস্কারের দাবি

জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যের শিশুরা স্কুলে এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে আসছে।
আল জাজিরা
05 September, 2026, 03:00 pm
Last modified: 05 September, 2026, 03:11 pm
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রণবীর সিং পুরায় দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে স্কুল শিক্ষার্থীরা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬। ভারতের বিভিন্ন স্থানের শিশুরা তাদের বিদ্যালয়ের বেহাল দশার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে নেমেছে। ছবি: চান্নি আনন্দ/ এপি

ভারতের উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাতপুরওয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ জন শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসরুমে ঢুকতে অস্বীকৃতি জানায়। আট বছর বয়সী প্রিয়ার মতো কেউ কেউ হাতে তুলে নেয় জাতীয় পতাকা ।

স্কুলটির বর্তমান ভবন বেশ পুরোনো এবং জরাজীর্ণ। ২০২৩ সালে একটি দেয়াল ধসে এক ছাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর সংস্কার না করায় স্কুলের একটি অংশ এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে।

সেই থেকে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষার্থীরা একটি নতুন ভবনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু গত ২২ আগস্ট তাদের এই অপ্রত্যাশিত প্রতিবাদের আগ পর্যন্ত কেউ তাদের কথায় কান দেয়নি। যেখানে ১০ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী শিশুরা স্কুল ও সরকার প্রধানদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে। শিশুরা ধর্মঘট করছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষা দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শনে যান।

ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক অবস্থি শিশুদের নতুন একটি ভবন দ্রুত নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ততক্ষণে প্রায় সন্ধ্যা নেমে আসায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যেতে রাজি হয়। প্রিয়া জানায়, 'আমি খুব খুশি, আমরা একটা নতুন ভবন পেতে যাচ্ছি। আমরা ভয়ে থাকতাম যে জরাজীর্ণ স্কুল ভবনটি হয়তো একদিন ধসে পড়বে। ভয়ে আমরা পড়াশোনায় মন দিতে পারতাম না, তাই আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করেছি।'

প্রিয়া ও তার বন্ধুরা শুধু নয়। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যের শিশুরা স্কুলে এই ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে আসছে। গ্রামীণ এলাকার যেসব সরকারি স্কুল অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়ছে, মূলত সেখানেই এই প্রতিবাদের খবর বেশি পাওয়া গেছে।

এই বিক্ষোভগুলো কেবল ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে হিমশিম খাওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জুন মাসের শুরুর দিকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মূল প্রতিবাদস্থল 'যন্তর মন্তর'-এ জেন জি প্রজন্মের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জমায়েত হতে শুরু করে। বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর জের ধরে বহু তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার পর অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই ছিল তাদের মূল দাবি।

তবে মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ-দুর্দশা নিরসনের বদলে তাদের বিদেশি শক্তিপুষ্ট চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলে, ক্ষমতাসীনাদের প্রতি তরুণদের প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ভারতের তীব্র বেকারত্ব ও ছদ্মবেকারত্ব সংকটও বিক্ষোভের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

জনপ্রিয় এই যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপি। ব্যাপক বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের উদ্দেশ্যে গত মে মাসে গঠিত একটি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ছিল এটি।
মোদি সরকারের কার্যত দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব অমিত শাহের অধীনস্থ নিরাপত্তা বাহিনী যখন সংসদের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমনপীড়ন চালায়, তখন এই 'জেন জি' আন্দোলনটি দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে।

বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবং শুধু শিক্ষা সংস্কারের দাবি জানিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ তীব্র রূপ নিলে মোদি সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। এর ফলশ্রুতিতে মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

এরপর থেকে সিজেপি ভারতের বিদ্যালয়গুলোর বেহাল দশার দিকে নজর দিয়েছে। সামুহি ভাতপুরওয়ার মতো বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন এমন এক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বিরল—শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া এবং প্রশ্ন তোলা।

জেন জি বিক্ষোভের পরপরই শিক্ষার্থীদের এই নতুন রূপ রূপান্তর ঘটাচ্ছে। প্রতিবাদী এই নতুন প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে 'জেন আলফা' আন্দোলনের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

ভারতীয় বিদ্যালয়গুলোর সংকট কোথায়
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে, যেখানে ১.৫ মিলিয়ন (১৫ লাখ) স্কুলে মোট ২৪৭ মিলিয়ন (২৪ কোটি ৭০ লাখ) শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এসব স্কুলের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয়, রাজ্য বা স্থানীয় সরকার দ্বারা; বাকি অংশ দাতব্য সংস্থা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে স্কুলের ওপর সরকারের সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে শিক্ষা গ্রহণে সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত উন্নত হচ্ছে—প্রতি ২৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। উপাত্ত অনুযায়ী, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হারও কমছে।

তবে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিছু স্কুলের পড়াশোনা এমন ভবনে চলে, যা একই সাথে গবাদিপশু পালনের কাজেও ব্যবহৃত হয়। বেঙ্গালুরুর শিক্ষা অধিকার বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্ট নাগাসিমহা রাও বলেন, 'শিশুরা তাদের অধিকার দাবি করছে। তারা শিক্ষক, বেঞ্চ, স্কুল ভবন, খাবার পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচাগার চায়। দুর্ভাগ্যবশত, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক অবকাঠামো ও জনবলের অভাব রয়ে গেছে। দেশজুড়ে বেশিরভাগ সরকারি স্কুলের গল্পটাই এমন।'

সরকারি স্কুলগুলোকে নির্দেশ করে যেখানে প্রধানত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনগ্রসর বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা পড়াশোনা করে এমন প্রশ্ন তুলে রাও বলেন, 'দরিদ্র ঘরের শিশুরা এসব স্কুলে পড়ে বলেই কি এই অবহেলা?'

সাম্প্রতিক এই প্রতিবাদী লহমার প্রথম দিকের একটি ঘটনায়, গত ২৮ জুলাই উত্তর প্রদেশের 'সর্বোদয় ইন্টার কলেজ'-এর শিক্ষার্থীরা তাদের নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরে স্কুলে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত থাকা এই স্কুলটিতে খাবার পানি, বিদ্যুৎ এমনকি বসার বেঞ্চের অভাব রয়েছে।

দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মনোজ বলে, 'স্কুলে পড়াশোনা করা আমাদের জন্য কতটা কঠিন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র গ্রীষ্মে কোনো ফ্যান চলে না। পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হয়। তাই আমরা প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নিই।'

মনোজের বন্ধু ও সহপাঠী নীলম যোগ করে বলে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব মৌলিক সুবিধার দাবি জানিয়ে আসছিল। তিনি আরও বলেন, 'এবার আমরা প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। গত ৩১ জুলাই পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের পারলিতে অবস্থিত 'বৈদ্যনাথ বিদ্যালয়'-এর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সংকটের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এই বিদ্যালয়টি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

জেন জি-র সমর্থন পাচ্ছে জেন আলফা
গত ১৫ আগস্ট, ভারত যখন তাদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছিল, তখন সিজেপি 'স্কুল ঠিক করো' নামে একটি মাঠপর্যায়ের নতুন উদ্যোগ চালু করে। সিজেপি-এর আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিং আল জাজিরাকে জানান যে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুলগুলোতে চলা বিক্ষোভগুলোকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

রত্না সিং বলেন, 'দিল্লিতে আমাদের যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ চলাকালে আমরা বহু ছোট শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের সাথে দেখা করি, যারা গ্রামীণ এলাকা থেকে এসেছিলেন। তারা অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি স্কুলের বেহাল দশা, শিক্ষকের অভাব এবং স্কুলে যাওয়ার পিচঢালাহীন খানাখন্দে ভরা রাস্তার কথা তুলে ধরেছিলেন। তাই আমাদের সন্তানদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য স্কুল সংস্কার করাটা আমাদের আন্দোলনের এক স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক অগ্রগতি।'

দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার অবস্থা পরখ করতে ও শিশুদের সাথে কথা বলতে গিয়ে সিজেপি সদস্যরা একাধিক সহিংস ঘটনার মুখোমুখি হন বলে খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর প্রদেশের সিজেপি সদস্য গৌরব ভারতী অভিযোগ করে বলেন, 'পুলিশ এবং স্থানীয় গুন্ডারা সিজেপি সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে।' তিনি বলেন, 'গত ১৬ আগস্ট উত্তর প্রদেশের করণপুর মাজরা (একটি গ্রামীণ এলাকা) প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সেখানকার করুণ অবস্থা জনসমক্ষে তুলে ধরার পর থেকে পুলিশ আমার পেছনে লেগেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে আমরা ভীত নই। 'আরটিই' আইনের মতো বিদ্যমান আইনে যা উল্লেখ রয়েছে, আমরা কেবল সেটাই দাবি করছি।'

২০০৯ সালে কার্যকর হওয়া 'শিক্ষা অধিকার আইন' অনুযায়ী ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট করে সব ধরনের আবহাওয়া উপযোগী অবকাঠামোগত মানদণ্ড, যেমন—টেকসই ভবন, খাবার পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং শিশুদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি এতে বলা হয়েছে যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত হতে হবে অন্তত ১:৩০ (প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত ১ জন শিক্ষক)।

জাতীয় গড় এই মানদণ্ড স্পর্শ করলেও, সরকারের নিজস্ব উপাত্ত অনুযায়ী ভারতের প্রায় ১,০০,৮৪৩টি স্কুলে—সব গ্রেড মিলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এসব স্কুলে প্রায় ২৯ লাখ শিশু নাম নথিভুক্ত করেছে। বিপরীতভাবে, ভারতে ৫,৬৬৩টি এমন 'ভুতুড়ে স্কুল' (গোস্ট স্কুল) রয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই নিবন্ধিত নেই।

ভারতে স্কুলের দুপুরের খাবার কর্মসূচি যা 'মিড-ডে মিল' প্রকল্প নামে পরিচিত—সেখানে দেওয়া নিম্নমানের খাবার নিয়ে প্রায়শই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা যায়। গত ২৮ জুলাই বিহারের সিমুয়ারা গ্রামে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী দুপুরের নিম্নমানের খাবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং এক জ্যেষ্ঠ আমলার সাথে দেখা করতে ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে যায়। স্কুলটিতে পাইপলাইনের পানি সরবরাহ না থাকায় রান্নার আগে কাঁচা উপকরণগুলো ধোয়ামোছা করা হয় না। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, চাল, ডাল এবং তরকারির মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের—যেখানে শাকসবজি প্রায় পচা থাকত।

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন একটি কাঠামোগত স্থায়ী সমাধান যার মধ্যে রয়েছে 'সব জায়গায় সমান ভালো অবকাঠামো প্রদান, শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবারগুলোকে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং নিয়ম না মানলে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা'—চেন্নাইভিত্তিক শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্বর্ণা রাজাগোপালন আল জাজিরাকে এ কথা বলেন।

স্কুলগুলোতে চলা এই বিক্ষোভগুলো ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর জন্য ভবিষ্যতে এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বার্তা দিচ্ছে। ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। আজ যারা স্কুলের প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে, তাদের অনেকেই ২০২৯ সালে ভারতে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে ভোটাধিকার লাভ করবে।

পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা অধিকারকর্মী আকাশ সরকার বলেন, 'শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। অনুকূল পরিবেশে তারা যদি সঠিক শিক্ষা না পায়, তবে তা ভারতের উন্নয়নকে ব্যাহত করবে। এই শিশুরাই আগামী দিনের ভোটার। তারা নিশ্চিতভাবেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থকে মাথায় রেখে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।'

বেঙ্গালুরুর ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটির ছাত্রী সুজাতা গৌড়ার কাছে তরুণদের এই সাম্প্রতিক প্রতিবাদের জোয়ার মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। তিনি বলেন, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের এই ব্যবস্থার দ্বারা অবহেলিত মনে করছে।

গণিতে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ২১ বছর বয়সী এই ছাত্রী  বলেন, 'এই ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। সে কারণেই আজ স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদে নেমেছে। আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আমূল পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন। আমাদের যোগ্য শিক্ষক দরকার, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হওয়া উচিত এবং অবকাঠামোগত উন্নতি প্রয়োজন।'

তিনি আরও বলেন, 'এর জন্য কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে হবে। তা না হলে দেশজুড়ে আরও বেশি প্রতিবাদের জন্ম হতে পারে।'

Related Topics

টপ নিউজ

জেন জি / জেন আলফা / শিক্ষা সংস্কার

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • প্রতীকী ছবি: টিবিএস
    সাভারের ট্যানারি বর্জ্য থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানের ১.৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি
  • মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হন। ছবি: সংগৃহীত
    প্রথম হামলায় আহত মোজতবা খামেনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ফের হামলা, উদ্ধার হন ধ্বংসস্তূপ থেকে
  • ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন
    দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কের বিভাজক যখন পরিণত হয় আবাদি জমিতে
  • বৈঠক শেষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত
    জানুয়ারিতে সংসদে উঠবে সংবিধান সংশোধন বিল, পাশ হলেই গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ফাইল ছবি: বাসস
    নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে: টাইমস অভ ইন্ডিয়া
  • ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
    ‘জমি দখলের চেষ্টায়’ ইসিবি চত্বরের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ৫০ কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

Related News

  • শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি মহাকালের মহানায়ক
  • বছরের পর বছর নিজের ‘শক্ত ভাবমূর্তি’ গড়েছেন মোদি, তবে এখন কেন ‘জেন জি রিল’ বানাচ্ছেন ?
  • 'জেন জি' নিয়ে দুনিয়াজুড়ে এত আগ্রহের কারণ কী?
  • নেপালের 'জেন জি' ভোটারদের স্বপ্ন এখন এক মিলেনিয়াল র‍্যাপারকে ঘিরে
  • নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত? ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়ে সংসদের দরজায় কড়া জেন-জি’র ২৫ প্রার্থীর

Most Read

1
প্রতীকী ছবি: টিবিএস
অর্থনীতি

সাভারের ট্যানারি বর্জ্য থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানের ১.৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি

2
মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হন। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

প্রথম হামলায় আহত মোজতবা খামেনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ফের হামলা, উদ্ধার হন ধ্বংসস্তূপ থেকে

3
ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন
ফিচার

দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কের বিভাজক যখন পরিণত হয় আবাদি জমিতে

4
বৈঠক শেষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ব্রিফিং। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

জানুয়ারিতে সংসদে উঠবে সংবিধান সংশোধন বিল, পাশ হলেই গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

5
ফাইল ছবি: বাসস
বাংলাদেশ

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে: টাইমস অভ ইন্ডিয়া

6
ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
বাংলাদেশ

‘জমি দখলের চেষ্টায়’ ইসিবি চত্বরের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ৫০ কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net