নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৬৯, কাদা থেকে তোলা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ, নতুন বন্যার আশঙ্কা
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ। কাদা থেকে টেনে তোলা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ। এর মধ্যেই তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা।
বুধবার হিমালয়ের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানে আকস্মিক বন্যা। অন্যদিকে তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজের তালিকায় আছেন ৫৫০ জনেরও বেশি।
যারাই এই আকস্মিক বন্যার মাঝখানে পড়েছেন, তাদের বেশিরভাগ কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। এখন কাদার নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে হন্যে হয়ে খুঁজছেন, তখনই দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানায়, বুধবার তিব্বত ও নেপাল সীমান্তের গিরংসংলগ্ন লেন্দে নদীতে পাহাড় ও কাদার স্তূপ ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় শুরু হয়। পাহাড় ধসে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নেপালের ভাটি অঞ্চলে ভটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
এদিকে বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর এবার নেপাল-চীন সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো সময় হ্রদটির পাড় ভেঙে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই হ্রদে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা ছিল, যা ইতিমধ্যে উপচে পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে আগামী তিন দিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ওই হ্রদে জমা হতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।
