ভারতের মহিষের মাংস রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, ক্রমশ বাড়ছে আয়
ভারতের কৃষিভিত্তিক রপ্তানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে সফল মহিষের মাংস। ২০০৫-০৬ (এপ্রিল-মার্চ) অর্থবছরে এ রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি আরও বেড়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুন মেয়াদের আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৯৬.৮ মিলিয়ন ডলার। এ থেকে ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুনেই তা প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'গত অর্থবছরে আমরা প্রথমবারের মতো ৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পার করেছি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রায় রয়েছি।'
তবে কেবল মোট মূল্যের বৃদ্ধি নয়, আকর্ষণীয় বিষয় হলো প্রতি টনে অর্জিত মূল্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৪-১৫ সালে ভারত ৪.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৪.৮ লাখ টন মহিষের মাংস রপ্তানি করে, যার গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি তিন হাজার ২৪০ ডলার। এর পরবর্তী বছরগুলোতে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্যের পাশাপাশি টনপ্রতি গড় প্রাপ্তিও কমে ২,৭০০-৩,০০০ ডলারে নেমে আসে।
এই মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হয় ২০২৪-২৫ সালে, যখন টনপ্রতি তিন হাজার ২৩৬ ডলার একক মূল্যে রপ্তানি ৪.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ সালে একক মূল্য বেড়ে ৩ হাজার ৫৯১ ডলার এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন মেয়াদে তা চার হাজার ৩৯২ ডলারে উন্নীত হয়।
ওই কর্মকর্তা জানান, 'প্রতি টন মূল্যের এই উচ্চমূল্য ভারতীয় মহিষের মাংসের অধিক গ্রহণযোগ্যতাকেই নির্দেশ করে। সরকারের নীতির ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। কেবল কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এপিইডিএ) নিবন্ধিত কারখানাগুলোকেই রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়—যা তাদের কঠোর নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামোগত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। আমরা নিয়মিত এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এই নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করি।'
ভারতে এপিইডিএ-অনুমোদিত ৮৩টি সমন্বিত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ২,০০০ মহিষ প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি, রপ্তানির উদ্দেশ্যে এপিইডিএ-র নিকট নিবন্ধিত পাঁচটি স্বতন্ত্র জবাইখানা এবং ১০টি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে।
বাজারের প্রসার
অল-ইন্ডিয়া বাফেলো অ্যান্ড শিপ মিট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ফৌজান আলাভি বলেন, 'গত দুই বছরে আমরা সচেতনভাবে ভারতীয় মহিষের মাংসকে গোমাংসের দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে না রেখে একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করেছি। বিশ্বও আমাদের পণ্যের গুণগত মান এবং নিরাপত্তা মানদণ্ডগুলোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।'
অতীতে যেখানে প্রতি টন ভারতীয় মহিষের মাংস ৩ হাজার ডলারে রপ্তানি করা হতো, বিপরীতে ব্রাজিলীয় গরুর মাংসের দাম ছিল টনপ্রতি ৫ হাজার ডলার। তখন দামের যে ব্যবধান ছিল, তা এখন কমে প্রতি টনে ৫০০-৭০০ ডলারে নেমে এসেছে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গবাদি পশুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য দেশটির সম্ভাব্য রপ্তানির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ লাখ টন (ক্যাসাস ওয়েট ইকুইভ্যালেন্ট বা মৃতদেহের ওজনের সমতুল্য), যা ব্রাজিলের ৪২৮ লাখ টন এবং অস্ট্রেলিয়ার ২১৬ লাখ টনের ঠিক পরেই অবস্থান করছে।
দেশটির শীর্ষ তিনজন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো— মুম্বাইভিত্তিক অ্যালানাসনস প্রাইভেট লিমিটেড, আবুধাবিভিত্তিক লুলু গ্রুপের মালিকানাধীন ফেয়ার এক্সপোর্টস ইন্ডিয়া এবং আগ্রার এইচএমএ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।
ভারতীয় মহিষের মাংস, যাকে 'ক্যারাবিফ' ও বলা হয়। এটি সসেজ, বার্গার প্যাটি, ইমালসিফাইড নাগেট, ক্যানজাত এবং রেডি-টু-ইট পণ্যের মতো প্রক্রিয়াজাত শিল্পজাত খাবারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে ২০-৩০ কেজির পাইকারি হিমায়িত ব্লকের পরিবর্তে এক কেজি বা তার কম ওজনের খুচরা প্যাকেটের মাধ্যমে বিক্রি বাড়িয়ে অধিক মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে।
গত ২৯ অক্টোবর থেকে এপিইডিএ সমস্ত হিমায়িত ও ঠাণ্ডা মহিষের মাংসের রপ্তানির ওপর প্রতি টনে ২৫০ টাকা শুল্ক আরোপ করছে। এই অর্থ মাংস রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে জমা হয়, যা ২০০৮ সালে বাসমতি চালের জন্য তৈরি তহবিলের অনুরূপ। ফৌজান আরও জানান, 'এই তহবিলটি নতুন ও বর্তমান উভয় বাজারেই রপ্তানি প্রসারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের ভিজিট এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতা মেলা স্পনসর করা থেকে শুরু করে বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিতকারী অ-শুল্ক বাধাগুলো দূর করার মতো কার্যক্রম।'
তাদের এই প্রচেষ্টাগুলো যে সফল হচ্ছে, তা রপ্তানি গন্তব্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়।
১৪-২০১৫ অর্থবছরে, ভারতের ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের মহিষের মাংসের রপ্তানির ৪৫ শতাংশ গিয়েছে ভিয়েতনামে (২.২ বিলিয়ন ডলার), এরপরেই ছিল মালয়েশিয়া (৪২ কোটি ২৯ লাখ ডলার), মিশর (৪২ কোটি ২৩ লাখ ডলার), থাইল্যান্ড (৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলার), সৌদি আরব (২৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৩ কোটি ৮ লাখ ডলার), আলজেরিয়া (১২ কোটি ৫১ লাখ ডলার) এবং ফিলিপাইন (১১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার)।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসে এ চিত্র বদলে গেছে। মোট ৫.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১০টি দেশ প্রত্যেকে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের মাংস আমদানি করেছে যার মধ্যে ভিয়েতনাম (৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার), মিশর (৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার), মালয়েশিয়া (৬৫ কোটি ৪১ লাখ ডলার), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৪৪ কোটি ৪২ লাখ ডলার), সৌদি আরব (৩৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলার), উজবেকিস্তান (৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার), ইন্দোনেশিয়া (৩০ কোটি ১৩ লাখ ডলার), ইরাক (৩০ কোটি ১ লাখ ডলার), ফিলিপাইন (১৭ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং জর্ডান (১০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার)।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'উজবেকিস্তান একটি নতুন বাজার। এছাড়া আরও কিছু দেশ উল্লেখযোগ্য ক্রেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে: রাশিয়া (৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলার), জর্জিয়া (৭ কোটি ৫ লাখ ডলার), ওমান (৮ কোটি ২৭ লাখ ডলার) এবং সেনেগাল (৭ কোটি ৯ লাখ ডলার)।'
দুগ্ধ অর্থনীতিকে সহায়তা
মহিষের মাংস রপ্তানির সাফল্যের গল্পটি কেবল একক প্রতি মূল্য প্রাপ্তি বৃদ্ধির বাজার সম্প্রসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতের প্রাণিসম্পদ অর্থনীতি এবং এর দুগ্ধ খামারিদের স্বার্থের দিক থেকেও অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ভারত গরুর মাংস রপ্তানির অনুমতি দেয় না। এমনকি ক্যারাবিফ বা মহিষের মাংসও কেবল সেই সমস্ত মহিষ থেকে সংগ্রহ করা হয়— যেগুলি প্রায় পাঁচটি বাচ্চা প্রসব বা ল্যাকটেশনের পর পর্যাপ্ত দুধ দেয় না (তখন যেগুলোর বয়স ৮-৯ বছর হয়), উর্বরতা হারায়, যাদের ওলান ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা যেগুলো পুরুষ জাতের হয়।
খামারিদের জন্য এই ধরনের মহিষ লালন-পালন করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, কারণ এটি বর্তমান বা ভবিষ্যতের দুধ উৎপাদনকারী গবাদি পশুর জন্য বরাদ্দকৃত পশুখাদ্য, খাদ্য, পানি এবং শ্রমের অপব্যয় করে।
উৎপাদনক্ষমতাহীন প্রাণীদের একটি বাজার তৈরি করে দেওয়ায়, মাংস রপ্তানি শিল্প দুগ্ধ খাতের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ৪০০ কেজি ওজনের একটি মহিষ থেকে প্রায় ১২৫ কেজি মাংস পাওয়া যায়, যার বাকি অংশ তৈরি করে হাড়, চামড়া, ভোজ্য ও অ-ভোজ্য নাড়িভুঁড়ি, রক্ত, শিং, খুর এবং হজম না হওয়া খাবার বা পরিপাকতন্ত্রের অবশিষ্টাংশ।
প্রতিটি মহিষ থেকে গড়ে ১০০ কেজি হাড়হীন মাংস পাওয়ার হিসাব করলে, বার্ষিক ১৪-১৫ লাখ টন রপ্তানির জন্য ১.৪ থেকে ১.৫ কোটি প্রাণী জবাই করতে হবে। ২০১৯ সালের প্রাণিসম্পদ শুমারি অনুযায়ী ভারতের মোট ১১ কোটি মহিষের কথা বিবেচনা করলে, এটি খামারিদের কম দুধ উৎপাদনকারী বা বয়স্ক পশুগুলোকে নিয়মিতভাবে উচ্চ দুধ উৎপাদনকারী বা তরুণ পশুর সাথে প্রতিস্থাপন করার সুযোগ করে দেয়। বাণিজ্যিক দুগ্ধ খামারের ক্ষেত্রে সুপারিশকৃত পশুপালের পরিবর্তনের অনুপাত ২৫-৩০ শতাংশ।
শিল্প খাতের একজন সূত্র জানান, 'ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাংস উৎপাদনের জন্য পালিত গরুর সাথে দুগ্ধ খামারের গরুর সীমিত সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা করতে হয়। কিন্তু ভারতে আমাদের এ ধরনের কোনো প্রতিযোগিতা নেই, কারণ এখানে গরুর মাংস বা মহিষের মাংসের জন্য বিশেষভাবে গবাদি পশু লালন-পালন করা হয় না। কেবল দুধ দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া মহিষগুলোকে বাছাই করে বাদ দেওয়া হয়, যা মূলত দুগ্ধ খাতের জন্য অত্যন্ত উপকারী।'
জবাইখানাগুলো মহিষের জন্য যে ক্রয়মূল্য পরিশোধ করে তা মৃতদেহের ওজনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়—মূলত মাংস ও হাড়ের ওজন। এটি সাধারণত জীবন্ত ওজনের ৪৭-৪৮ শতাংশ, যা ৪০০ কেজি ওজনের একটি মহিষের ক্ষেত্রে প্রায় ১৯০ কেজি হয়। বর্তমানে উত্তর প্রদেশের প্ল্যান্টগুলোতে সরবরাহকৃত পশুর ক্ষেত্রে প্রতি কেজি মৃতদেহের ওজনের চলতি হার ৩০৩-৩২০ টাকা (বা উত্তর প্রদেশে প্ল্যান্টে প্রতি কেজি মৃতদেহের ওজনের বর্তমান দর ৩০০-৩২০ টাকা)। ১৯০ কেজির ক্ষেত্রে, যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৮০০ টাকা।
একজন দুগ্ধ খামারির জন্য ৩.৫-৪ বছর বয়সী, প্রথমবার দুধ দিচ্ছে এবং বার্ষিক দুই হাজার লিটার বা তার বেশি দুধ উৎপাদনে সক্ষম এমন একটি মহিষের দাম ১.২৫ থেকে ১.৫০ লাখ টাকা। খামারি যদি একটি বয়স্ক বা অনুৎপাদনশীল মহিষের জন্য ৫০ হাজার টাকা পান, তবে তা নতুন কোনো উৎপাদনশীল পশুর দামের অন্তত এক তৃতীয়াংশ খরচ মেটাতে পারে। এভাবেই মাংস শিল্প পুরনো মহিষগুলোকে নতুন পশু দিয়ে নিয়মিত প্রতিস্থাপন করার সুযোগ দিয়ে খামারির দুগ্ধ ব্যবসার টিকে থাকাকে আরও সহজ করে তোলে।
মহিষের ওপর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
গুজরাট কোঅপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর. এস. সোধির মতে, বর্তমান সময়ে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ ভারতে উচ্চ-ফ্যাটযুক্ত দুধের চাহিদা সাধারণ টোনড দুধের তুলনায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা ঘি, ক্রিম, পনির, আইসক্রিম এবং খোয়া-ভিত্তিক মিষ্টির ক্ষেত্রেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। এগুলোর ওপর পণ্য ও পরিষেবা করের (জিএসটি) হার ০-৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সম্প্রতি ভেজাল ঘি এবং সিন্থেটিক খোয়া ও পনিরের বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে এসব পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এগুলোর সবকিছুর জন্যই উচ্চ-ফ্যাটযুক্ত দুধের প্রয়োজন হয়, যা মূলত মহিষ থেকেই আসে।'
উত্তর প্রদেশের দুগ্ধ প্ল্যান্টগুলো প্রতি কেজি ফ্যাটের বিপরীতে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকা দরে মহিষের দুধ সংগ্রহ করছে। ৬.৫ শতাংশ ফ্যাটযুক্ত দুধের ক্ষেত্রে এর আনুপাতিক দাম দাঁড়াবে প্রতি লিটারে ৫৯ থেকে ৬২ টাকা। দুধ বিক্রি থেকে প্রতি লিটারে গড়ে ৬০ টাকা এবং অনুপযুক্ত প্রাণী থেকে ৫০ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ থাকায়, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদার প্রেক্ষাপটে খামারিরা মহিষ লালন-পালন করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
মহিষের মাংস রপ্তানিকারকরা নীতিগত পূর্বাভাসযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা চাইছেন। তারা উত্তর প্রদেশের পাঁচটি প্ল্যান্টের কথা উল্লেখ করেছেন— এ. কিউ. ফ্রোজেন ফুডস (আমরোহা), আল-ফালাহ গ্লোবাল এবং আল-রেহমান ফ্রোজেন ফুডস (সম্ভল), আল হক ফুডস (উন্নাও) এবং ওমর ইন্টারন্যাশনাল (বিজনৌর)—যেগুলো এপিইডিএ নিবন্ধনের সমস্ত নিয়ম মেনে চলার পরেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পূর্বে উল্লেখ করা শিল্প খাতের সূত্র আরো জানান, 'যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন — গরু জবাই করা যাবে না এবং লাইসেন্স ছাড়া কোনো অবৈধ জবাইখানা চলতে পারবে না— দুটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। আর আমরা এটিকে পুরোপুরি স্বাগত জানাই। আমাদের সমস্যা হলো যখন নিচের স্তরের কর্মকর্তারা শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্ধারিত নিয়মের চেয়ে ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করেন।'
