জেন-জিকে গো-রক্ষায় সচেতন করতে ১০ হাজার ‘গো-মিত্রকে’ প্রশিক্ষণ দেবে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার
তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি'কে গো-রক্ষা অভিযানে সম্পৃক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। এর অংশ হিসেবে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ হাজার 'গো মিত্র' বা গোরক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে
মূলত গো-রক্ষাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি, প্রাকৃতিক কৃষি, সবুজ শক্তি, নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বনির্ভর মডেল গড়ে তোলা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
রোববার (১৬ আগস্ট) উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, 'মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার এবার পুরো উত্তরপ্রদেশে জেন-জি'কে গো-রক্ষা অভিযানে যুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের গো-রক্ষা, গো-সেবা এবং এর পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি বোঝানো হবে। এই কাজের জন্য দেশজুড়ে ১০ হাজার গোরক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার।'
সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, 'প্রশিক্ষণের শুরুতে একটি 'মাস্টার ট্রেইনার' দল তৈরি করা হবে, যারা পরে মাঠপর্যায়ে অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন। আর যারা আগেই গো-রক্ষা ও গোসেবায় নিজেদের আগ্রহ দেখিয়েছেন, প্রশিক্ষণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তারাই প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন। এর মাধ্যমে যোগী সরকার গো-রক্ষার সঙ্গে প্রাকৃতিক চাষাবাদ, নারী ক্ষমতায়ন, গ্রিন এনার্জি ও স্থানীয় কাজের সুযোগ তৈরি করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে চাচ্ছে।'
এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ 'গো-সেবা আয়োগ'-এর চেয়ারম্যান শ্যাম বিহারী গুপ্ত বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গো-রক্ষাকে রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো গো-রক্ষা কার্যক্রমকে কেবল চার দেওয়ালের গো-শালার মধ্যে আটকে না রেখে, একে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা। এই ভাবনার আলোকেই গো-শালাগুলোকে এখন গোবর ও গো-মূত্রভিত্তিক অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব জৈব চাষ, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ নানা বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, নতুন এ পদক্ষেপে শিশু ও যুবকদের যুক্ত করার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। গ্রামের মাঠে মাঠে ক্যাশ-ক্যাম্পের মাধ্যমে তরুণদের দেশি জাতের গবাদি পশু, গো-সেবা, আধুনিক প্রাকৃতিক চাষাবাদ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে পশুর অবদান তুলে ধরা হবে। যাতে নতুন প্রজন্ম গো-রক্ষার কেবল ধর্মীয় নয়, বরং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বটাও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে।
প্রচারণাটি সফল করতে সরকার গ্রামগঞ্জে প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছে। সেই লক্ষ্যে দক্ষ মাস্টার ট্রেইনাররাই পর্যায়ক্রমে অন্য স্থানীয় অধিবাসীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তুলবেন।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে মালিকানাহীন গবাদি পশুর সুরক্ষায় বর্তমানে একটি বড় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুরো রাজ্যজুড়ে বর্তমানে ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি সরকারি গো-শালা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ লাখের বেশি গবাদি পশুর লালন-পালন ও আবাসন রয়েছে। এসব পশুর যত্ন নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার তাদের দৈনিক বাজেটও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পূর্বে প্রতিটি পশুর খাবারের খরচ বাবদ দৈনিক ৩০ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সিংহভাগ গো-শালাকেই বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
