রেসিপিতে আসছে স্থায়ী পরিবর্তন, স্বাদ বদলে ফেলছে সেভেন আপ
প্রায় এক শতাব্দী আগে বাজারে আসার পর লেবু ও লাইমের স্বাদকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল সেভেন আপ। এবার ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো পানীয়টির স্বাদ পরিবর্তন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় সেভেন আপ স্থায়ীভাবে এর প্রস্তুতপ্রণালি বদলাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় স্বাদের চাহিদা বাড়ায় নতুন স্বাদে লেবুর পরিমাণ সামান্য কমিয়ে লাইমের স্বাদকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে।
সেভেন আপের মূল প্রতিষ্ঠান কিউরিগ ড. পেপারের প্রধান বিপণন ও উদ্ভাবন কর্মকর্তা ড্রু পানাইয়োতু সিএনএনকে বলেন, 'লাইমের স্বাদকে আরও সামনে নিয়ে আসা একটি উন্নতি। তবে এমন নয় যে আগের স্বাদে কোনো সমস্যা ছিল।' নতুন প্রস্তুতপ্রণালি তৈরি করতে দুই বছর সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, 'আমরা সব সময় চাই, আমাদের বর্তমান ক্রেতারা যেন এটি পছন্দ করেন এবং একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছেও এটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।'
এই পরিবর্তন মূলত তরুণ ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে। কিউরিগ ড. পেপারের গবেষণায় দেখা গেছে, জেনারেশন জেড ও জেনারেশন আলফার সেভেন ২ শতাংশ পানীয়প্রেমী লাইমের মতো সাইট্রাসের স্বাদ বেশি পছন্দ করেন।
নতুন মোড়কেও সেই পরিবর্তনের ছাপ থাকবে। সেখানে 'লাইম লেমন' শব্দ দুটি উল্টো ক্রমে বড় করে লেখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে নতুন উল্লম্ব লোগো। সেভেন আপের নতুন প্রস্তুতপ্রণালি চেরি সেভেন আপেও ব্যবহার করা হবে। আগস্টের মাঝামাঝি বাজারে আসা চিনি ছাড়া সংস্করণগুলোতেও থাকবে এই নতুন প্রস্তুতপ্রণালি।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্কানার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে লেবু-লাইম কোমল পানীয়ের বাজারের আকার ৫০০ কোটি ডলার। সেভেন আপও এর মূল প্রতিষ্ঠান কিউরিগ ড. পেপারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্র্যান্ড। গত দুই বছরে সেভেন আপের আয় বেড়েছে। শার্লি টেম্পল ও এন্ডলেস সামারের মতো জনপ্রিয় ও সীমিত সময়ের জন্য বাজারে ছাড়া নতুন পণ্যগুলো এই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
এতে কিউরিগ ড. পেপারের ব্যবসায়ও গতি এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোমল পানীয় বিভাগ ১০ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এই বিভাগটির ব্যবসার পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছায়। আগের বছরের তুলনায় তা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছিল।
পানাইয়োতু বলেন, 'সেভেন আপের প্রবৃদ্ধির ধারা ভালো।'
তবে লেবু-লাইম কোমল পানীয়ের বাজারে এখনও কোকা-কোলার স্প্রাইটের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৫ সালের বিক্রিতে স্প্রাইটের বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ৯ শতাংশ। বেভারেজ ডাইজেস্টের তথ্য অনুযায়ী, ১ দশমিক ২ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব নিয়ে অনেক পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সেভেন আপ।
এদিকে পেপসিকোর মালিকানাধীন স্টারি ও পপ্পির মতো ছোট ব্র্যান্ডও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি অলিপপ ও জেভিয়ার মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা পানীয়গুলোও একই ক্রেতাদের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।
মিন্টেলের খাদ্য ও পানীয় বিভাগের প্রধান কৌশলবিদ অ্যালেক্স বেকেট বলেন, 'তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও নস্টালজিয়া তৈরি করা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সাইট্রাস স্বাদের চাহিদা অনেক বেশি।'
তিনি বলেন, 'যেখানে ব্র্যান্ডের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সেভেন আপের এই পরিবর্তন তাদের নিজস্ব স্বকীয়তাকেই তুলে ধরছে।'
তবে দীর্ঘদিনের পরিচিত কোনো পানীয়ের স্বাদ বদলানো ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। এর বড় উদাহরণ 'নিউ কোক'। কোকা-কোলা একসময় তাদের পরিচিত স্বাদ বদলে নতুন স্বাদ বাজারে এনেছিল। কিন্তু সেই পরিবর্তন গ্রাহকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
তবে সেভেন আপের পানাইয়োতুর মতে, পরিবর্তন না করার মধ্যেও বড় ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, 'ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো স্থবির হয়ে যাওয়া এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না চাওয়া। আপনি যদি একই জায়গায় পড়ে থাকেন, তখনই ব্যবসার গতি কমতে শুরু করে এবং বিক্রি কমে যায়।'
