যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এটিই ইরানের 'শেষ সুযোগ': হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া সর্বশেষ দফার আলোচনাকে এটিই "শেষ সুযোগ" বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার শেষ রাতে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং অন্যান্য দেশের অনুরোধে বর্তমানে এই আলোচনা চলছে।
এই হুমকির জবাবে ইরান বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট 'তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে' পারেন।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যম কান-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মহসিন রেজাই দেশটির টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, 'হরমুজ প্রণালিতে আমরা দ্বিতীয় কোনো করিডোর খুলতে দেব না। প্রণালি কাছাকাছি আসা যেকোনো যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক বাহিনীকে আঘাত করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে পারে।'
এছাড়া আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনা চলছে বলে কিংবা ভবিষ্যতে এমন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে—তেহরান তা শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তেহরান তার সীমান্ত রক্ষা করা অব্যাহত রাখবে। তবে তারা এই সংঘাতকে আর বাড়াতে চায় না বলেও জোর দেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, "একটি ভালো সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ।"
এর আগে সোমবার এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের "অবিশ্বাস্য রকমের প্রতারক" হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে, "ইরান স্বীকার করুক বা না করুক," শান্তি আলোচনা কিন্তু চলছে এবং তারা এ নিয়ে মিথ্যা বলছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাকে আবারও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো জরুরি পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান বর্তমানে শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে সোমবার থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হচ্ছে দাবি করে দেশটির ওপর "ব্যাপক হামলা" চালানোর পরিকল্পনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের পর বাজার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় বেশ কমে গিয়েছিল। তবে জ্বালানি বাজারকে বিপর্যস্ত করে তোলা এই সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান দৃশ্যমান কি না—তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হওয়ায়, আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও কিছুটা বেড়ে যায়।
