শেভরন-এক্সন অনেক মুনাফা করছে, আমি এটা পছন্দ করছি না, তেলের দাম কমাও: ট্রাম্প
জ্বালানি তেলের চড়া মূল্যের সুযোগ নিয়ে মার্কিন তেলের জায়ান্ট কোম্পানিগুলো 'অত্যধিক মুনাফা' করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমি বিষয়টি মোটেও পছন্দ করছি না। শেভরন অনেক বেশি টাকা কামাচ্ছে, এক্সনমোবিলেরও একই অবস্থা। তারা বড্ড বেশি মুনাফা করছে।'
তিনি সরাসরি এক্সনমোবিল ও শেভরনের নাম উল্লেখ করে বলেন, এই কোম্পানিগুলোর উচিত তাদের বিশাল মুনাফার একটি অংশ সাধারণ জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই কোম্পানি দুটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার তথ্য সামনে আসার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।
ট্রাম্পের এই কঠোর সমালোচনার বিষয়ে এক্সন এবং শেভরনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার সকালে ট্রাম্প শেভরনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মাইক ওয়ার্থের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফক্স নিউজ চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে ওয়ার্থ উপস্থিত হলেও তেল শিল্পের উন্নয়নে ট্রাম্প প্রশাসনের অবদানের কথা স্বীকার না করায় ট্রাম্প চটে যান। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তিনি লেখেন, 'তিনি (ওয়ার্থ) বলতে ভুলে গেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের দূরদর্শিতা, শক্তি এবং স্থিতিশীলতা ছাড়া তেল শিল্প এবং আমাদের দেশ আজ মৃতপ্রায় থাকতো!'
উদাহরণ টেনে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে একসময় শেভরনকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন তারা সেখানে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে এবং মুনাফার আশা করছে।
উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় আগে হুগো শ্যাভেজ তেল প্রকল্পগুলো জাতীয়করণ করার সময় এক্সনমোবিল ভেনেজুয়েলা ছেড়ে চলে গেলেও শেভরন সেখানে অবস্থান করেছিল।
এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির পক্ষে সাফাই গেয়েছে তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা 'আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট' (এপিআই)। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানান, বর্তমান চড়া মূল্যের জন্য কোনো একক কোম্পানি দায়ী নয়। বরং বৈশ্বিক সরবরাহ-চাহিদা এবং হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে অস্থিরতাই এর মূল কারণ।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমানো ট্রাম্পের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪.১০ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। ইরান যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'তাদেরকে (তেল কোম্পানি) অবশ্যই খুচরা পর্যায়ে দাম কমাতে হবে।' তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।
গত সপ্তাহের আয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এক্সনমোবিল, শেভরন, ভ্যালেরো এনার্জি এবং ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামের মতো কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করেছে। ভ্যালেরো ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের পর তাদের সর্বোচ্চ মুনাফা রেকর্ড করেছে এবং শেভরন গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় করেছে।
মূলত জনসমক্ষে চাপ প্রয়োগ করে কর্পোরেট আমেরিকার আচরণ পরিবর্তন করা ট্রাম্পের পুরনো কৌশল। তার প্রথম মেয়াদেও তিনি গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বজায় রাখতে, প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের খরচ কমাতে এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ওষুধের দাম কমাতে একইভাবে চাপ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পরও তিনি সেই একই ধারা বজায় রাখছেন।
