যুক্তরাজ্যের বারস্টলে মৌচাকে আগুন, পুড়ে মরল ২ লাখ মৌমাছি
এক সন্দেহজনক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক মৌচাষির প্রায় দুই লাখ মৌমাছি মারা গেছে ও কয়েক হাজার পাউন্ড মূল্যের সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ক্ষয়ক্ষতিতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
'বার্সটল বি ম্যান' নামে পরিচিত অ্যান্ড্রু ডার্ট বুধবার, ২৯ জুলাই, আগুনে পুড়ে যাওয়া তার মৌচাকের খামারের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান।
৬৩ বছর বয়সী এই মৌচাষি বেশ কয়েকটি মৌচাক, প্রায় আড়াই হাজার পাউন্ড মূল্যের মৌমাছি পালনের সরঞ্জাম এবং একটি পুরো মৌসুমের সংগৃহীত মধু হারান, যার মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার পাউন্ড।
পাশের একজন বাসিন্দা বিকেলের দিকে খামার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে দমকল বাহিনীকে খবর দেন।
তবে যুক্তরাজ্যের পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের বার্সটলের বাসিন্দা অ্যান্ড্রু বলেন, আর্থিক ক্ষতির চেয়ে মৌমাছিগুলোকে হারানোর বেদনাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভেঙে দিয়েছে।
ঘটনার পরদিন তিনি বলেন, "আজ আমাদের হৃদয় ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আমরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেই জমিতে আগুন লাগিয়েছে, যেখানে আমাদের কয়েকটি মৌচাক রাখা ছিল। আর্থিক ক্ষতি অবশ্যই ভয়াবহ। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে আমাদের মৌমাছিগুলোর অবস্থা।"
তিনি আরও বলেন, "এগুলো আমাদের কাছে শুধু মৌচাক নয়। এগুলো জীবন্ত উপনিবেশ, যাদের আমরা বছরের পর বছর ধরে যত্ন করে লালন-পালন করেছি। তারা কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, সেই ভাবনাই আমাদের বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে।"
অ্যান্ড্রুর ধারণা, কোনো মৌমাছিই প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, মৌমাছিগুলো সাধারণত তাদের রাণী মৌমাছির সঙ্গেই থেকে যায়। আর আগুনের তাপে গলে যাওয়া মোম তাদের ডানায় লেগে যাওয়ায় তারা নিরাপদ স্থানে উড়ে যেতে পারেনি।
সমর্থকদের অনুরোধের পর অ্যান্ড্রু ধ্বংস হয়ে যাওয়া সরঞ্জামগুলো আবার কেনার জন্য একটি অর্থ সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেন।
তিনি বলেন, "আমি আসলে অর্থ সংগ্রহের এই উদ্যোগ নিতে চাইনি। আমি তো শুধু একজন সাধারণ মানুষ, যে মৌমাছি পালন করে।"
প্রথমে এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল আড়াই হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই লক্ষ্য অতিক্রম করে যায়।
এতে মানুষ তাকে 'লোভী' ভাবতে পারে—এমন আশঙ্কায় অ্যান্ড্রু সাময়িকভাবে অনুদান গ্রহণ বন্ধ করে দেন। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ অনুদান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালে তিনি আবারও অর্থ সংগ্রহের পেইজ খুলে দেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত এই তহবিলে ১৩ হাজার ৭০০ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ জমা পড়ে।
তিনি বলেন, "ঘটনাটা অবিশ্বাস্য। এটা যেন বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।"
অ্যান্ড্রু অনুদান দেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি হ্যাগার্টস কসাইখানা এবং বার্সটল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অর্থ সংগ্রহের এই প্রচারণা সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ছয়টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল।
পুনর্গঠনের ব্যয় মেটানোর পর অতিরিক্ত যে অর্থ থাকবে, তা শিশুদের হৃদ্রোগ অস্ত্রোপচার তহবিল, মৌমাছি-সংক্রান্ত দাতব্য সংস্থা এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্রকল্পে দান করা হবে।
অর্থ সংগ্রহের পেইজে অ্যান্ড্রু লিখেছেন, "আমাদের কমিউনিটির মানুষের পরামর্শে আমরা এই অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে সেই জমি ধ্বংস করেছে, যেখানে আমাদের কয়েকটি মৌচাক রাখা ছিল। এতে আমাদের মৌচাকের খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েক হাজার পাউন্ড মূল্যের অত্যাবশ্যকীয় মৌচাষের সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, "সরঞ্জাম হারানো অবশ্যই অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় হৃদয়ভাঙা কষ্ট হলো আমাদের মৌমাছিগুলোর ওপর এর প্রভাব। যারা আমাদের চেনেন, তারা জানেন আমাদের কাছে মৌমাছি কখনোই 'শুধু মৌমাছি' নয়। এগুলো জীবন্ত উপনিবেশ, যাদের আমরা বছরের পর বছর ধরে যত্ন করেছি, রক্ষা করেছি এবং লালন-পালন করেছি।"
তাদের কল্যাণই সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল বলে জানান অ্যান্ড্রু। আর এত মর্মান্তিক একটি ঘটনার প্রভাবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
তিনি বলেন, "এই উপনিবেশগুলোর যত্ন নেওয়া এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মধু সংগ্রহের জন্য আমরা বছরের পর বছর শ্রম দিয়েছি। এটি শুধু হারিয়ে যাওয়া সরঞ্জামগুলো আবার কেনার বিষয় নয়। বরং বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সবকিছু আবার নতুন করে দাঁড় করানোর এবং আমাদের মৌমাছিগুলোকে পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ করে দেওয়ার লড়াই।"
অ্যান্ড্রু জানান, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতির কারণে আগামী বছরের মধু উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় মধুর সরবরাহ অনেক কমে যাবে।
