কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ঠেকাতে সীমান্তে ‘দেয়াল’ তুলতে চান ট্রাম্প, পোস্ট করলেন এআই জেনারেটেড ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে আবারও দেশটির সমালোচনা করেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এমন একটি পোস্ট করেন, যেখানে কানাডা সীমান্তজুড়ে বিশাল একটি কৃত্রিম 'এয়ার ফিল্টার' বা বায়ু পরিশোধক দেয়ালের এআই-নির্মিত ছবি দেখানো হয়।
এআই নির্মিত ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তজুড়ে স্থাপিত কাল্পনিক কাঠামোটিকে 'নর্থ আমেরিকা এয়ার ফিল্টার ব্যারিয়ার' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এর নিচে লেখা রয়েছে, 'ক্লিন এয়ার। ক্লিন বর্ডার্স.' (বিশুদ্ধ বাতাস, সুরক্ষিত সীমান্ত)।
ছবিটি ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি—মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ—এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার বড় অংশ এখনও অসমাপ্ত।
এআই-নির্মিত ওই ছবিতে অবশ্য একটি ত্রুটি ছিল। বিশাল 'এয়ার ফিল্টার' কাঠামোর দুই পাশেই উজ্জ্বল নীল আকাশ ও সাদা মেঘ দেখা যায়, যা ছবিটির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেননি।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'বাণিজ্য বৈষম্য' করার অভিযোগ এনে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।
এ মাসের শুরুতে কানাডার দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়েও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেন তিনি। ওই ধোঁয়ার কারণে ডেট্রয়েট, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ কয়েকটি শহরের বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়।
শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'ধোঁয়ার কারণে আমরা কানাডার ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছি।' সিবিসি/রেডিও-কানাডার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা আগের শুল্কগুলো বাতিল করে রায় দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
২০২৪ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বার জয়ী হওয়ার পর থেকেই কানাডাকে নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করে '৫১তম অঙ্গরাজ্য' বানানো উচিত।
তখন তিনি কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ব্যঙ্গ করে 'গ্রেট স্টেট অব কানাডার গভর্নর' বলে উল্লেখ করেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকেও 'কানাডার ভবিষ্যৎ গভর্নর' বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপের জবাবে কানাডায় 'বাই কানাডিয়ান' নামে একটি বয়কট আন্দোলন শুরু হয়। গ্লোবাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে কানাডীয়দের ভ্রমণ ২১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়।
এছাড়া কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ সরকারি নিয়ন্ত্রিত মদের দোকানে মার্কিন মদ বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফক্স নিউজের মার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে কেনটাকি বার্বনসহ অন্যান্য মার্কিন মদ রপ্তানি প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যায়। একসময় কানাডা ছিল মার্কিন মদ প্রস্তুতকারকদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ কানাডীয় ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন না। তবে গ্যালাপের এক জরিপে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক কানাডা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন।
