‘গোটা দেশটাকেই উড়িয়ে দেব নাকি? দিলে কখন দেব?’: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন জল্পনার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গোটা ইরানকে 'উড়িয়ে দেওয়ার' কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি চাইলে নৌ-অবরোধে থাকা ইরানকে 'অর্থনৈতিকভাবে পচে মরতে' দিতে পারেন, অথবা শান্তি চুক্তিও করতে পারেন।
এদিকে রোববার ইরান বলেছে, সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। হামলা হলে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাতের জেরে এই উইকএন্ডে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিডে অবকাশ কাটাতে যাওয়া ট্রাম্প অকস্মাৎ হোয়াইট হাউসে ফেরেন। রোববার ফক্স নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এখন 'সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুডে' আছেন, এবং 'অদূর ভবিষ্যতেই অনেক বড় কিছু ঘটতে চলেছে'।
ট্রাম্পের দাবি, তার সামনে এখন তিনটি পথ আছে: 'ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, ওদের অর্থনৈতিকভাবে পচে মরতে দেওয়া, অথবা একটা চুক্তিতে আসা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কি গোটা দেশটাকে উড়িয়ে দেব? দিলে, কখন দেব?'
তেহরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় বা স্থায়ী শান্তি চুক্তি—ট্রাম্প এখনও কোনোটাই অর্জন করতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটেই আগ্রাসী সুর ফিরল মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়।
এর আগেও তিনি 'গোটা দেশটিকে উড়িয়ে দেওয়ার' হুমকি দিয়েছিলেন। বোমা ফেলে ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' ফেরত পাঠানোর কথাও বলেছিলেন। মে মাসে তিনি বলেছিলেন: 'আজ রাতে একটা গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।'
মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের পুরো মেয়াদকাল, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এ যুদ্ধ গড়াতে পারে।
রোববার ইরানের সামরিক কমান্ড বলেছে, তাদের হাতে গোয়েন্দা তথ্য এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে যুক্তরাষ্ট্র ফের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তেহরান।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের 'সম্ভাবনা আছে'।
এর আগে বারবার আলোচনার চেষ্টা ভেস্তে গেছে। এর জেরে ইরানি কর্মকর্তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন ট্রাম্প।
তবে হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যে হস্তক্ষেপ করবে না, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান-সমর্থিত হুথিরা 'আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে'।
চলতি মাসেই এক ঝটিকা সামরিক অভিযানে লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির দখল নিয়েছে হুথিরা। এর অর্থ, ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিতে পারে তারা, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় আঘাত হানবে।
