ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আসা মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নতুন দফার সংঘাতের মধ্যেই ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত ইরানি এবং ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহরান সফরকালে আল-জাইদি এই প্রস্তাবটি নিয়ে যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের বিস্তারিত বিবরণ স্পষ্ট নয়, তবে ইরানি কর্মকর্তারা এটিকে বর্তমানে দেওয়া একমাত্র প্রস্তাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ইস্যুটির কোনো সমাধান না থাকায় তেহরান এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল আল-জাইদির প্রথম আনুষ্ঠানিক ইরান সফর। তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় এর আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টিও উঠে এসেছে এবং উভয় সরকারই বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও আঞ্চলিক বিষয়ে ব্যাপক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আল-জাইদি ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প যদি তেহরান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতির কথা ভাবছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দুই ইরানি কর্মকর্তা তাদের বলেছেন যে এ ধরনের হামলা হলে তেহরান আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেবে; যার মধ্যে তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের অনুরোধ জানানোর মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, আজ শুক্রবার ভোরে মার্কিন বাহিনী টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত বুধবার ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত ৫৩ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।
গত ৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে গত মাসে মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। এরপর থেকেই গত দুই সপ্তাহে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তখন থেকে আমেরিকা ও ইরান একে অপরের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে যে তারা অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সাময়িকভাবে আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও মার্কিন স্থাপনা ও স্বার্থে হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
