চীনের এলএনজি কেনাকাটায় বিশ্বব্যাপী গ্যাস বাজারে চাপ বাড়ছে
চীন টানা দ্বিতীয় মাসের মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়িয়েছে, কারণ বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি ক্রেতা দেশটি গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত চীনের কাস্টমসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশটির এলএনজি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টনে পৌঁছেছে। এটি দ্বিতীয় ধারাবাহিক মাস যেখানে চীনের এলএনজি আমদানি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিলে তিন মাস ধরে এলএনজি কার্গো আমদানি কমেছিল দেশটিতে।
তবে এই আমদানি মে মাসে এসে পুনরুদ্ধার শুরু করে, যা আট বছরের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আরও বেশি এলএনজি কার্গো কিনতে শুরু করে এবং তখন থেকেই আমদানির উচ্চ হার বজায় রেখেছে।
এদিকে চীনের বর্ধিত এই আমদানির ফলে আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক এলএনজি বাজার আরও সঙ্কুচিত হবে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ায় এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়— কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ আবারও বাজারের বাইরে থাকছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এশিয়া ও ইউরোপের বাজারের মূল্যসূচকগুলোতে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বেড়েছে, কারণ কাতারের সরবরাহের অনুপস্থিতিতে বিকল্প উৎসের এলএনজি কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। এশিয়া এলএনজি কার্গো আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। এর ফলে ইউরোপ তাদের গ্যাস সংরক্ষণ স্থাপনাগুলো পুনরায় ভর্তি করতে হিমশিম খাচ্ছে। শীতের মৌসুমে বাড়িঘর উষ্ণ রাখার কাজে গ্যাসের বড় চাহিদা থাকে ইউরোপে, এবছরে ইউরোপ গ্রীষ্মে পা রাখে গ্যাসের সর্বনিম্ন মজুত নিয়ে। ফলে মজুত পূরণের চাহিদাটাও ব্যাপক সেখানে। অন্যদিকে, এশিয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজির চাহিদা বরাবরই রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না, এমন রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলোচনা করছে বলেও জানা যাচ্ছে। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি ক্রেতা দেশটি পারস্য উপসাগর থেকে গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে।
চীন কাতারের সঙ্গে তার বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি বাতিল করতে চায় না। তবে একইসঙ্গে উপসাগরীয় সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর বিকল্পও খুঁজছে।
এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত সূত্রগুলো গত শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানায়, পেট্রোচায়না এবং সিনোপেকসহ চীনের কয়েকটি বৃহৎ এলএনজি আমদানিকারক, ২০৩০ সালের আগে চালান শুরু হবে—এমন সম্ভাব্য সরবরাহ পেতে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কমপক্ষে দশ বছর মেয়াদী চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে।
