হরমুজ প্রণালি এড়াতে তুরস্ক ও সিরিয়া হয়ে নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইরাক
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়াতে বসরা থেকে কিরকুক হয়ে তুরস্কের সিহান বন্দর এবং সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত একটি নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে ইরাক সরকার। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ খুদাইর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত শনিবার ওয়াশিংটন থেকে ইরাকি নিউজ এজেন্সি (আইএনএ)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুদাইর বলেন, 'ইরাকি তেল রপ্তানি রুটগুলোর বহুমুখীকরণ এবং কেবল হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না থাকার বিষয়ে আমাদের একটি স্পষ্ট রূপরেখা ও কৌশল রয়েছে।'
তিনি জানান, এ লক্ষ্যে মার্কিন কোম্পানি শেভরন ও টিই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসি নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়েছে।
খুদাইর বলেন, 'মন্ত্রণালয় বর্তমানে বসরা থেকে কিরকুক এবং সেখান থেকে তুরস্কের সিহান বন্দর পর্যন্ত একটি কৌশলগত পাইপলাইন কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালাচ্ছে।' তিনি আরও যোগ করেন, এই প্রকল্পের আওতায় সিরিয়ার বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইনের একটি শাখা সম্প্রসারণের বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বানিয়াসে দেশটির অন্যতম প্রধান তেল পরিশোধনাগার এবং ভূমধ্যসাগরে একটি তেল রপ্তানি টার্মিনাল রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে কিরকুক থেকে স্থলপথে ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহনের জন্য এই পাইপলাইনটি ব্যবহৃত হতো। তবে দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে এই পাইপলাইনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ ইরাক। দেশটি তার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য দীর্ঘ বছর ধরে মূলত হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বারবার বন্ধ হওয়া এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এই বিকল্প রুট তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাগদাদ।
