তেহরানে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ফাঁকে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হামাস প্রতিনিধিদলের বৈঠক
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কয়েক দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান সফররত হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দারউইশের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল গাজা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছে।
হামাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিনিধিদলটি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এসময় হামাস প্রতিনিধিদল খামেনির মৃত্যুতে ইরানের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি খামেনির অবিচল সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসাও করে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটি।
বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, বৈঠকে মূলত গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সর্বশেষ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি, সেখানকার মানবিক সংকট এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, আঞ্চলিক উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলায় দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং পারস্পরিক সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এছাড়া গাজা যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, উপত্যকায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়।
হামাস ও ইরানের কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, মানবিক সহায়তার পরিধি বাড়ানো এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার চরম মানবিক সংকট মোকাবিলায় হামাস যখন বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, ঠিক তখনই এই তেহরানে এই সফর করছেন হামাসের প্রতিনিধিরা।
