আটক অর্থ দিয়ে মার্কিন পণ্য কেনার দাবি মিথ্যা: ইরানের স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের আটক অর্থ ছাড় দেওয়া হলে তা কেবল আমেরিকার কৃষি পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করা হবে। গালিবফ এই দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গালিবফ লিখেছেন, 'আমেরিকা মিথ্যা দাবি করছে যে আমাদের অবমুক্ত করা সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষি পণ্য কেনা হবে।' তিনি আরও লেখেন, 'যে ফসলটি আমরা এখন ঘরে তুলছি তা আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) বপন করেছিলেন—দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাস। । এটি অর্গানিক, অফুরন্ত এবং খাঁটি দেশি।'
একই পোস্টে গালিবাফ কটাক্ষ করে বলেন, ওয়াশিংটন 'জিএমও সয়াবিন, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ এবং ফাঁপা বুলি' ছাড়া আর কিছু রপ্তানি করে না।
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিক আর্থিক সুবিধার অংশ হিসেবে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত হবে।
ট্রাম্পের দাবি, কোনো নগদ অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না। বরং ওই অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা ও গম কেনা হবে এবং ইরানের 'খাদ্যসংকট' মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা হলে সেই অর্থ 'মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধ করবে এবং ইরানের জনগণকে খাদ্য সরবরাহ করবে'।
বৃহস্পতিবার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায়, যা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো মার্কিন প্রশাসনের এই বর্ণনার বিরোধিতা করেছে। তারা সমঝোতার কাঠামোকে কোনো ছাড় নয়, বরং কৌশলগত বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে।
ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, বাকু সফরের সময় গালিবাফ এই সমঝোতা স্মারককে 'যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা' বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, নথিটিতে এমন কোনো আইনি ধারা নেই, যা ইরানকে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করে।
সোমবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদীয়মান সমঝোতার আওতায় অবমুক্ত হওয়া অর্থ কেবল জরুরি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা অব্যাহত থাকায় চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েও মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা ১৮ জুন কার্যকর হয়। ওই দিন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
