১৯ বছর বয়সে হয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি; এবার পেরুর প্রেসিডেন্ট হতে চতুর্থবারের মতো লড়ছেন
১৯৯৪ সালে কেইকো ফুজিমোরির বয়স ছিল মাত্র ১৯। তখন এক অনুষ্ঠানে পেরুর ফার্স্ট লেডি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ ঘটে তার।
কালো পোশাক পরিহিত তরুণীটি ক্যামেরার সামনে কিছুটা লাজুক ও কিছুটা নার্ভাস দেখায়। তিনি তার বাবা, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম 'সামিট অব দ্য আমেরিকাস'-এ অংশ নেন।
কেইকো ফুজিমোরি তার প্রয়াত মা সুসানা হিগুচির পরিবর্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সরকারি দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক অনুদান ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সুসানা হিগুচি তার স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যান। এই ঘটনার পরই কেইকো ফুজিমোরির রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে।
এই রোববার ৫১ বছর বয়সী এই রাজনীতিক রানঅফ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করবেন। এর আগে তিনি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে টানা তিনবার পরাজিত হয়েছিলেন।
এবার তিনি বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজের মুখোমুখি হচ্ছেন। কিছু জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামান্য ব্যবধানে তিনি এগিয়ে আছেন এবং এবার তার জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
ফুজিমোরির দাবি, পেরুর জনগণের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে জর্জরিত দেশটিকে উদ্ধার করার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প।
গত এক দশকে পেরুতে আটজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এসেছেন। দুর্নীতি, অপরাধ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশটির সংকট আরও গভীর হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে এক বিতর্কে রক্ষণশীল এই নেত্রী বলেন, 'আমাদের শৃঙ্খলা দরকার—বেঁচে থাকার জন্য শৃঙ্খলা, বিনিয়োগের জন্য শৃঙ্খলা, কাজ করার জন্য শৃঙ্খলা।'
বিতর্কে তিনি সানচেজের মুখোমুখি হন, যিনি 'হুনতোস পোর এল পেরু' (পেরুর জন্য একসঙ্গে) দলের প্রার্থী।
১৯৯৪ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসের বিল্টমোর হোটেলে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আয়োজিত এক ব্যক্তিগত নৈশভোজে যোগ দিতে পেরুর প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ও তার মেয়ে কেইকো ফুজিমোরিকে দেখা যায়।
কেইকো বলেন, 'আমি জানি এই নির্বাচন আমাকে নিয়ে নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরে আমরা কেমন সরকার এবং কেমন পথ বেছে নিতে চাই তা নিয়ে। আমরা হয় বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা চাই, অথবা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে চাই।'
ফুজিমোরিবাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত কেইকো ২০০০ সালে কংগ্রেস সদস্য হন এবং পরে 'ফুয়ের্সা পপুলার' (জনশক্তি) দল প্রতিষ্ঠা করেন।
দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি ১৩ মাস কারাগারে ছিলেন। অভিযোগ ছিল, তিনি তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়নের জন্য ওডেব্রেখট নির্মাণ কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। তবে তিনি বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আদালত তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি বাতিল ঘোষণা করে।
ফুজিমোরির দাবি, তিনি এক দশক ধরে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
ভিন্ন সুরে প্রচারণা
২০২১ সালের বিতর্কিত রানঅফ নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর কাছে পরাজয়ের পর এবার ভোটারদের মন জয় করতে গিয়ে ফুজিমোরি নিজের রাজনৈতিক জীবনের কিছু ভুল স্বীকার করেছেন।
চূড়ান্ত প্রেসিডেন্ট বিতর্কের শেষে তিনি পেরুর জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন, 'আমি জানি আমার রাজনৈতিক জীবনে ভুল হয়েছে। আমি সেসব থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছি।'
এই নির্বাচনী প্রচারণায় ডানপন্থী এই নেত্রী নিজেকে আগের তুলনায় আরও সংযত, শান্ত এবং কম চরমপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'এটা সত্য যে আমরা সংঘাতমুখী ছিলাম, এবং আমরা সেই অবস্থান সংশোধন করেছি।'
এপ্রিলের ২ তারিখে পেরুর ভেন্তানিয়া জেলায় এক নির্বাচনি সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে দেখা যায় কেইকো ফুজিমোরিকে।
ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হুলিও কারিয়ন সিএনএনকে বলেন, 'ফুজিমোরি, যিনি কেবল কমিউনিজম বা সাম্যবাদ এবং অন্য সব কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছিলেন, নিজের সেই ভাবমূর্তিটি ঝেড়ে ফেলার জন্য একটি আরও সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।'
কারিয়নের মতে, ২০২১ সালে তার অন্যতম বড় ভুল ছিল নির্বাচনকে 'কমিউনিজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' অথবা 'গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম' হিসেবে উপস্থাপন করা।
২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটের পর জনপ্রিয় পুনর্নবীকরণ দলের প্রার্থী রাফায়েল লোপেস আলিয়াগা যে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন, ফুজিমোরি তখন অনেকের প্রত্যাশার বিপরীতে সঙ্গে সঙ্গে সেই অভিযোগে যোগ দেননি।
বাবার উত্তরাধিকার ও ফুজিমোরি-বিরোধী মনোভাব
আলবার্তো ফুজিমোরির জটিল রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কয়েক দশক ধরে পেরুকে বিভক্ত করে রেখেছে।
আগের নির্বাচনি প্রচারণাগুলোতে অনেক ভোটার কেইকো ফুজিমোরিকে তার বাবার কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, তিনি ক্ষমতায় এলে স্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়বে।
আলবার্তো ফুজিমোরি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
তার সরকার দেশটিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে ফিরিয়ে আনে এবং 'শাইনিং পাথ' ও 'এমআরটিএ' সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করে। সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
তবে তার শাসনামল মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগে কলঙ্কিত ছিল। এসব অভিযোগে বহু বছর পরে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
তার বিরুদ্ধে চারটি বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান ছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় ২০০৯ সালে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, বারিওস আলতোস ও লা কানতুতা মামলায় গুরুতর হত্যাকাণ্ড এবং শারীরিক ক্ষতির অপরাধে তিনি জড়িত ছিলেন।
বহু আইনি লড়াই এবং স্বাস্থ্যগত কারণে ক্ষমা পাওয়া নিয়ে বিতর্কের পর সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ২০২৪ সালে মারা যান।
১৯৯৫ সালের ১২ মে লিমার গভর্নমেন্ট প্যালেসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়ার পর আলবার্তো ফুজিমোরিকে তার জ্যেষ্ঠ কন্যা কেইকো ফুজিমোরির হাত উঁচু করে ধরতে দেখা যায়।
'কেইকো নো ভা'—অর্থাৎ 'কেইকো সফল হবে না'—এই স্লোগান নিয়ে নাগরিক সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং মানবাধিকারকর্মীরা গত শনিবার রাজধানী লিমায় তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে মিছিল করেন।
তবে কারিয়নের মতে, ফুজিমোরি-বিরোধী মনোভাব তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগের মতো শক্তিশালী নয়, বিশেষ করে যারা ২০০০ সালের পর জন্মগ্রহণ করেছে।
আরেকটি বিষয় ফুজিমোরির পক্ষে যেতে পারে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজ সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর জনপ্রিয় ভাবমূর্তি অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন, এমনকি তার বিখ্যাত টুপিও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এতে তিনি তেমন সফল হননি।
কারিয়নের ভাষায়, 'তার নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয়ের আকর্ষণ নেই। ২০২১ সালে কাস্তিয়োর যে সাধারণ মানুষের প্রার্থী হিসেবে নতুন ভাবমূর্তি ছিল, সেটিও তার মধ্যে দেখা যায় না।'
একটি ভারী বোঝা বা বড় দায়
তবে সমালোচকদের মতে, ফুজিমোরি জিতুন বা হারুন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেরুর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির জন্য তারও কিছু দায় রয়েছে।
বর্তমান কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ফুয়ের্সা পপুলারের নেত্রী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দলের সংসদীয় সদস্যদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশ পরিচালনা করেন।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি নির্বাহী বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছেন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন, বিশেষ স্বার্থরক্ষাকারী আইন সমর্থন করেছেন এবং কখনও প্রেসিডেন্টদের অভিশংসনে ভূমিকা রেখেছেন, আবার কখনও অন্যদের রক্ষা করেছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনপ্রণেতারা সরকারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিচারক ও কৌঁসুলিদের স্বাধীনতা দুর্বল করেছেন, যার ফলে সংগঠিত অপরাধ আরও বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, অধিকাংশ সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
কারিয়ন বলেন, 'গত তিন-চার বছরে পেরুতে যা ঘটেছে, তার সঙ্গে তার দল এবং তিনি জড়িত। এটি এমন একটি বোঝা, যা তাকে বহন করতে হবে।'
তার মতে, সানচেজের সমস্যা হলো তিনি এই দুর্বলতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেননি, কারণ তিনিও কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তার দল ফুজিমোরির দলের সঙ্গে একসঙ্গে ভোট দিয়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুজিমোরি অস্বীকার করেন যে তিনি বা তার দল পেরুর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সংকটের জন্য দায়ী।
তবে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির সরকারের প্রতি নিজের আচরণ নিয়ে কিছু আত্মসমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, 'আমরা পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির সরকারের প্রতি খুবই সংঘাতমুখী ছিলাম, কিন্তু বাধাদানকারী ছিলাম না। আমরা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো পাস করতে সহায়তা করেছি এবং সংস্কারের জন্য ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত, তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।'
পেরুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অকার্যকারিতা এবং কথিত দুর্নীতির কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
এর প্রতিফলন দেখা গেছে নির্বাচনের প্রথম দফায়, যেখানে ৩৫ জন প্রার্থীর কেউই ২০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।
রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে এখনও অনেক ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন।
আবার কেউ কেউ তাঁদের ভাষায় 'কম ক্ষতিকর' প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, কিছু ভোটার ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট নষ্ট করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে, যারা ফুজিমোরির চতুর্থ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছেন, তাদের বিশ্বাস এবার তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত এবং এমন একটি সরকার গঠন করতে পারবেন যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মধ্য-ডানপন্থী 'লিবেরতাদ পপুলার' (জনগণের স্বাধীনতা) দলের প্রার্থী রাফায়েল বেলাউন্দে।
তিনি সিএনএনকে বলেন, 'মিসেস ফুজিমোরিকে নিয়ে কারও সন্দেহ বা দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু তিনি সংবিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করেছেন, আইন অনুযায়ী পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাজারভিত্তিক অর্থনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের কথা বলেছেন, স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পেরুর দীর্ঘদিনের সামাজিক বঞ্চনা মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছেন।'
বেলাউন্দের দাবি, পাঁচ বছর আগের তুলনায় তিনি এখন আরও শক্তিশালী এক ফুজিমোরিকে দেখেছেন। পাশাপাশি তার মতে, সানচেজ দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন।
রাজনীতিতে প্রবেশের তিন দশকেরও বেশি সময় পর, কেইকো ফুজিমোরির সামনে এখন পেরুর এক দশকে নবম প্রেসিডেন্ট হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
