আকাশে রহস্যময় বস্তু, ইউএফও'র নতুন ভিডিও ও নথি প্রকাশ করল পেন্টাগন
পেন্টাগন শুক্রবার মহাকাশে অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা (ইউএপি) বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সংক্রান্ত ভিডিও এবং নথিপত্রের দ্বিতীয় কিস্তি প্রকাশ করেছে। এটি ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে খুব সামান্যই প্রশ্নের উত্তর দিলেও হোয়াইট হাউসের জন্য এটি একটি প্রিয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই মাসের শুরুতে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ১৬২টি গোপন বা বিরল ইউএফও দর্শনের ফাইলগুলো সরকারি ওয়েবসাইটে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ দেখেছেন। শুক্রবারে প্রকাশিত এসব তথ্যের মধ্যে গত কয়েক দশকের আরও ৫০টি ভিডিও এবং নথি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক ব্যক্তি এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেওয়া সাক্ষ্যও রয়েছে।
পেন্টাগনের মতে, ২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ধারণ করা একটি ভিডিওতে পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে তিনটি ইউএপি-কে একসাথে উড়তে দেখা গেছে। ২০২২ সালের আরেকটি ভিডিওতে ইরানের উপকূলের কাছে সমুদ্রের ওপর দিয়ে চারটি অজ্ঞাত বস্তুকে নৌযানের পাশ দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়।
২০২১ সালে সিরিয়ার আকাশে ধারণ করা ফুটেজে একটি রহস্যময় বস্তুকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে যেতে দেখা যায়, যা অনেকটা 'সায়েন্স ফিকশন সিনেমার তাৎক্ষণিক ওয়ার্প-স্পিড ত্বরণের মতো'। দেখা যাওয়া বস্তুগুলোর খুব সামান্যই প্রচলিতভাবে পরিচিত উড়ন্ত ডিস্কের মতো আকৃতিসম্পন্ন। তবে ২০২২ সালের অক্টোবরের একটি ক্লিপে একটি 'চুরুট আকৃতির' বস্তুকে আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে যেতে দেখা গেছে, যার অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
ভিডিওগুলোর কোনোটির সাথেই কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পেন্টাগনের অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস এর আগে জানিয়েছে যে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া বা লিখিত সাক্ষ্যে বর্ণিত হাজার হাজার বস্তুর মধ্যে কোনোটি যে ভিনগ্রহের কোনো উৎস থেকে এসেছে, এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
গত ৮ মে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা বিভাগ বলেছে যে, জনসাধারণ 'শেষ পর্যন্ত এই ফাইলগুলোতে থাকা তথ্য সম্পর্কে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারে'। এ ছাড়া, এই তথ্যগুলো সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা, এফবিআই, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং নাসাসহ নানা উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
শুক্রবারে প্রকাশ হওয়া এসব ভিডিও ও নথিপত্র এমন একটি বিষয় নিয়ে আরও বিতর্ক বাড়িয়ে দেবে যা কয়েক প্রজন্ম ধরে মানবজাতিকে মুগ্ধ করে রেখেছে৷ এছাড়া এসব নিয়ে কয়েক দশক ধরে সরকারি গোপনীয়তা ও তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্বও কম ডালপালা মেলেনি৷
গত ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএপি এবং ভিনগ্রহের প্রাণের সম্ভাবনা সংক্রান্ত সরকারি ফাইলগুলো প্রকাশের নির্দেশ দেন। এই বিষয়ের প্রতি 'প্রচণ্ড আগ্রহের' কথা উল্লেখ করলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভিনগ্রহের প্রাণী বাস্তব কি না, তা জানেন না বলে জানান। জরিপ বলছে, অধিকাংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেন ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব আছে এবং অর্ধেকের ধারণা তারা পৃথিবী ভ্রমণ করেছে।
পেন্টাগন শুক্রবার জানিয়েছে যে, তারা ইউএপি ফাইলের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে কাজ করছে, যা দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।
দ্বিতীয় কিস্তিতে নাসার নতুন কিছু রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নভোচারীদের দেখা রহস্যময় বস্তু এবং উজ্জ্বল আলোর বর্ণনা রয়েছে। এগুলো অনেকটা প্রথম কিস্তিতে অ্যাপোলো ১১-এর সদস্য বাজ অলড্রিনের বর্ণিত ঘটনার মতোই।
একটি ক্লিপে, ১৯৬২ সালের অক্টোবরে ছয়বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা মার্কারি-অ্যাটলাস ৮-এর একমাত্র নভোচারী ওয়ালি শিরা মিশন কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি 'ছোট সাদা বস্তু দেখেছেন যা মনে হয় ক্যাপসুল থেকেই বের হয়ে দূরে সরে যাচ্ছে'। তিনি জানালার কাছে আলোর ঝলকানির কথাও বলেছিলেন যার উৎস তিনি শনাক্ত করতে পারেননি, তবে তিনি লক্ষ্য করেন যে ঠিক যখন সূর্য দিগন্তের নিচে চলে যাচ্ছিল তখনই এটি ঘটেছিল।
জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী নিল ডিগ্র্যাস টাইসন তার ইউটিউব চ্যানেল স্টারটকে বলেন, ইউএপি-র ব্যাখ্যা হিসেবে ভিনগ্রহের প্রাণীরা 'আমার তালিকার বেশ নিচের দিকে রয়েছে'। তিনি বলেন, 'বিজ্ঞানের ইতিহাসে সঠিক ব্যাখ্যা হিসেবে কখনও জাদু বা ভিনগ্রহের প্রাণী ছিল না, কখনোই নয়'। তিনি আরও বলেন, 'আমি শুধু বসে অপেক্ষা করছি আপনারা কখন সেই ভিনগ্রহের প্রাণীকে বের করে আনবেন—এখন আমার সেটিই প্রয়োজন, আর তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে'।
