যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির মুখে ড্রোন মজুত করছে কিউবা, বানাচ্ছে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর তালিকা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত নৌ-অবরোধ এবং কিউবা 'দখল' করার হুমকির মুখে দেশটি রাশিয়া ও ইরান থেকে অন্তত ৩০০টি সামরিক ড্রোন মজুত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্পর্ক আরও খারাপ হলে কিউবা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কিউবা বর্তমানে আমেরিকার ওপর বড় কোনো হামলার তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি না নিলেও গত এক মাসে তাদের ড্রোন সংগ্রহের তৎপরতা অনেক বেড়েছে। চলমান যুদ্ধে ইরান কীভাবে ড্রোনের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে প্রতিহত করছে, তা থেকে শিক্ষা নিতে চাইছে হাভানা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তেহরানের সামরিক উপদেষ্টারা সম্প্রতি কিউবার রাজধানী হাভানা সফর করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কয়েক দশকের মধ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক সবথেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কিউবা 'দখল' করার বিষয়ে কথা বলছেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা কিউবার অর্থনীতিকে আরও শোচনীয় অবস্থায় ফেলেছে। কয়েক দশক ধরে মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটি এমনিতেই বিশ্ববাজারের বড় অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।
কিউবার তেলের প্রধান উৎস ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ওই একই মাসে ট্রাম্প কিউবা ইস্যুতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি সেই সব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন যারা কিউবায় তেল সরবরাহ করবে।
এই পদক্ষেপের ফলে কিউবার আরেক অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র মেক্সিকো থেকেও তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দ্বীপদেশটির অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার প্রভাবে দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গত বৃহস্পতিবার কিউবায় গিয়ে সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) একজন সিআইএ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র্যাটক্লিফ মূলত সেখানে গিয়েছিলেন 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত বার্তা পৌঁছে দিতে'। সেই বার্তায় বলা হয়েছে, 'কিউবা যদি তাদের ব্যবস্থায় মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।'
যুক্তরাষ্ট্র কিউবার নেতাদের ওপর চাপ বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে এবং এই আলোচনার মধ্যেই সেই তৎপরতা জোরালো করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে মিয়ামি-ভিত্তিক নির্বাসিত কিউবানদের সংগঠন 'ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ'-এর চারটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিশেষ সংকেত পাঠিয়েছেন। তিনি কিউবার একটি মানচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভানের সঙ্গে করমর্দন করে ছবি তুলেছিলেন। জেনারেল ডনোভান মূলত কিউবাসহ ওই অঞ্চলের সামরিক তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত।
নির্বাচনি প্রচারের সময় বিদেশি সামরিক সংঘাত থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবে তার প্রশাসন এখন সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবথেকে সম্প্রসারণবাদী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। এর মধ্যে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে শুরু করে ক্যারিবিয় অঞ্চলে মাদক পাচারের অভিযোগে বিতর্কিত বোমাবর্ষণ এবং ইরানের সাথে সংঘাত শুরু করার মতো ঘটনা রয়েছে।
