চুক্তি না হলে হামলার হুমকি ট্রাম্পের; ইরানকে চীনের সমর্থন
চুক্তি না হলে ইরানে আরও উচ্চ মাত্রায় হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরান যদি পূর্বনির্ধারিত সমঝোতা অনুযায়ী শর্তগুলো মেনে চলে, তবে দেশটিতে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (৬ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বার্তা দেন।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "ধরা যাক ইরান যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা দিতে বা মানতে রাজি হলো—যা কি না সম্ভবত একটি বড় অনুমান—তবে ইতিমধ্যে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা 'এপিক ফিউরি' অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। একই সঙ্গে অত্যন্ত কার্যকর এই নৌ-অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি ইরানসহ সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।"
তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "যদি তারা রাজি না হয়, তবে বোমা হামলা শুরু হবে। দুঃখজনকভাবে সেই হামলা আগে যা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চ পর্যায় ও তীব্রতা নিয়ে শুরু হবে।"
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
চীনের পক্ষ থেকে ইরানকে অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বেইজিংয়ে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, আব্বাস আরাগচির তিনটি প্রধান লক্ষ্য ছিল।
প্রথমত, যুদ্ধ নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং বেইজিংকে আশ্বস্ত করা যে, তেহরান প্রকৃতপক্ষে এই সংকটের একটি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ইরান একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধান চায় যা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি 'ন্যায্য ও সামগ্রিক চুক্তি' করতে আগ্রহী।
দ্বিতীয় লক্ষ্য—যা এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করা হচ্ছে—তা হলো বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার অংশীদারিত্বের শক্তি পুনর্নিশ্চিত করা। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের আগে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে বসবেন।
বিভিন্ন সূত্রমতে, ইরান বেইজিংয়ের কাছ থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে কোনো আলোচনায় চীন এমন কোনো ছাড় দেবে না যা ইরানের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া বেইজিং ভবিষ্যতেও ইরানকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে—এমন আশ্বাসও তেহরান চেয়েছিল এবং মনে হচ্ছে ইরান সেই আশ্বাস পেয়েছে।
সর্বশেষ লক্ষ্য হিসেবে উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। দুই দেশই পারস্য উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন 'শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো' তৈরির ধারণাকে সমর্থন করেছে, যার মধ্যস্থতা করবে চীন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
সমঝোতা স্মারকটি 'আমেরিকার ইচ্ছা তালিকার' মতো: ইরানি আইনপ্রণেতা
যুদ্ধ বন্ধে যে সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে বলা হয়েছে, সেটি আমেরিকার 'ইচ্ছা পূরণের একটি তালিকার মতো' বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাঈ।
তিনি বলেছেন, এটি ''বাস্তবতার চেয়ে আমেরিকার ইচ্ছা তালিকার চেয়েও বেশি কিছু''।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্মারকে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হওয়া এবং উভয় পক্ষের হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে।
এক্সে এক পোস্টে রেজাঈ বলেন, "মুখোমুখি আলোচনায় যা অর্জন করতে পারেনি, একটি ব্যর্থ যুদ্ধে আমেরিকানরা তা অর্জন করতে পারবে না।"
"যদি তারা পিছু না হটে এবং প্রয়োজনীয় ছাড় না দেয়, অথবা যদি তারা বা তাদের প্রতিনিধিরা কোনো ধরনের অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে আমরা একটি কঠোর এবং অনুশোচনামূলক জবাব দেব", বলেন তিনি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে এ বিষয়ে তেহরান তাদের মতামত জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আগের চেয়ে "অনেক বেশি মাত্রায় ও তীব্রতায়" ইরানের ওপর বোমা বর্ষণ শুরু করবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে: ইরান
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বলেছে, "আগ্রাসীদের হুমকি শেষ হওয়ায় এবং নতুন কিছু প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে (জাহাজগুলোর) চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।"
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে তারা। তবে বিবৃতিতে নতুন প্রক্রিয়াগুলো কী—তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
যুদ্ধ সমাপ্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান; প্রস্তুত হচ্ছে এক পাতার সমঝোতা স্মারক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইরানের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি আসেনি, তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ এখন সমঝোতার সবচাইতে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেবে; বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দিতে রাজি হবে। এছাড়া হরমোজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের ওপর উভয় পক্ষ যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তাও তুলে নেওয়া হবে।
সমঝোতা স্মারকের অনেক শর্তই একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে। ফলে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া অথবা একটি অমীমাংসিত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত এবং বিভিন্ন উপদলের মধ্যে ঐক্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রাথমিক এই চুক্তিটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করছেন। এর আগেও আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে মার্কিন কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালিতে সদ্য ঘোষিত সামরিক অভিযান থেকে প্রেসিডেন্টের সরে আসার সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করছেন। এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, অঞ্চলে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে এবং হরমোজ প্রণালি খুলে দেওয়া, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে ৩০ দিনের একটি বিস্তারিত আলোচনার সময়কাল শুরু হবে। এই আলোচনা ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে।
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধ 'অবৈধ': চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধকে 'অবৈধ' বলে অভিহিত করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বুধবার বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ওয়াং ই বলেন, উত্তেজনা প্রশমনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য।' তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি 'অত্যন্ত নাজুক' হিসেবে বর্ণনা করে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
চীনের 'দৃঢ় অবস্থানের' জন্য এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা জানানোর জন্য বেইজিংকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বেইজিংকে 'ইরানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু' হিসেবে অভিহিত করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই যুদ্ধকে আরাগচি 'আগ্রাসনের এক নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন' বলে বর্ণনা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে তাদের "বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে" এবং তারা কেবল একটি 'সুষ্ঠু ও ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি' মেনে নেবে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
হরমুজ খুলে দিতে ইরানকে চাপ দেবে চীন; বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বেইজিংয়ে ইরান ও চীনের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি প্রধান বিষয়: বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। এ বিষয়ে চীন শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সোচ্চার।
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কড়া সমালোচনা করে একে 'বিপজ্জনক' বলে অভিহিত করেছে বেইজিং। তবে একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ রাখার কারণে তেহরানের ওপরও ক্রমশ অসন্তোষ প্রকাশ করছে এবং চাপ সৃষ্টি করছে চীন।
আলোচনায় বেইজিং স্পষ্ট করতে চায় যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তারা তেহরানকে ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের সমর্থন দিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই নৌপথ বন্ধ রাখার দায়ে জাতিসংঘে ইরানের ওপর যেন নতুন কোনো অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা না আসে, সে ক্ষেত্রে চীনের জোরালো সমর্থন তেহরানের জন্য অপরিহার্য।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই সফর থেকে নিশ্চিত হতে চান যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের আসন্ন বৈঠকে বেইজিং ঠিক কী প্রস্তাব দেবে। ওয়াশিংটনকে বেইজিং এমন কোনো ছাড় দিতে পারে কি না যা তেহরানের জন্য অস্বস্তিকর হবে, তা নিয়ে ইরানের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে।
এর বিনিময়ে চীনের পক্ষ থেকেও ইরানের কাছে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। বেইজিং চায় ট্রাম্পের সঙ্গে সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ইরান যেন কোনো ধরনের নাটকীয় বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ায়। বেইজিংয়ের স্পষ্ট বার্তা—পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বেশ কিছু উপসাগরীয় মিত্র দেশ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই খসড়া প্রস্তাবে ইরানের প্রতি জাহাজগুলোতে হামলা চালানো, সাগরে মাইন স্থাপন এবং এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার এই প্রস্তাব তৈরিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। প্রস্তাবটিতে সমুদ্রের কোথায় কোথায় মাইন স্থাপন করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে সহায়তার জন্যও ইরানের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, 'ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রেখেছে।'
খসড়া প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে একটি 'মানবিক করিডোর' তৈরির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সমর্থন নিশ্চিত করতে এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা 'ভেটো' এড়াতে খসড়াটি পুনরায় সংশোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সংশোধিত এই প্রস্তাবে মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন মিলতে পারে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি': পাকিস্তান
ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের চলমান আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি' হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসহাক দার বলেন, 'সংঘাত অবসানে বর্তমানে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা আশাবাদী যে বেশ কয়েকটি দেশের সমর্থনে এই লড়াই বন্ধ করতে আমরা সফল হব। আমাদের লক্ষ্য হলো দুই পক্ষের জন্যই একটি লাভজনক (উইন-উইন) উপায়ে এই সংঘাতের অবসান ঘটানো।'
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান 'এপিক ফিউরি' সমাপ্তির ঘোষণা
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি' এখন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের 'কষ্ট সহ্য করার উচ্চ ক্ষমতা রয়েছে', তবে সেই ক্ষমতা 'অসীম নয়'।
মার্কিন 'ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট'-এর কঠোর সমালোচনা করে রুবিও একে 'শতভাগ অসাংবিধানিক' বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি যোগ করেন, 'তা সত্ত্বেও, কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা এর কিছু ধারা বা উপাদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি এবং তা মেনে চলেছি।'
রুবিও জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাতিসংঘের একটি খসড়া প্রস্তাবে পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য ভেটো এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চীন তেহরানকে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলবে যে—হরমুজ প্রণালিতে তাদের বর্তমান আচরণ ও কর্মকাণ্ড দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
'কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না': যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানি প্রেসিডেন্টের
যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়ার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, 'কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না।' তিনি আরও যোগ করেন যে, শিয়া মতাবলম্বীদের 'জোর করে বাধ্য করা যাবে না।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই আলাপকালে তিনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক হুমকি সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির জন্য তাদের নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অস্ত্র ও রসদ পৌঁছাতে বাধা দেওয়া। আলোচনার ক্ষেত্রে বর্তমানে এটি একটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার যে অভিযান—যার নাম দেওয়া হয়েছে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম', সেটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে 'বড় অগ্রগতি', হরমুজে জাহাজ পাহারা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে 'বড় ধরনের অগ্রগতির' প্রেক্ষাপটে তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে পাহারা দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৫ মে) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে বের করে আনতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি যে, ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে বহাল থাকবে। তবে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' অল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হবে, যাতে দেখা যায় যে চুক্তিটি চূড়ান্ত করে সই করা সম্ভব কি না।"
তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৩০ ডলার কমে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
