ট্রাম্পের সফরের এক সপ্তাহ আগেই বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে আগামী সপ্তাহে দেশটিতে সফরে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঠিক এক সপ্তাহ আগে বুধবার বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এর মাধ্যমে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তাই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া আরাগচির এই সফরের খবর জানিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই তার প্রথম চীন সফর।
উল্লেখ্য, এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে শীর্ষস্থানে থাকা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২৫ সালেও ইরান তাদের মোট রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীনে বিক্রি করত।
ইরান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির (আইএসএনএ) খবর অনুযায়ী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠককালে আরাগচি বলেন, চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।'
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার বিষয়ে আরাগচি বলেন, 'আলোচনায় আমাদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব... আমরা কেবল একটি ন্যায্য চুক্তিই মেনে নেব।'
এদিকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চীনের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ায়।
বেসেন্ট জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হবে। সেখানে তারা ইরান ইস্যু নিয়ে নিজেদের মতামত বিনিময় করবেন।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার 'আন্তর্জাতিক উদ্যোগে' যোগ দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান বেসেন্ট। তবে বেইজিংকে ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
বেসেন্ট আরও বলেন, চীন ও রাশিয়ার উচিত জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো আটকে না দেওয়া। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রস্তাবও রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা করে। দুই পক্ষই এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ আরোপ করেছে, যা তাদের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মার্কিন নৌবাহিনী ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সাহায্য করবে। কিন্তু মঙ্গলবার ট্রাম্প যখন জানান যে ইরানের সঙ্গে একটি সমন্বিত চুক্তির দিকে 'দারুণ অগ্রগতি' হয়েছে, তখন ওই অভিযান স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সকে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছে চীন। যুদ্ধের কারণে একবার স্থগিত হয়ে যাওয়া ট্রাম্প-শি বৈঠকটি যেন এবার নির্বিঘ্নে হতে পারে, সে জন্যই এই কৌশল নিয়েছে বেইজিং।
চীন বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে এবং হরমুজ প্রণালিতে দেওয়া বিধিনিষেধ তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছে। গত মাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরানকে আনতে সাহায্য করায় বেইজিংয়ের প্রশংসাও করেছিলেন ট্রাম্প।
