জার্মানি থেকে সেনা কমানোর বিষয় ‘পর্যালোচনা’ করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
জার্মানিতে মোতায়েন করা হাজার হাজার মার্কিন সেনা কমিয়ে ফেলার বিষয়টি 'পর্যালোচনা' করছে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মন্তব্য করার কয়েক দিনের মাথায় এমন পদক্ষেপের কথা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি জার্মানি থেকে সেনা কমানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং আগামী অল্প সময়ের মধ্যেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। গত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৩৬ হাজারেরও বেশি সক্রিয় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
গত সোমবার চ্যান্সেলর মের্ৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, 'আমেরিকানদের স্পষ্টত কোনো সুনির্দিষ্ট রণকৌশল নেই।'
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানিরা আলোচনায় না বসার ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। তারা মার্কিনিদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত আসার সুযোগ দেয় এবং কোনো ফলাফল ছাড়াই তাদের খালি হাতে ফেরত পাঠায়। মের্ৎসের মতে, ইরানি নেতৃত্বের কাছে পুরো মার্কিন জাতি 'লজ্জিত' হচ্ছে।
পরদিন ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, মের্ৎস সম্ভবত মনে করেন 'ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক আছে' এবং তিনি 'নিজে কী বলছেন তা তিনি নিজেই জানেন না'।
ট্রাম্প জার্মানির অর্থনীতির সমালোচনা করে আরও লেখেন, 'এ কারণেই জার্মানি অর্থনৈতিক ও অন্যান্য দিক থেকে এত খারাপ করছে!'
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মের্ৎস বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের মতোই ভালো আছে।' তবে জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত দুই মাস ধরে ট্রাম্প বারবার ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর আগে এপ্রিলের শুরুর দিকে পেন্টাগনের একটি ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ ইমেইল থেকে জানা গিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে যেসব মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। এমনকি স্পেনের ন্যাটো সদস্যপদ স্থগিত করার মতো প্রস্তাবও সেখানে ছিল।
তবে ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, জোটের মূল নীতিমালায় কোনো দেশের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার কোনো বিধান নেই।
