হারুকি মুরাকামির নতুন উপন্যাস আসছে জুলাইয়ে, এই প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে নারী
তিন বছর পর প্রকাশিত হচ্ছে জাপানি কথাসাহিত্যিক হারুকি মুরাকামির নতুন পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। এই প্রথম মুরাকামির কোনো উপন্যাসের কেন্দ্রে থাকছেন এক নারী চরিত্র। এক বিচিত্র জগৎ থেকে তার বেরিয়ে আসার লড়াই ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে নতুন এই বই।
আগামী ৩ জুলাই 'দ্য টেল অভ কাহো' উপন্যাসটির ছাপা ও ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কাহো নামক ২৬ বছর বয়সি এক তরুণী। পেশায় তিনি সচিত্র শিশুতোষ গ্রন্থের লেখিকা।
মুরাকামির শেষ উপন্যাস 'দ্য সিটি অ্যান্ড ইটস আনসার্টেইন ওয়ালস' প্রকাশিত হয়েছিল তিন বছর আগে। সেই কাহিনি আবর্তিত হয়েছিল এক পুরুষ চরিত্রকে কেন্দ্র করে, যেখানে প্রেম, একাকিত্ব এবং বাস্তব ও অবচেতনের দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রকাশনা সংস্থা শিনচোশা পাবলিশিং কোম্পানি জানিয়েছে, মুরাকামির কোনো পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসে কাহোই প্রথম নারী, যিনি এককভাবে মুখ্য চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।
শুরুতে উপন্যাসটি ছোটগল্প হিসেবে লেখা হয়েছিল, নাম ছিল 'কাহো'। দু-বছর আগে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টোকিয়োর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পাঠচক্রে গল্পটি পড়ে শুনিয়েছিলেন মুরাকামি।
সেই অনুষ্ঠানে মুরাকামির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী সাহিত্যিক ও মুরাকামির ভক্ত মেকো কাওয়াকামি। ২০২৪ সালের জুনে 'শিনচো' পত্রিকায় গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসের মূল চরিত্র কাহো এক অতি সাধারণ তরুণী। মেধা বা রূপ—কোনোটিই তথাকথিত অসাধারণ নয়। তবে তার কৌতূহল প্রবল। একদিন এক ব্যক্তির সঙ্গে নৈশভোজ চলাকালীন তিনি একটি অপ্রত্যাশিত মন্তব্য শোনেন। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, 'তোমার মতো কুৎসিত কাউকেও আমি আগে কখনও দেখিনি।' মেজাজ না হারিয়ে বা ক্ষুব্ধ না হয়ে কাহো বরং বোঝার চেষ্টা করেন এই মন্তব্যের আড়ালে থাকা গূঢ় অর্থ।
এর পরেই কাহোর দৈনন্দিন জীবনে একের পর এক অতিপ্রাকৃত ও অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করে।
প্রকাশনীর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি টিজারে বলা হয়েছে, 'আমাকে এই জগৎ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজে বের করতেই হবে।' প্রকাশকদের দাবি, এই বইটিতে চিরাচরিত 'মুরাকামির দুনিয়া স্বমহিমায় হাজির রয়েছে।'
এর আগে 'শিনচো' পত্রিকায় এই সিরিজের আরও তিনটি গল্প প্রকাশিত হয়েছিল—'দি অ্যান্টইটার অভ মুসাশি-সাকাই', 'কাহো অ্যান্ড দ্য টারমাইট কুইন' ও 'কাহো অ্যান্ড দ্য মোটরসাইকেল ম্যান, অ্যান্ড স্কারলেট জোহানসন'।
সিরিজের প্রথম গল্পের ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন ফিলিপ গ্যাব্রিয়েল, যা ২০২৪ সালে 'দ্য নিউ ইয়র্কার' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রকাশক সংস্থা জানিয়েছে, মোট চারটি অংশকে পরিমার্জিত করে ও নতুন প্রাণ দিয়ে ৩৫২ পাতার এই পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের রূপ দিয়েছেন মুরাকামি।
