ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়বে: ট্রাম্প
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ইসরায়েলি ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত দুটি কারণে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চাইছে। প্রথমত, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দূর করা।
গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়েও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই দুটি আলোচনা কাগজে-কলমে আলাদা হলেও, ইরান দাবি করেছে যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিরই লঙ্ঘন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে কোনোভাবেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অন্তর্ভুক্ত নয়।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইসরায়েলি ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এটি ছিল এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা।
তবে বৈঠক শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে স্থান পরিবর্তন করে হোয়াইট হাউসে নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে যোগ দেবেন।
বৈঠকে ট্রাম্প ও রুবিও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, 'বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে। হিজবুল্লাহর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হবে।'
পরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, খুব শীঘ্রই হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠক করার অপেক্ষায় আছেন তিনি। বর্ধিত তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই এ বৈঠক হতে পারে।
তবে লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রিপক্ষীয় এ ধরনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ইসরায়েল এখনো লেবাননের ৬ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে আছে এবং যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, লেবাননে ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করে যে আইন রয়েছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত কি না। ট্রাম্পকে এ সময় বেশ বিস্মিত দেখায় এবং তিনি বলেন, 'আমাদের এই আইন বাতিল করতে হবে।'
এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও কক্ষে থাকা অন্যান্য কর্মকর্তাকে ওই আইন বাতিলের জন্য কাজ করতে বলেন। তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এমন কিছু করা চরম চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে, ট্রাম্প যখন ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করছিলেন, তার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই সীমান্তঘেঁষা ইসরায়েলি গ্রামগুলোতে বেশ কয়েকটি রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ। এরপর রকেট লঞ্চারগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে আক্রান্ত হলে ইসরায়েলকে অবশ্যই আত্মরক্ষা করতে হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আত্মরক্ষার কাজটা 'খুব সতর্কতার সঙ্গে' এবং 'নির্ভুলভাবে' (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) করতে হবে।
