আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি: হতাশায় ভুগছে অধিকাংশ ইজরায়েলি, প্রশাসনের ওপর কমছে আস্থা—জরিপ
জেরুজালেম হিব্রু ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন না যে ইরান বা হিজবুল্লাহ উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে, কিংবা তারা মনে করেন না যে এখন পর্যন্ত 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন' কোনো বড় সাফল্য বয়ে এনেছে।
গবেষক দলটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, 'এই ফলাফলগুলো প্রধানত জনগণের মধ্যে বিদ্যমান হতাশা এবং নৈরাশ্যবাদেরই প্রতিফলন। এর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে দেখা গেছে চরম ক্লান্তি এবং তাদের মধ্যে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই সংঘাত শেষ হতে এখনো অনেক দেরি।'
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ড. নিমরোদ নির এবং ড. গায়িল তালশির হিব্রু ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে মোট এক হাজার ৩১২ জন ইসরায়েলিকে (এক হাজার ৮৪ জন ইহুদি, ২২৮ জন আরব) জরিপ করেছেন। লিঙ্গ, বয়স, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ২৫তম নেসেট নির্বাচনের ভোটিং প্যাটার্নের ভিত্তিতে এই নমুনাটি ইসরায়েলি জনসংখ্যার সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে।
ইহুদি উত্তরদাতারা ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জাতিগত উৎসের দিক থেকেও ইহুদি জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল। উত্তরদাতাদের বেশিরভাগই যুদ্ধের শুরুতে করা একটি জরিপেও অংশ নিয়েছিলেন, যা গবেষকদের সময়ের সাথে মানুষের মতামতের পরিবর্তন পরীক্ষা করতে সাহায্য করেছে।
জরিপে দেখা গেছে যে, ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন এই যুদ্ধবিরতি আসলে ইরানের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতিস্বীকার বা ছাড়। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই এর বিরোধিতা করেছেন।
পাশাপাশি, অধিকাংশ উত্তরদাতা (৮০ শতাংশ) মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো টেকসই চুক্তি হওয়া অসম্ভব। প্রায় সমপরিমাণ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের কোনো চুক্তি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।
প্রশাসনের তথ্যের ওপর আস্থাহীনতা বাড়ছে
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'নেতৃত্বের কাছ থেকে জনসাধারণ যে তথ্য পাচ্ছে তার ওপর ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।'
৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মনে করেন, জনসাধারণ যুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ এবং নির্ভরযোগ্য চিত্র পাচ্ছে না। এক-চতুর্থাংশেরও কম মানুষ মনে করেন যে ইরানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগবে, আর হিব্রু হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রেও একই কথা বিশ্বাস করেন এক-পঞ্চমাংশের কম মানুষ।
অর্ধেকেরও কম (৪৪ শতাংশ) মানুষ বিশ্বাস করেন না যে ইরান পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। গবেষকদের মতে, জনমত এখন আশাবাদ থেকে সম্পূর্ণ নৈরাশ্যে রূপ নিয়েছে।
৬০ শতাংশেরও বেশি উত্তরদাতা বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ ছিল। অন্যদিকে, যুদ্ধের ফলাফল আগে থেকে জানলে এই অভিযানে সমর্থন দিতেন কি না—এমন প্রশ্নে সমর্থন জানাতেন বলে জানিয়েছেন ৪০ শতাংশেরও কম মানুষ।
উত্তরদাতাদের ৫৮ শতাংশ চরম ক্লান্তির কথা জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন যে যুদ্ধ তাদের দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
