সাবেক আইআরজিসি প্রধান চান যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল অভিযান’ শুরু করুক, কিন্তু কেন?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো—যা ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে—বর্তমানে ইরানের 'আঘাত হানার সীমানার' মধ্যে রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখন সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের নিশানায় রয়েছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'পুলিশের মতো' পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তেহরান তাদের সব জাহাজ ডুবিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, গত মাসে খামেনি তাকে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে রেজাই বলেন, 'ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির পুলিশ হতে চান। এটি কি সত্যিই আপনার কাজ? যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কাজ কি এটি?'
ইরানের এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসি-র নেতৃত্বে ছিলেন।
সামরিক ইউনিফর্ম পরে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো সম্ভবত আমাদের ভাইয়েরা (সেনারা) ইতোমধ্যে সরিয়ে নিয়েছে এবং সেগুলো এখন আব্রাহাম লিংকন ও অন্যান্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে তাক করা রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রর আঘাতেই আপনাদের এই জাহাজগুলো ডুবে যাবে এবং এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপদ সৃষ্টি করেছে। এগুলো নিশ্চিতভাবেই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে এবং আমরা এগুলো সব ধ্বংস করতে পারি। আমরা একটিও পালিয়ে যেতে দেব না।'
ইরান দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অবরোধ আরোপ করেছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও এই সংঘাত এক চরম উত্তেজনার মধ্যে থমকে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ
রেভোলিউশনারি গার্ডস-এর ভেতরেও কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো স্থল অভিযান চালায় তবে তা হবে 'চমৎকার' একটি বিষয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, 'সেক্ষেত্রে আমরা হাজার হাজার (মার্কিন সেনাকে) জিম্মি করব এবং প্রত্যেক জিম্মির বিনিময়ে এক বিলিয়ন ডলার করে আদায় করব।'
যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে
রেজাই দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে 'যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর মোটেও পক্ষে নন', তবে তিনি এও বলেন, বিষয়টি 'সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল'।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানি কর্মকর্তাদের আগের তুলনায় আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। রেজাই দাবি করেন, পরবর্তী দফার আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানই শর্ত নির্ধারণ করছে, যুক্তরাষ্ট্র নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের মতো আমরা টানা যুদ্ধকে ভয় পাই না, বরং আমরা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে আমাদের ভালো ধারণা রয়েছে।'
