৩৪ বছর পর আজ সরাসরি সংলাপে বসছে ইসরায়েল ও লেবানন: ট্রাম্প
৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার আজ বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা সংলাপে বসবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) এ কথা জানান তিনি।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দুই দেশের দূতে ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসেন। লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, 'ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।'
তিনি আরও বলেন, 'দুই নেতার মধ্যে কথা হয়নি অনেক দিন, প্রায় ৩৪ বছর। আগামীকাল তা হবে। দারুণ!'
তবে আলোচনায় কারা অংশ নেবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ট্রাম্প।
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে লেবানন।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পাশাপাশি ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবাননে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিন করা হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই আক্রমণ চালিয়েছে।
এর পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও ১২ লাখের বেশি মানুষ।
একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালিয়ে আরও অনেক এলাকা দখল এবং তথাকথিত 'বাফার জোন' তৈরির চেষ্টা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি দক্ষিণ লেবাননে অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং উত্তর সীমান্তে 'স্থিতিশীল শান্তি' প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
যদিও লেবানন সরকার এ সংঘাতের পক্ষ নয়, তারা যুদ্ধবিরতি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চায়।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ম্যালকম ওয়েব জানান, শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকা দখলের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেছিল।
তিনি বলেন, 'কিন্তু ইসরায়েল তা করতে পারেনি। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তারা হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। এরপর তারা ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বাফার জোনের কথা বলছে। সাম্প্রতিক দিনে সীমান্তসংলগ্ন শহর ও গ্রামগুলোতেই বেশি লড়াই হয়েছে।'
ওয়েব আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েলের হামলা, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং বিমান হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তারা কবে, বা আদৌ বাড়ি ফিরতে পারবে কি না।
এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের সেই কয়েক লাখ মানুষ, যাদের শহর ও গ্রাম এখন ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে।
ওয়েব বলেন, 'সীমান্তবর্তী অনেক গ্রামে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। আবার দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে এবং বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।'
