শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতেই হরমুজ প্রণালি থেকে ফিরে গেল দুটি বড় তেলের জাহাজ
রোববার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল দুটি খালি সুপারট্যাংকার। কিন্তু আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতেই শেষ মুহূর্তে মুখ ঘুরিয়ে ফিরে যায় জাহাজ দুটি।
জাহাজের চলাচল ট্র্যাক করা ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে ওমান উপসাগর থেকে ওই সংকীর্ণ নৌপথের দিকে এগোতে শুরু করে অপরিশোধিত তেল বহনকারী তিনটি বিশাল জাহাজ। ইরানের সঙ্গে ওই জাহাজগুলোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
রোববার সকালে জাহাজ তিনটি ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু ওই চেকপয়েন্ট থেকেই ফিরে আসে ইরাকগামী 'অ্যাজিওস ফানৌরিওস ১' ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী 'শালামার'। শালামার-এর গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস দ্বীপ।
তৃতীয় জাহাজ 'মোম্বাসা বি' অবশ্য সামনের দিকেই এগিয়ে যায়। সেটি লারাক ও কেশম দ্বীপের মাঝখান দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। ওই রুটটি ইরানের অনুমোদিত। তবে জাহাজটির নির্দিষ্ট গন্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়।
দুটি জাহাজের মাঝপথ থেকে ফিরে আসা এবং তৃতীয়টির সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরনোর প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। কারণ, হরমুজ পেরনোর জন্য ইরাক ও পাকিস্তান—দুই দেশের কাছেই আগে থেকে ইরানের ছাড়পত্র ছিল।
তবে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের বৈঠক নিষ্ফলা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার ঠিক পরেই জাহাজ দুটি নিজেদের পথ পরিবর্তন করে।
জ্বালানির জোগান অক্ষুণ্ণ রাখতে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। কিন্তু ছ-সপ্তাহ আগে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই এই নৌপথ কার্যত বন্ধ। ফলে বিশ্বে তেল সরবরাহে নজিরবিহীন প্রভাব পড়েছে। শান্তি আলোচনায় এই নৌপথ পুনরায় চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেলেও তা নিয়ে এখনও মতানৈক্য রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক জাহাজ এই প্রণালি পেরনোর চেষ্টা করেও মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, ওই এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ঝুঁকির মাত্রা ঠিক কতটা বেশি।
মূলত পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্যই বেশির ভাগ জাহাজ চেষ্টা চালাচ্ছিল। তবে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার জন্য উপসাগরের ভেতরে খালি ট্যাংকার ঢোকাও সমান জরুরি।
গত মাসের শেষের দিকে চীনের দুটি কনটেইনার জাহাজ শেষ মুহূর্তে মুখ ঘোরালেও পরে সফলভাবেই হরমুজ অতিক্রম করে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি জাহাজ মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোরই দাপট। রোববার তিনটি জাহাজই সফলভাবে প্রণালি পেরোতে পারলে এই জলপথে বাণিজ্যিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হত। শনিবারই অপরিশোধিত তেলভর্তি চীনের দুটি সুপারট্যাংকার এবং গ্রিসের একটি জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে উপসাগর থেকে বের হয়েছে।
'অ্যাজিওস ফানৌরিওস ১' জাহাজটির পরিচালন দায়িত্বে রয়েছে গ্রিসের সংস্থা ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান মেরিটাইম। অন্যদিকে 'শালামার'-এর মালিকানা রয়েছে পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের হাতে। কর্মঘণ্টার পর ইমেইল করায় দুই সংস্থার পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া মেলেনি।
তৃতীয় জাহাজটির সম্প্রতি 'ফ্রন্ট ফোর্থ' থেকে নাম বদল করে রাখা হয় 'মোম্বাসা বি'। বর্তমানে এর মালিকানা রয়েছে 'হাউট ব্রায়ান ৮ এসএ-র হাতে। ওই প্রতিষ্ঠান ও দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকর মেরিটাইম কোং-এর ঠিকানা একই। কর্মঘণ্টার পর যোগাযোগ করায় সিনোকর-এর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
