তিন ফ্রন্ট থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল আবিবের কাছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রকম্পিত হয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তিন দফায় এই হামলা চালানো হয়। এতে জেরুজালেম, তেল আবিব ও এর আশপাশের এলাকা এবং মৃত সাগর (ডেড সি) অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরিচালিত রেডিও জানিয়েছে, ইরানি হামলার পর তেল আবিবের আশপাশে 'ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ' পড়তে দেখা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'ইয়েদিওথ আহরোনোথ' জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এতে সেখানকার ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল বর্তমানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের স্থান এবং সংখ্যাসহ ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ বা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী (আনসারুল্লাহ) জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে আঞ্চলিক এই সংঘাতে যোগ দেওয়ার পর তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চতুর্থ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের বাহিনী "অধিকৃত জাফা (তেল আবিব) অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।" তিনি আরও জানান, এই অভিযানটি "ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ ভাইদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে।"
অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বসতি, সামরিক বাহিনী, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে দুই সেনাসহ অন্তত ছয়জন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন।
