বিশ্বস্ত মিত্র অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং বিশ্বস্ত মিত্র অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে বরখাস্ত করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বন্ডির প্রশংসা করে জানিয়েছেন, তিনি এখন বেসরকারি খাতে (প্রাইভেট সেক্টর) 'নতুন দায়িত্ব' গ্রহণ করবেন।
বিচার বিভাগে প্যাম বন্ডির মেয়াদকালে সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ এবং এ নিয়ে চলা তদন্তের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।
গত মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান ক্রিস্টি নোমকে সরিয়ে দেওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্যাম বন্ডি হলেন ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যাকে বরখাস্ত করা হলো। বন্ডির স্থলাভিষিক্ত হবেন তার সাবেক ডেপুটি টড ব্ল্যাঞ্চ।
প্যাম বন্ডি জানিয়েছেন, তিনি টড ব্ল্যাঞ্চের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য নিরলসভাবে কাজ করবেন। এই পদে দায়িত্ব পালন করাকে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, নতুন কর্মস্থলে যোগ দিলেও তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে তার নতুন কর্মস্থলের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মাত্র দুই মাস আগে কংগ্রেসে এক উত্তপ্ত শুনানির মুখোমুখি হয়েছিলেন প্যাম বন্ডি। আইনপ্রণেতাদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে এক পর্যায়ে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একজন ডেমোক্র্যাট সদস্যকে 'ব্যর্থ মানুষ' বলে কটাক্ষ করেন।
এমনকি গত বৃহস্পতিবার সকালেও বন্ডির পক্ষ নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'তিনি একজন চমৎকার মানুষ এবং খুব ভালো কাজ করছেন।' কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ তার বিদায়ের খবর নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বন্ডির নতুন ভূমিকার বিষয়ে খুব শীঘ্রই ঘোষণা দেওয়া হবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে বন্ডির কাজের প্রশংসা করে লিখেছেন, 'দেশজুড়ে অপরাধ দমনে বিশাল এক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন।'
তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্র সামলানোর বিষয়টি নিয়ে বন্ডির ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসন্তোষ ক্রমে বাড়ছিল।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন বন্ডি এই পদে শপথ নেন, তখন তিনি এপস্টিন মামলায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার এবং ২০১৯ সালে মৃত এই বিতর্কিত অর্থদাতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি 'মক্কেল তালিকা' প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের কোনো তালিকার অস্তিত্ব নেই।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সমর্থক ও কংগ্রেসের প্রবল চাপের মুখে এবং বিচার বিভাগকে নথিপত্র প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দিয়ে কংগ্রেস একটি আইন পাস করার পর এপস্টিন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করা হয়।
তবে এই নথিগুলো প্রকাশের পর বন্ডি ও তার বিভাগ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়ে। তাদের অভিযোগ ছিল, বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিচয় আড়াল করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ যারা ভুক্তভোগী নয়, এমন ব্যক্তিদের পরিচয় ঠিকই আড়াল করে রাখা হয়েছে।
বন্ডি এপস্টিনকে একজন 'দানব' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং তার নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। সম্প্রতি এপস্টিন মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একটি সংসদীয় কমিটি বন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তলব করে। চলতি মাসেই কমিটির সামনে তার হাজির হওয়ার কথা ছিল।
বন্ডির নেতৃত্বে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং এফবিআই-এর সাবেক পরিচালক জেমস কোমি।
গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোরভাবে তদন্ত করার জন্য বন্ডিকে চাপ দিয়েছিলেন। সরাসরি বন্ডিকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমরা আর দেরি করতে পারি না, এটি আমাদের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করছে।'
এ ছাড়া, তার মেয়াদে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত নিয়েও বিচার বিভাগ সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত জানুয়ারিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
