ইরান যুদ্ধে জড়িত মার্কিন বিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করল স্পেন
ইরানের ওপর হামলায় জড়িত মার্কিন বিমানগুলোর জন্য নিজেদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবেলস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'ইরান যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত কোনো কাজের জন্য আমরা মোরন এবং রোতা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেব না।' স্পেন এই বিষয়টি শুরু থেকেই মার্কিন সরকারকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, এই সংঘাত বা যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র লক্ষ্যগুলো সাফল্যের সাথে পূরণ করছে এবং এক্ষেত্রে তাদের স্পেন বা অন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করার কারণে স্পেনের ওপর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি এই অভিযানকে 'বেপরোয়া' এবং 'বেআইনি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্চের শুরুর দিকে সানচেজ জানিয়েছিলেন, আন্দালুসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত যৌথভাবে পরিচালিত রোতা এবং মোরন সামরিক ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
গত বুধবার তিনি আরও ঘোষণা করেন, 'ইরান অভিযানের সাথে জড়িত সকল বিমানের ফ্লাইট পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এমনকি জ্বালানি সরবরাহকারী বা রিফুয়েলিং বিমানগুলোকেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।'
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ স্পষ্ট করে বলেন, 'স্পেন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আমরা কোনো বেআইনি যুদ্ধে অংশ নিতে চাই না।'
যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' ঘাঁটিতে অবস্থান করা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো বর্তমানে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। গত ১ মার্চ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই বিমানগুলোকে সেখানে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে স্পেনের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় এই বিমানগুলোকে এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে।
ফেয়ারফোর্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া বিমানগুলোকে এখন আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (স্পেন ও পর্তুগাল এলাকা) এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। এজন্য তাদের হয় আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব অংশ দিয়ে অথবা ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এই বিমানগুলো শুধু জরুরি পরিস্থিতিতেই স্পেনের আকাশপথ ব্যবহার করার বা সেখানকার ঘাঁটিতে অবতরণ করার সুযোগ পাবে।
গত ৪ মার্চ টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইউক্রেন, গাজা এবং দুই দশক আগের ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার সরকারের বর্তমান নীতিকে এক কথায় বলা যায়— 'যুদ্ধকে না বলা'।
এদিকে স্পেনের এই অবস্থানের প্রশংসা করেছে তেহরান। মার্চ মাসের শেষের দিকে স্পেনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানায়, স্পেন যেহেতু আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধ, তাই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে মাদ্রিদের যেকোনো অনুরোধ বা আবেদন বিবেচনা করতে তেহরান নমনীয় থাকবে।
