যুদ্ধ কেবল ট্রাম্পই থামাতে পারেন, তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানো নিয়ে সতর্ক করলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ইরান যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একমাত্র তিনিই এটি করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, না হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের উপরে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা অতিরঞ্জিত নয়।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) কায়রোতে অনুষ্ঠিত 'ইজিপ্ট এনার্জি শো-২০২৬' শীর্ষক সম্মেলনে সিসি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলছি—আপনি ছাড়া আর কেউ উপসাগরীয় অঞ্চলে এই যুদ্ধ থামাতে পারবে না। দয়া করে, মি. প্রেসিডেন্ট, আমাদের সাহায্য করুন যুদ্ধ বন্ধ করতে। আপনি এটা করতে পারেন।"
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পাওয়া এবং ধনী উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট মিসর ইরানের উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিসি সম্মেলনে বলেন, এই যুদ্ধ (জ্বালানি) সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির দ্বৈত ধাক্কা সৃষ্টি করবে, যার পূর্ণ প্রভাব এখনো অনুভূত হয়নি।
তিনি বলেন, "উৎপাদন কেন্দ্র বা শোধনাগার—জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানির দামে গুরুতর প্রভাব ফেলবে বলে আমি আশঙ্কা করছি।" তিনি আরও বলেন, বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, "তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের বেশি হতে পারে—এটি কোনো অতিরঞ্জন নয়।"
সিসি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ নিয়েও আসন্ন সংকটের সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, সার রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব খাদ্যের দামেও ব্যাপকভাবে পড়বে।
তিনি বলেন, "ধনী দেশগুলো হয়তো এটি সামাল দিতে পারবে, কিন্তু মধ্যম আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলোর স্থিতিশীলতায় এটি অত্যন্ত গুরুতর প্রভাব ফেলবে।"
১৯৭৯ সালের ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তির মাধ্যমে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। চুক্তির আওতায়, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের দখল করা সিনাই উপদ্বীপ ফেরত পায় মিসর। তবে এই সম্পর্ককে প্রায়ই 'শীতল শান্তি' হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মিসরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে—এ আশঙ্কা কায়রোর দীর্ঘদিনের।
সিসি গাজা যুদ্ধে অবসান ঘটানোর জন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতির আগে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি ওই সংঘাত থামাতে পারতেন। মিসরের পর্যটন নগরী শার্ম আল-শেখে গত নভেম্বরে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
@ইরানের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: জিসিসি মহাসচিব
এর আগে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলার নিন্দা করেন।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী হুমকি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, "জ্বালানি স্থাপনার বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া শুধু আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।"
ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জিসিসিভুক্ত দেশগুলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইন— ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যেখান দিয়ে আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল রপ্তানি করা হতো। তাই এ যুদ্ধ জিসিসি সদস্যদের রাজস্ব আয়ের ওপরও বড় ধরনের আঘাত হিসেবে এসেছে।
