গাড়ির ব্যবসায় ‘ধুঁকছে’, এবার জার্মানির কারখানায় ইসরায়েলের আয়রন ডোম তৈরি করবে ফোক্সভাগেন
ইসরায়েলের মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা আয়রন ডোম-এর যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারে ফোক্সভাগেন। এজন্য তারা একটি চুক্তি সই নিয়ে কাজ করছে। জার্মানির একটি কারখানায় এই উৎপাদন শুরু করার বিষয়ে ফোক্সভাবেন চিন্তাভাবনা করছে।
গাড়ি ব্যবসায় এখন কিছুটা ধুঁকছে ফোক্সভাগেন। এই প্রেক্ষাপটে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস-এর সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা সেরেছে জার্মান এই গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা।
জার্মানির ওসনাব্রুকে ফোক্সভাগেনের একটি কারখানা রয়েছে। সেটিকেই সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহার করতে চাইছে তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে আয়রন ডোম-এর লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম, পাওয়ার ইউনিট ও মিসাইল ব্যাটারি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যান তৈরি হতে পারে।
চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে জার্মানির গাড়ি শিল্প। পাশাপাশি বড় বাজারগুলোতেও গাড়ির চাহিদা কমেছে। ফোক্সভাগেনের এই পদক্ষেপ আদতে জার্মানির গাড়ি শিল্পের সেই সংকটের দিকটিই তুলে ধরছে।
অন্য দিকে এই উদ্যোগ থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—বার্লিন এখন সামরিক খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে। সরকারের সেই সদিচ্ছার ওপর ভর করে জার্মানির বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র ক্রমশ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।
ওসনাব্রুকের ওই কারখানায় খুব বেশি নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই সেখানে উৎপাদন শুরু হয়ে যেতে পারে।
ফোক্সভাগেনের এই পদক্ষেপের একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যও রয়েছে। নাৎসি আমলে প্রতিষ্ঠিত ফোক্সভাগেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের ব্যবহারের গাড়ি তৈরি থামিয়ে পুরোদস্তুর সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু করেছিল।
গত কয়েক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে জার্মানি। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের অ্যারো থ্রি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনার জন্য ৩.১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুমোদন করে বার্লিন। তার দু-বছর আগে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের আরও একটি চুক্তি হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই দুটি চুক্তিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে বৃহত্তম অস্ত্র-বিক্রি হিসেবে ধরা হয়।
ইসরায়েল বিদেশ থেকে যে পরিমাণ অস্ত্র কেনে, তার প্রায় ৩০ শতাংশই সরবরাহ করে জার্মানি। এই তালিকায় আমেরিকা রয়েছে প্রথম স্থানে (প্রায় ৬০ শতাংশ)। আমেরিকার পরেই জার্মানির অবস্থান।
তবে ফোক্সভাগেন ও ইসরায়েলি সংস্থার এই আলোচনা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন গাজায় হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল সমালোচনার মুখে ইসরায়েল। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার মামলা দায়ের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে গণহত্যার স্পষ্ট আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে যেসব দেশ এখনও ইসরায়েলকে সামরিক দিক দিয়ে সাহায্য করে চলেছে, তাদের সামনে আইনি ও রাজনৈতিক স্তরে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
