ভবিষ্যৎ হরমুজ মিশন নিয়ে ৩৫ দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে ফ্রান্স
ফ্রান্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে একটি মিশনের জন্য অংশীদার ও প্রস্তাব খুঁজতে বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক প্রধান প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা জানিয়েছে, তারা চলমান এই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না। তবে পর্দার আড়ালের এই তৎপরতা থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও ইরান বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই নৌপথের জন্য হুমকি হয়ে থাকতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে জাহাজে হামলা চালানোর পর সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে এতে সব মহাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফ্যাবিয়েন ম্যান্ডন এই আলোচনার নেতৃত্ব দেন।
সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ
সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশগুলো এই সংকটকে কীভাবে দেখছে এবং একটি সম্ভাব্য মিশনের রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে প্রাথমিক মতামত ও ফিডব্যাক নেওয়া ছিল এই আলোচনার উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান থেকে স্বতন্ত্র এই উদ্যোগটি প্রকৃতিগতভাবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।'
সেখানে আরও বলা হয়েছে, 'এর উদ্দেশ্য হলো শত্রুতা বা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়টি সংগঠিত করা।'
এদিকে, ফরাসি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিকোলা ভোজ্যুর জানিয়েছেন, তিনি ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, ভারত ও জাপানসহ ১২টি দেশের নৌবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
তিনি বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, 'আমরা নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করছি, কারণ সমুদ্র আমাদের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনি।'
পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন
বেশ কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে আলোচনা সমন্বয় করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, প্রণালিতে যেকোনো পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘের কাঠামো থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ তখনই সম্ভব হবে, যখন সংঘাত কমবে, বীমা ও শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে এবং ইরানের সম্মতি পাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে ফ্রান্স ইতোমধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীসহ স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দুটি হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ ও আটটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছেন।
ব্রিটেনও জানিয়েছে, তারা মিত্রদের সঙ্গে মিলে প্রণালি পুনরায় চালু করার একটি 'কার্যকর' পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা না কমলে এই কাজটি অত্যন্ত কঠিন হবে।
একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও অপসারণে জোর দেওয়া হতে পারে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ওই এলাকায় চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাইন অপসারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এককভাবে এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
