‘পিট হেগসেথ একজন নৈরাজ্যবাদী, ধ্বংস ও মৃত্যুর প্রচারকারী’
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা সদস্যদের নির্বাচন করা হয়েছে সহিংসতাকে সমর্থনের পরও নয়, বরং সেই কারণেই। ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মূলত পরিচিত ছিলেন এক টিভি শো উপস্থাপক হিসেবে, মন্ত্রিত্ব লাভের পর এখন দেখা যাচ্ছে তিনি যুদ্ধাপরাধের পক্ষেও সাফাই গাইতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের আরেক মন্ত্রী, মার্ক ওয়েইন মুলিন এখনো 'গর্বিতবোধ' করেন সিনেট শুনানি চলাকালে এক সাক্ষীকে মুষ্টিযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য; এমনকি সিনেটর র্যান্ড পলের ওপর হামলাকেও 'অনুধাবনযোগ্য' বলে সমর্থন দেন, এবং পরে সেজন্য ক্ষমা চাইতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বর্তমান হোয়াইট হাউসের প্রচারণা যন্ত্র যেভাবে ইরান যুদ্ধ এবং ক্যারিবিয় সাগরে ছোট ছোট নৌযান ধ্বংসের অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে প্রকাশ্যে হত্যাকে মহিমান্বিত করছে—এমন দৃশ্য এর আগে কোনো মার্কিন প্রশাসনে দেখা যায়নি।
বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিবাদের মতো এখানে আত্মত্যাগকে উৎসাহ বা প্রতীকী পুরস্কার দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা নেই—এটি যেন দূর থেকে ভিডিও গেমের মতো হত্যা, যা কৌশলগত লক্ষ্য দিয়ে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ ("রোষ" ও প্রতিশোধস্পৃহা) দিয়ে বৈধতা পায়। এর সঙ্গে প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিও থাকে যে যুদ্ধের মৌলিক আইন লঙ্ঘন করা হবে। বাস্তব সৈনিকরা—যাদের দীর্ঘদিনের সম্মানবোধের নীতি রয়েছে—হেগসেথ টিভিতে যে কল্পজগৎ তৈরি করছেন তার বিপরীতে, শত্রু পরাস্ত হওয়ার পর তাকে আঘাত করতে চাইতেন না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই তার আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষা এবং অনুসারীদের সহিংসতায় উসকে দেওয়ার প্রবণতা লুকাননি—সমাবেশে মানুষকে আক্রমণ করার আহ্বান থেকে শুরু করে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের সহিংস বিদ্রোহীদের ক্ষমা করা পর্যন্ত— যা যা করা যায়, সবই তিনি করেছেন।
তার প্রথম মেয়াদে তথাকথিত "প্রাপ্তবয়স্কদের অক্ষ" তার সবচেয়ে খারাপ প্রবণতাগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল; কিন্তু ভেনেজুয়েলা "অভিযান" এবং ছোট নৌকায় থাকা মানুষদের দায়মুক্তভাবে হত্যা করা সম্ভব—এই উপলব্ধির পর, হেগসেথ, এমনকি সম্ভবত মার্কো রুবিও এই ধারণায় মত্ত হয়ে উঠেছেন যে, বিশেষ সামরিক অভিযান দ্রুত ও কম খরচে (মার্কিন প্রাণহানির দিক থেকে) সম্পন্ন করা যায়। একইসঙ্গে টেলিভিশনে সম্প্রচারের জন্য সেটা দারুণ দৃশ্যও তৈরি করে। এই যে দৃশ্যমানতা ও প্রপসের প্রতি ট্রাম্পের আসক্তি—যেমন টিভিতে কাগজের স্তূপ দেখিয়ে কোনো কিছু প্রমাণ করা—এখন তার প্রশাসনজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প নিজেই যেন একটি বৈশ্বিক "শিরশ্ছেদ অভিযান"কে এমনভাবে দেখেন, যেন তা দ্য এপ্রেনটিস-এর একটি সংস্করণ—যেখানে বাস্তব গুলিবর্ষণ রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তিনি অন্য দেশের নেতাদের হত্যা বা অপহরণের অধিকার রাখেন, এমনকি তাদের উত্তরসূরিও নির্ধারণ করতে পারেন।
ঐতিহাসিকভাবে, এমন একটি মতাদর্শকে পাওয়া যায়, যেখানে সহিংসতার মহিমান্বিতকরণকে তাদের প্রচারণার কেন্দ্রে স্থাপন করেছিল। "মৃত্যু দীর্ঘজীবী হোক"—এটি ছিল একটি ফ্যাসিবাদী স্লোগান; বেনিতো মুসোলিনির আন্দোলন শুরু হয়েছিল প্রথম মহাযুদ্ধ ফেরত সৈনিকদের দিয়ে, যাদের "ট্রেঞ্চোক্রেসি" নামে—অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে কঠোর হয়ে ওঠা মানুষের অভিজাত শ্রেণি—হিসেবে উদযাপন করা হতো।
যুদ্ধে নিহতদের জন্য বিশাল অস্থিকোষ—যেখানে কখনো কখনো এক লাখ পর্যন্ত সৈনিকের হাড় রাখা হতো—ভবিষ্যৎ আত্মত্যাগকে উৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে জার্মানির নাৎসিরা নিজ দেশের তরুণদের উৎসাহিত করতে "আমরা জার্মানির জন্য মরতে জন্মেছি" –এমন সব স্লোগান তুলে ধরেছিল।
বর্তমানে মনে হচ্ছে, হেগসেথ ও তার সহযোগীরাও এক ধরনের নৈরাজ্যবাদী মৃত্যুপূজার সংস্কৃতি গড়ে তুলছেন। তবে এটি হাজার মাইল দূরে বসে বোতাম চাপ দিয়ে হত্যা করার উদযাপন; অন্যদিকে, আমেরিকার নিজেদের নিহতদেরও অসম্মান করা হচ্ছে—কারণ ট্রাম্প তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ঘটনাকেও তার 'মাগা' আন্দোলনের পণ্য প্রদর্শন ও অর্থ সংগ্রহের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
একই সঙ্গে, তার প্রভুর পূর্ণ আধিপত্য ও ধ্বংসের আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বস্ত থেকে, হেগসেথ সরাসরি টেলিভিশনে ভবিষ্যৎ যুদ্ধাপরাধের ঘোষণা দেন ("কোনো দয়া নয়") এবং অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতাকে উৎসাহ দেন: "তারা যখন পড়ে গেছে, তখনও আমরা আঘাত করছি।" "মারণক্ষমতা" নিয়ে অশ্লীল মনোযোগ এই পরিবর্তনেরই অংশ—যেখানে যুদ্ধকে দেখা হচ্ছে সর্বোচ্চ ধ্বংস ও যন্ত্রণা সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে, কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের বদলে। এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতেও ট্রাম্পের প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধের বাস্তবতা ক্রমশ আড়ালে চলে যাচ্ছে, কারণ সম্প্রচারমাধ্যম ভরে গেছে বিনোদনমূলক দৃশ্য ও ফাঁপা কথাবার্তায়। অতিরঞ্জিত ভাষা ও শব্দখেলায় অভ্যস্ত হেগসেথ একঘেয়ে কথাবার্তা বলেন, নয়তো এমন এক খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদ থেকে উদ্ধৃতি দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থী—কারণ রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। নাগরিকদের দেশপ্রেম প্রমাণের শর্ত হিসেবে, হাঁটু গেড়ে যিশুর নামে সৈন্যদের জন্য প্রার্থনা করার দাবি তোলা যায় না।
এখানে দুজন মানুষকে সরাসরি তুলনা করা উদ্দেশ্য নয়, কিন্তু মনে পড়ে হান্না আরেন্ডট কীভাবে তার বহুল আলোচিত আইখমানের বিচার নিয়ে লেখা বইয়ে তাকে নাৎসি আমলাতন্ত্রের একজন হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, তিনি একজন এমন ব্যক্তি, যিনি চিন্তাশক্তিহীন, এবং কেবল ফাঁপা বাক্যের ধারাবাহিকতা তৈরি করেন।
এসব কি একটি অবৈধ যুদ্ধকে বৈধতা দিতে ভূমিকা রাখবে? হেগসেথ পেন্টাগনের ভেতরেও এক ধরনের কল্পজগৎ তৈরি করেছেন; সমালোচনামূলক প্রশ্নসহ সংবাদ সম্মেলনের বদলে সেখানে দেখা যায় তথাকথিত "যুদ্ধমন্ত্রীর" এর সঙ্গে ধর্মীয় প্রচারকারী ইপোক টাইমস ও লিন্ডেল টিভির প্রতিনিধিদের নমনীয় কথোপকথন।
এই বাস্তব-বিচ্ছিন্নতার অতিরিক্ত স্তর থাকার পরও, হেগসেথ অভিযোগ করেন যে ইরানে মার্কিন হামলার বিষয়ে গণমাধ্যম যথেষ্ট ইতিবাচক নয়। অনেক 'মাগা' পুরুষের মতো, যারা অনলাইনে অপরিণত প্রদর্শনীতে মেতে থাকে, তার ভঙ্গুর অহংকার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে অক্ষম—বিশেষ করে যখন সেই বাস্তবতা এত বেপরোয়াভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
লেখক: ইয়ান-ভের্নার মুলার, দ্য গার্ডিয়ানের একজন মার্কিন কলামিস্ট
