ইসরায়েলের আরাদে ইরানের মিসাইল হামলায় আহত শতাধিক, আশঙ্কাজনক ১১ জন
শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানের মিসাইল হামলায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছে। চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকাতে ব্যর্থ হয় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর পরেই ওই শহর দুটিতে আছড়ে পড়ে ইরানের মিসাইল।
এই হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অভ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল যামির বলেছেন, ইসরায়েলের শত্রুদের বিরুদ্ধে 'সব কটি রণাঙ্গনে (ফ্রন্ট)' একযোগে লড়াই চলবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম বলেছে, ইসরায়েলের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। কেন্দ্রটি দিমোনা থেকে ১০ কিলোমিটার ও আরাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শনিবার দিনের শুরুতে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে ইসরায়েল ও আমেরিকার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই আক্রমণ করা হয়।
শিমন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার নামক ওই কেন্দ্রটি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির মূল ঘাঁটি বলে মনে করা হয়। তবে সরকারি নীতির অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল এই কর্মসূচির অস্তিত্বের কথা কখনও স্বীকার বা অস্বীকার, কোনোটাই করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গেছে, আকাশ থেকে প্রবল বেগে ছুটে এসে আছড়ে পড়ছে ব্যালিস্টিক মিসাইল। সেনা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই মিসাইলে কয়েকশো কেজি বিস্ফোরকসহ প্রথাগত ইরানি 'ওয়ারহেড' মজুত ছিল।
ইসরায়েলের আপৎকালীন সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, আহতরা মূলত স্প্লিন্টারের আঘাতে বা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছোটার সময় জখম হন।
শহরের একটি আবাসনে আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে ওই অ্যাম্বুল্যান্স সেবা সংস্থা।
এমডিএর প্যারামেডিক কারমেল কোহেন এক বিবৃতিতে বলেন, 'ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি রীতিমতো বিশৃঙ্খল।'
বিরশেবা শহরের সোরোকা মেডিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, হামলায় আহত সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শক্তিশালী ওয়ারহেড-যুক্ত ওই মিসাইলের আঘাতে এলাকার বাড়িঘর ও অন্যান্য ভবনের বিপুল ক্ষতি হয়েছে।
কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রায় একই রকম ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয় নিকটবর্তী আরাদ শহর। সেখানে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল আছড়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এমডিএ জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলেই ৭১ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাদের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বাকিদের মধ্যে ১৩ জনের চোট মাঝারি ও ৪৮ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবী জরুরি সেবা সংস্থা ইউনাইটেড হাতজালাহ-র ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ভিডিয়োয় আরাদ শহরের ধ্বংসচিত্র ধরা পড়েছে।
কয়েকশো কেজি বিস্ফোরকসহ প্রথাগত ওয়ারহেড-যুক্ত ওই মিসাইলটি কয়েকটি আবাসনের মাঝখানে আছড়ে পড়ে। এর জেরে বহু মানুষ আহত হয়েছে, পাশাপাশি বিস্তর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক মিসাইল দুটি মাঝপথে আটকাতে কেন ব্যর্থ হল বিমানবাহিনী, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই দুটি মিসাইলকেই চিহ্নিত করে ঠেকানোর করেছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি।
