ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী নিহত; পারস্য উপসাগরে সৌদি, কাতার ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনা খালি করার নির্দেশ আইআরজিসি’র
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (১৮ মার্চ) ১৯তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
লারিজানিকে হত্যার জন্য 'অপরাধী খুনিদের' অবশ্যই মূল্য দিতে হবে: মোজতবা খামেনি
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, 'অপরাধী খুনিদের' অবশ্যই মূল্য দিতে হবে।
এক বিৃবতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, তিনি 'খুব দুঃখের' সঙ্গে লারিজানির মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি লারিজানিকে বুদ্ধিমান, দায়িত্বশীল এবং ইরানের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, এমন একজন মানুষকে হত্যা করা এটাই প্রমাণ করে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন এবং ইসলামবিরোধীরা তাকে কতটা ঘৃণা করত।
তিনি বলেন, 'এই রক্ত ইসলামী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আর প্রতিটি রক্তের ফোঁটার মূল্য আছে—হত্যাকারী অপরাধীদের খুব শিগগিরই এর মূল্য দিতে হবে।'
গোয়েন্দামন্ত্রী নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বললেন 'কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড'
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাজুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেছেন, দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইসরায়েল দাবি করেছিল, রাতে চালানো এক হামলায় খতিবকে হত্যা করা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, 'আমার প্রিয় সহকর্মী ইসমাইল খতিব, আলি লারিজানি এবং আজিজ নাসিরজাদেহের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডে আমরা শোকাহত।'
এর আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন': কাতার
ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলি হামলা 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে মন্তব্য করেছে কাতার।
কাতার ও ইরান উভয়ই বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে, যার ইরানি অংশটি 'সাউথ পার্স' নামে পরিচিত।
ইরান জানিয়েছে, 'সাউথ পার্স'-এর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা 'বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি'।
তিনি বলেন, 'আমরা বারবার জোর দিয়ে বলেছি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।'
পাশাপাশি তিনি সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উত্তেজনা কমানোর জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
পারস্য উপসাগরে জ্বালানি স্থাপনা দ্রুত খালি করার নির্দেশ আইআরজিসি'র
ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা ও এর আশেপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানায়, আইআরজিসি টেলিগ্রামে এসব স্থাপনার আশেপাশের নাগরিকদের জন্য একটি 'জরুরি সতর্কতা' জারি করে পোস্ট দিয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নলিখিত স্থাপনার আশেপাশের এলাকায় থাকা নাগরিক ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে:
• সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি
• সৌদি আরবের আল-জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও মাসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি
• সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-হোসন গ্যাস ক্ষেত্র
• কাতারের রাস লাফফান রিফাইনারি
ঘোষণায় বলা হয়েছে, 'এই কেন্দ্রগুলো হামলার সুস্পষ্ট ও বৈধ লক্ষ্যবস্তু এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এগুলোতে আক্রমণ করা হতে পারে। তাই সব নাগরিক, বাসিন্দা ও কর্মচারীদের অবিলম্বে এই এলাকা থেকে সরে নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
বুধবার দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার কিছু অংশে হামলা হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে সাউথ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র এবং আসালুয়ে অঞ্চলের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোর নাম বলা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আসালুয়ের একাধিক তেল রিফাইনারি থেকে 'প্রচণ্ড বিস্ফোরণ' শোনা গেছে।
তারা জানিয়েছে, রিফাইনারির বিভিন্ন ধাপের কিছু স্টোরেজ ট্যাংক ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
ফার্স আরও জানিয়েছে, কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার দল আগুন নেভাতে কাজ করছে।
যদি এ তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে এই যুদ্ধে ইরানের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থাপনার ওপর প্রথম হামলা।
এদিকে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ইরানের অংশে থাকা সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে বুধবার হামলা হয়েছে এবং সেখানে আগুন লেগেছে। গ্যাসক্ষেত্রটি কাতারের নর্থ ফিল্ডের একটি বর্ধিত অংশ বলে জানান তিনি।
আল-আনসারি বলেন, এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা একটি 'বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ'।
তিনি সবাইকে সংযম দেখাতে, আন্তর্জাতিক আইন মানতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কাজ করতে আহ্বান জানান।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, 'জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি এই অঞ্চলের জনগণ এবং পরিবেশের জন্যও একটি বড় হুমকি।'
ইরানে সরকার পরিবর্তনের পর হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব নিতে হবে মার্কিন মিত্রদের: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সরকারকে ধ্বংস করার পর হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব নেবে মার্কিন মিত্ররা।
তিনি বলেন, 'এতে আমাদের কিছু অপ্রতিক্রিয়াশীল মিত্র দ্রুত কাজ করতে বাধ্য হবে!'
এরআগে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
কারণ ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকার পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর দাবি করেছিলেন। তবে তারা ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
'আগে কখনো ব্যবহার হয়নি, এমন অস্ত্র' ব্যবহার করছে ইরান, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আক্রামিনিয়া বুধবার বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে, যা আগে ব্যবহার করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে আরও নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় বিস্ফোরণের শব্দ আগের চেয়ে বেশি জোরালো।
ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির জানাজা শুরু
ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির জানাজা শুরু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন তিনি। তার মৃত্যু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর থেকে দেশের সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের একজন ছিলেন।
গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন এবং খামেনির মৃত্যু পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
ইরানি টিভির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তেহরানের ইনকেলাব স্কোয়ার-এ বিশাল জনসমাগম হয়েছে। উপস্থিত জনতা ইরানের পতাকা এবং লারিজানি ও দেশের বাসিজ প্যারামিলিটারী বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি-র পোস্টার হাতে নিয়ে জানাজায় উপস্থিত হন।
যুদ্ধোত্তর ইরান 'আরেকটি উত্তর কোরিয়ায়' পরিণত হতে পারে: বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চলমান হত্যাকাণ্ডের ঢেউ দেশটিকে 'আরেকটি উত্তর কোরিয়ায়' পরিণত করতে পারে এবং নেতৃত্বে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ফাওয়াজ জেরজেস সিএনএনকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভবত '৪০ জনেরও বেশি ইরানের শীর্ষ নেতা হত্যা করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আলি লারিজানিকে হত্যা করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি বিশাল ক্ষমতার শূন্যস্থান তৈরি করেছে, যার ফলে তরুণ কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা যাচ্ছে।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনির হত্যার পর লারিজানি দেশের প্রকৃত নেতা হয়ে উঠেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের শুরু থেকে দেশটির সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের প্রধান নীতিনির্ধারক ছিলেন।
ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত, দাবি ইসরায়েলের
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, রাতে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় খতিব নিহত হন।
তবে এ বিষয়ে এখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার জন্য 'যুক্তরাষ্ট্র দায়ী': ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন শহরে ইরানের হামলায় 'আমাদের দোষ নেই', এর জন্য 'যুক্তরাষ্ট্র দায়ী'। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে ওই শহরগুলোর বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গেছে।
বুধবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমরা শুধু শত্রুদের সরকারি ঘাঁটিগুলোতেই হামলা চালায়নি; বরং যেখানে যেখানে মার্কিন বাহিনী জড়ো হয়েছিল এবং তাদের স্থাপনা ছিল, সেগুলোই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।'
ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯২ জন আহত
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৯২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর (মাঝারি), তবে বেশিরভাগেরই আঘাত সামান্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলে মোট ৩,৭২৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার জরুরি বৈঠক
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য একটি 'বিশেষ অধিবেশন' আয়োজন করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা এই সংস্থাটি দুই দিনব্যাপী এই আলোচনায় বেশ কিছু প্রস্তাব বা রেজোলিউশন নিয়ে আলোচনা করবে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোসহ বেশ কিছু রাষ্ট্র আইএমও-র ৪০ সদস্যের কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চালানো 'ভয়াবহ হামলা' এবং তেহরান কর্তৃক 'হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার' চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
অন্যদিকে, জাপান, পানামা, সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চায় আইএমও এমন একটি বিশেষ কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করুক, যার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়।
এই আলোচনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও একটি লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়া হয়েছে। ইরান আইএমও-র সদস্য হলেও এর কাউন্সিলের সদস্য নয়। দেশটি তাদের বক্তব্যে দাবি করেছে, বর্তমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল দায়ী। তাদের মতে, জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তা এসব 'বেআইনি কর্মকাণ্ডেরই' একটি অনিবার্য ফল এবং একে মূল কারণ থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানে রিয়াদে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে
রিয়াদ: মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা ও যোগাযোগ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এই সংকটের ইতি টানার লক্ষে খুব শীঘ্রই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলো মনে করছে, তারাই একমাত্র পক্ষ যারা শুরু থেকেই এই সংঘাতের বিরোধিতা করে আসছে এবং এখন এটি বন্ধের জন্য জোরালো আওয়াজ তুলছে। ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াদ বৈঠককে কেন্দ্র করে আগামী সপ্তাহগুলোতে এই রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও বর্তমানে ইরান তার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তারা এই যুদ্ধে বিপরীত অবস্থানে রয়েছে, তবুও একটি বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত। আর তা হলো—এই যুদ্ধ প্রকৃতিগতভাবেই সম্প্রসারণশীল। অর্থাৎ যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, এর পরিধি ও ভয়াবহতা তত বাড়বে।
এই পরিস্থিতির জন্য মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলকেই দায়ী করছে আরব দেশগুলো। তাদের মতে, এটি ইসরায়েল ও আমেরিকার তৈরি করা একটি সাজানো যুদ্ধ। আরব বিশ্বের সাধারণ মানুষের ভাষায়, 'ইসরায়েল বন্দুক লোড করেছে আর আমেরিকা ট্রিগার টেনেছে'। এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা এখন অঞ্চলের প্রতিটি আরব শহরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দুবাইসহ বিভিন্ন আরব শহরে বসবাসরত সাধারণ নাগরিক ও নেতাদের অভিমত হলো, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটিই প্রমাণ করছে যে আরব দেশগুলোর স্বার্থ ও নিরাপত্তা তাদের কাছে নগণ্য। মূলত নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরবদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা
হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে শক্তিশালী বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই বোমাগুলো মাটির গভীরে থাকা বাঙ্কার বা সুরক্ষিত আস্তানা ধ্বংস করতে সক্ষম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ইরানি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে বেশ কয়েকটি ৫,০০০ পাউন্ড ওজনের 'ডিপ পেনিট্রেটর' (মাটি ভেদ করে আরও গভীরে পারে) বোমা সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, ওই ঘাঁটিগুলোতে থাকা ইরানের জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই জলপথটি ইরান কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও বাড়ছে।
বিশাল আকৃতির এই বোমাগুলোকে বলা হয় 'বাঙ্কার বাস্টার'। এক একটি বোমার দাম প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ডলার। তবে গত বছর ইরানের তিনটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার সময় ব্যবহৃত ৩০,০০০ পাউন্ড (১৩,৬০০ কেজি) ওজনের বোমার তুলনায় এগুলো কম শক্তিশালী।
সাধারণ বোমার মতো এগুলো বাতাসে বা কোনো লক্ষ্যবস্তুর উপরিভাগে আঘাত করেই বিস্ফোরিত হয় না। শক্ত ইস্পাতে মোড়ানো এই বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো লক্ষ্যবস্তুর উপরিভাগ ভেদ করে মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করার পর বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
লারিজানিকে হত্যা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করবে না: আরাগচি
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী সচিব আলি লারিজানিকে ইসরায়েলি বাহিনীর হত্যা ইরানের নেতৃত্বের জন্য কোনো মরণোত্তর আঘাত হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার একক কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। বুধবার ভোরে তেহরানের পক্ষ থেকে লারিজানি হত্যার খবর নিশ্চিত করার পর এই সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
আরাগচি বলেন, 'আমি জানি না কেন আমেরিকান এবং ইসরায়েলিরা এখনো এই বিষয়টি বুঝতে পারেনি: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো রয়েছে যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এই কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে না। অবশ্যই ব্যক্তিবর্গ প্রভাবশালী এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেন—কেউ ভালো বা কেউ মন্দ। কিন্তু আসল বিষয় হলো ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত মজবুত কাঠামো।'
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলীয় সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে: আলবানিজ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরানের ছোঁড়া একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'আল মিনহাদ' ঘাঁটিতে এই আঘাতের ঘটনা ঘটে।
আলবানিজ বলেন, 'আমি নিশ্চিত করছি যে, কোনো অস্ট্রেলীয় সেনাসদস্য আহত হননি এবং সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন।'
তিনি আরও জানান, ঘাঁটির দিকে যাওয়ার রাস্তায় প্রজেক্টাইলটি আঘাত হানার ফলে ছোটোখাটো অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর ফলে একটি আবাসন ব্লক এবং একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
লারিজানি হত্যার 'চূড়ান্ত' প্রতিশোধ নেওয়া হবে: ইরানের সেনাপ্রধান
ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় 'চূড়ান্ত প্রতিশোধ' নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।
এক বিবৃতিতে হাতামি বলেন, 'উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে অপরাধী আমেরিকা এবং রক্তপিপাসু জায়নবাদী শাসকদের এক চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক ও অনুশোচনা জাগানিয়া জবাব দেওয়া হবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, লারিজানি এবং অন্যান্য 'শহীদদের' মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লারিজানি হত্যার 'প্রতিশোধ' হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যে মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আলি লারিজানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ইরানের উন্নতি এবং ইসলামী বিপ্লবের জন্য আজীবন সংগ্রামের পর তিনি অবশেষে তার দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণ করেছেন, সত্যের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং গৌরবের সাথে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শাহাদাতের বরকতময় মর্যাদা লাভ করেছেন।'
তার আগে একটি লক্ষ্যভেদী হামলার মাধ্যমে লারিজানিকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরায়েল।
এদিকে ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ খবর নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, সোলাইমানি আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রুদের হামলায় নিহত হয়েছেন।
সোলাইমানিকে একজন 'গৌরবময় সেনাপতি' বলে অভিহিত করে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবফ বলেছেন, তিনি "মানবতার সবচেয়ে জঘন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন"।
এর আগে পৃথক হামলায় সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২
তেল আবিবের আশেপাশে বেশ কয়েকটি স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ইসরায়েলের ম্যাজেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের একজন কর্মী বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, তারা একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন এবং সেখানে কাঁচ ভেঙে পড়ে থাকাসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা সেখানে দুইজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তাদের শরীরে কোনো হৃৎস্পন্দন ছিল না এবং তারা শ্বাস নিচ্ছিলেন না। তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।'
পরে চিকিৎসকরা তেল আবিবের পূর্বে রামাত গান এলাকায় এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তারা মূলত গোলার অংশের (স্প্লিন্টার) আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন।
এছাড়া বনেই ব্রাক এলাকায় হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে নতুন করে হামলা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত 'গ্রিন জোন' এলাকায় যেখানে দূতাবাসটি অবস্থিত, তার কাছাকাছি এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। এএফপি-র প্রতিনিধিরাও ওই এলাকায় বিস্ফোরণের জোরালো শব্দ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
অত্যন্ত সুরক্ষিত এই গ্রিন জোন এলাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় অবস্থিত। বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে কয়েক দফা হামলার শিকার হলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস।
সৌদি আরব ও কুয়েতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশটির পূর্ব দিকে ছয়টি ড্রোন শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির' জবাব দিচ্ছে। তারা জনসাধারণকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
কুয়েত আরও জানিয়েছে, 'যেকোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে' বুঝে নিতে হবে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলো প্রতিহত করার ফলেই এমন শব্দ হচ্ছে।
